০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

আজ নদীকৃত্য দিবস, দেশের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়ছে

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ১০:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০২৩
  • / ৮৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের নদ-নদীগুলোর প্রধান সম্পদ হচ্ছে উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ। নদ-নদীর পানির ওপর ভর করে দেশের কৃষি ও বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা চলে। কিন্তু সেই পানির পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ।

যেসব সময়ে দেশে পানি বেশি এলে বন্যা হয়, অর্থাৎ বর্ষাকালে পানি বেশি আসছে। আর যখন পানি দরকার অর্থাৎ শুস্ক মৌসুম, তখন পানি কম আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের এসব বিপদ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নদীরও অধিকার আছে’। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ও নদী রক্ষাবিষয়ক সংস্থা নানা কর্মসূচি পালন করছে।

যুক্তরাজ্যের ড্যান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক নন্দন মুখার্জি বাংলাদেশের গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, ওই তিন নদীর পানির প্রবাহ দ্রুত বাড়ছে। এর মধ্যে যমুনা অববাহিকায় বন্যার পরিমাণ এই শতাব্দীর মধ্যে ৯ গুণ, গঙ্গা বা পদ্মায় ৬ গুণ ও যমুনায় প্রায় ৩ গুণ বাড়বে। একই সঙ্গে বন্যা শুরুর সময়কাল এক থেকে দেড় মাস পিছিয়ে যাবে। আর পানি নামবে আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে।

বর্তমানে অনেক নদ-নদী সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। উৎসমুখসহ বিভিন্ন স্থানে এসব নদ-নদী ভরাট হয়ে গেছে। এতে ভাটির জনপদে নৌপথ বন্ধ, চাষবাসে সংকট, অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নদী হারাচ্ছে তার বৈশিষ্ট্য, অন্যদিকে দূষণের মাত্রাও বাড়ছে। বিশেষ করে পানিতে বর্জ্য মিশ্রণের ফলে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ভাটির জনপদের নদীগুলো। তীরবর্তী জনপদের জীবন-জীবিকা বদলে যাচ্ছে। বিলীন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। বিভিন্ন স্থানে গতিপথ পরিবর্তন, নাব্য হারিয়ে নদীভাঙন ব্যাপক হচ্ছে। এই নদীগুলো বাঁচানোর আকুতি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন পরিবেশবাদীরা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে ব্রাজিলে কুরিতিবা শহরে এক সমাবেশ থেকে নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দিতে এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে এক হয়েছিলেন বিভিন্ন দেশে বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। তাইওয়ান, ব্রাজিল, চিলি, আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধিরা ওই সম্মেলনে অংশ নেন। ওই সম্মেলন থেকেই ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ নদীকৃত্য দিবস, দেশের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়ছে

আপডেট সময় ১০:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০২৩

বাংলাদেশের নদ-নদীগুলোর প্রধান সম্পদ হচ্ছে উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ। নদ-নদীর পানির ওপর ভর করে দেশের কৃষি ও বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা চলে। কিন্তু সেই পানির পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ।

যেসব সময়ে দেশে পানি বেশি এলে বন্যা হয়, অর্থাৎ বর্ষাকালে পানি বেশি আসছে। আর যখন পানি দরকার অর্থাৎ শুস্ক মৌসুম, তখন পানি কম আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের এসব বিপদ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নদীরও অধিকার আছে’। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ও নদী রক্ষাবিষয়ক সংস্থা নানা কর্মসূচি পালন করছে।

যুক্তরাজ্যের ড্যান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক নন্দন মুখার্জি বাংলাদেশের গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, ওই তিন নদীর পানির প্রবাহ দ্রুত বাড়ছে। এর মধ্যে যমুনা অববাহিকায় বন্যার পরিমাণ এই শতাব্দীর মধ্যে ৯ গুণ, গঙ্গা বা পদ্মায় ৬ গুণ ও যমুনায় প্রায় ৩ গুণ বাড়বে। একই সঙ্গে বন্যা শুরুর সময়কাল এক থেকে দেড় মাস পিছিয়ে যাবে। আর পানি নামবে আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে।

বর্তমানে অনেক নদ-নদী সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। উৎসমুখসহ বিভিন্ন স্থানে এসব নদ-নদী ভরাট হয়ে গেছে। এতে ভাটির জনপদে নৌপথ বন্ধ, চাষবাসে সংকট, অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নদী হারাচ্ছে তার বৈশিষ্ট্য, অন্যদিকে দূষণের মাত্রাও বাড়ছে। বিশেষ করে পানিতে বর্জ্য মিশ্রণের ফলে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ভাটির জনপদের নদীগুলো। তীরবর্তী জনপদের জীবন-জীবিকা বদলে যাচ্ছে। বিলীন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। বিভিন্ন স্থানে গতিপথ পরিবর্তন, নাব্য হারিয়ে নদীভাঙন ব্যাপক হচ্ছে। এই নদীগুলো বাঁচানোর আকুতি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন পরিবেশবাদীরা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে ব্রাজিলে কুরিতিবা শহরে এক সমাবেশ থেকে নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দিতে এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে এক হয়েছিলেন বিভিন্ন দেশে বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। তাইওয়ান, ব্রাজিল, চিলি, আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধিরা ওই সম্মেলনে অংশ নেন। ওই সম্মেলন থেকেই ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।