০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

আরাভ খানকে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ নয়

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ১০:৫৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩
  • / ৮৫ বার পড়া হয়েছে

পুলিশ কর্মকর্তা মামুন হত্যা মামলার আসামি আরাভ খান ওরফে রবিউল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় পুলিশ। কিন্তু ভারতীয় পাসপোর্টে দুবাইয়ে অবস্থান করায় তাকে দেশে ফেরত আনা খুব একটা সহজ নয়। এমনকি ইন্টারপোলও তাকে বাংলাদেশে পাঠাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১৮ সালের ৯ জুলাই গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় উলুখোলা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ পরিদর্শক মামুনের হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই খুনের আসামি হয়ে দেশ ছেড়েছিলেন আরাভ খান ওরফে রবিউল ইসলাম। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে ভারত যান। কলকাতার একটি বস্তিতে কয়েকবছর বসবাস করার পর তিনি ‌‘আরাভ খান’ নামে ভুয়া ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করে দুবাই চলে যান। সম্প্রতি বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে দুবাইয়ে ‘আরাভ জুয়েলার্স’ নামে একটি স্বর্ণের দোকানের উদ্বোধন করেন তিনি।

ওই অনুষ্ঠানে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ বাংলাদেশের আরও বেশ কয়েকজন তারকা অংশ নেন। এরপর থেকেই আরাভ খানকে নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা শুরু হয়।জানা গেছে, জানা গেছে, আরাভ খানকে বাংলাদেশে ফেরাতে হলে তার ভারতীয় পাসপোর্ট বাতিল করতে হবে। অথবা যেকোনোভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি প্রকৃতভাবে বাংলাদেশের নাগরিক। জালিয়াতি করে তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করে দুবাইয়ে প্রবেশ করেছেন। ইতোমধ্যে আরাভের ভারতীয় পাসপোর্ট বাতিলে দেশটির হাইকমিশনে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ঢাকা।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, চাইলেও আরাভ খানকে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না। কোনো একটা দেশ থেকে কোনো অপরাধীকে ফিরিয়ে আনতে সেই দেশের সঙ্গে চুক্তি (বহিঃসমর্পণ চুক্তি) থাকতে হবে। দুবাইয়ের সঙ্গে সেরকম কিছু আমাদের নেই। এখন তাকে ফিরিয়ে আনা নির্ভর করছে সেই দেশের সদিচ্ছা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর।

তিনি বলেন, কোনো দেশের অপরাধী অন্য দেশে আশ্রয় নিলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া ইন্টারপোলের কাজ নয়। ইন্টারপোলের সহায়তা চাইলে তারা লোকেট করে দেয়। ফিরিয়ে দেওয়া তাদের কাজ নয়। এখন আরাভকে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশি রবিউলই যে আরাভ খান তা ভারতের পক্ষ থেকে দুবাইকে নিশ্চিত করতে হবে। ভারত যদি দুবাইকে জানায়, আরাভকে বাংলাদেশে পাঠালে তাদের কোনো অসুবিধা নেই। তাহলে তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব। তবে এটা করতেও অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশি রবিউল ইসলাম তথা ভারতীয় আরাভ খানকে ফিরিয়ে আনা খুব সহজ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ তার নাগরিকত্ব বিভ্রাট ও নামে বিভ্রাট রয়েছে। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আরাভকে ঢাকায় পাঠানোর সুযোগ খুবই কম। দিল্লি চাইলে দুবাই থেকে তাকে ভারতেও পাঠানো হতে পারে। ভুয়া পাসপোর্ট তৈরির অপরাধে সেখানে আবার তার বিরুদ্ধে বিচারিক বিষয়টা আগে আসবে।

তখন আবার ভারতের সহযোগিতা লাগবে আরাভকে ঢাকায় ফেরাতে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, দুবাইয়ের সঙ্গে আমাদের চুক্তি অনুযায়ী আরাভ যদি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি হতেন। তাহলে বিষয়টা সহজ হতো। কিন্তু তিনি তো বন্দি নন। সেজন্য জটিলতা রয়েছে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

আরাভ খানকে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ নয়

আপডেট সময় ১০:৫৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩

পুলিশ কর্মকর্তা মামুন হত্যা মামলার আসামি আরাভ খান ওরফে রবিউল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় পুলিশ। কিন্তু ভারতীয় পাসপোর্টে দুবাইয়ে অবস্থান করায় তাকে দেশে ফেরত আনা খুব একটা সহজ নয়। এমনকি ইন্টারপোলও তাকে বাংলাদেশে পাঠাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১৮ সালের ৯ জুলাই গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় উলুখোলা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ পরিদর্শক মামুনের হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই খুনের আসামি হয়ে দেশ ছেড়েছিলেন আরাভ খান ওরফে রবিউল ইসলাম। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে ভারত যান। কলকাতার একটি বস্তিতে কয়েকবছর বসবাস করার পর তিনি ‌‘আরাভ খান’ নামে ভুয়া ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করে দুবাই চলে যান। সম্প্রতি বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে দুবাইয়ে ‘আরাভ জুয়েলার্স’ নামে একটি স্বর্ণের দোকানের উদ্বোধন করেন তিনি।

ওই অনুষ্ঠানে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ বাংলাদেশের আরও বেশ কয়েকজন তারকা অংশ নেন। এরপর থেকেই আরাভ খানকে নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা শুরু হয়।জানা গেছে, জানা গেছে, আরাভ খানকে বাংলাদেশে ফেরাতে হলে তার ভারতীয় পাসপোর্ট বাতিল করতে হবে। অথবা যেকোনোভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি প্রকৃতভাবে বাংলাদেশের নাগরিক। জালিয়াতি করে তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করে দুবাইয়ে প্রবেশ করেছেন। ইতোমধ্যে আরাভের ভারতীয় পাসপোর্ট বাতিলে দেশটির হাইকমিশনে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ঢাকা।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, চাইলেও আরাভ খানকে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না। কোনো একটা দেশ থেকে কোনো অপরাধীকে ফিরিয়ে আনতে সেই দেশের সঙ্গে চুক্তি (বহিঃসমর্পণ চুক্তি) থাকতে হবে। দুবাইয়ের সঙ্গে সেরকম কিছু আমাদের নেই। এখন তাকে ফিরিয়ে আনা নির্ভর করছে সেই দেশের সদিচ্ছা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর।

তিনি বলেন, কোনো দেশের অপরাধী অন্য দেশে আশ্রয় নিলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া ইন্টারপোলের কাজ নয়। ইন্টারপোলের সহায়তা চাইলে তারা লোকেট করে দেয়। ফিরিয়ে দেওয়া তাদের কাজ নয়। এখন আরাভকে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশি রবিউলই যে আরাভ খান তা ভারতের পক্ষ থেকে দুবাইকে নিশ্চিত করতে হবে। ভারত যদি দুবাইকে জানায়, আরাভকে বাংলাদেশে পাঠালে তাদের কোনো অসুবিধা নেই। তাহলে তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব। তবে এটা করতেও অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশি রবিউল ইসলাম তথা ভারতীয় আরাভ খানকে ফিরিয়ে আনা খুব সহজ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ তার নাগরিকত্ব বিভ্রাট ও নামে বিভ্রাট রয়েছে। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আরাভকে ঢাকায় পাঠানোর সুযোগ খুবই কম। দিল্লি চাইলে দুবাই থেকে তাকে ভারতেও পাঠানো হতে পারে। ভুয়া পাসপোর্ট তৈরির অপরাধে সেখানে আবার তার বিরুদ্ধে বিচারিক বিষয়টা আগে আসবে।

তখন আবার ভারতের সহযোগিতা লাগবে আরাভকে ঢাকায় ফেরাতে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, দুবাইয়ের সঙ্গে আমাদের চুক্তি অনুযায়ী আরাভ যদি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি হতেন। তাহলে বিষয়টা সহজ হতো। কিন্তু তিনি তো বন্দি নন। সেজন্য জটিলতা রয়েছে।