০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আ.লীগকে দেশের মানুষ ‘না’ বলে দিয়েছে: মির্জা ফখরুল

মিজানুর রহমান খান
  • আপডেট সময় ১১:৩৫:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সব অনৈতিক কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে দেশের মানুষ ‘না’ বলে দিয়েছে। এখন এই অবৈধ সরকার নানা চক্রান্ত করছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গত দুদিন আগে বলেছেন, ‘দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নাকি আক্রমণ হতে পারে।’ আসলে সেই আক্রমণ করবে আওয়ামী লীগই। আক্রমণ করে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করবে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আর বুকে সাহস ও শক্তি নিয়ে রাস্তায় নেমে ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে সরকার আটক করে রেখে দিয়েছে। অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে। সব নেতাকর্মীকে মুক্তি দিতে হবে। সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

শনিবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমিছিল শেষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের পদত্যাগসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একদফা দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি দুই স্থান থেকে গণমিছিল বের করে। পরে প্রথমবারের মতো দুই গণমিছিল নয়াপল্টনে গিয়ে মিলিত হয় এবং সেখানে সমাবেশ করে। এ সময় তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, রোদ-বৃষ্টির মধ্যে লাখ লাখ মানুষের গণমিছিল প্রমাণ করে শেখ হাসিনার সরকারকে ‘না’ জানিয়ে দিয়েছে। এ দেশের মানুষ শেখ হাসিনার সরকার আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সব অনৈতিক কাজ করছে।

তিনি বলেন, সরকার জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারপরও জনগণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যে আওয়াজ তুলছে, সে আওয়াজকে বন্ধ করার ক্ষমতা এই সরকারের নেই। কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ, অর্থাৎ সব দল-মত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই ঐক্যবদ্ধ আন্দালনের মধ্যে দিয়েই তাদের পরাজিত করতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, রোদ-বৃষ্টির মধ্যে সবাই কষ্ট করছেন। সামনে আরও কষ্ট হবে। এই সরকারকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থেই একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। আমাদের স্পষ্ট দাবি-দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার তৈরি করে তার মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগনের সরকার গঠন করতে হবে। এ সময় তিনি ‘সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, এক হও’সহ বিভিন্ন স্লাগান দেন।

দুপুর ১টা থেকেই মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দুটি গণমিছিলে যোগ দেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বেলা ৩টায় শুরু হয় গণমিছিল। উত্তরের গণমিছিলটি রামপুরার বেটার লাইফ হাসপাতালের সামনে থেকে শুরু হয়। পরে তা আবুল হোটেল-মালিবাগ রেলগেট-মৌচাক-মালিবাগ মোড়-শান্তিনগর-কাকরাইল মোড়-নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। অন্যদিকে দক্ষিণের গণমিছিল কমলাপুর থেকে শুরু হয়ে পীরজঙ্গি মাজার-আরামবাগ-ফকিরাপুল মোড় হয়ে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। দুই গণমিছিল মিলিত হলে নয়াপল্টন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করে দলটি। কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দেন নেতারা। বিকাল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। নেতাকর্মীদের বৃষ্টিতে ভিজেই সমাবেশে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারাও বৃষ্টিতে ভিজেই বক্তব্য দেন। পরে বিকাল পৌনে ৬টার দিকে সমাবেশ শেষ হয়।

উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান, ছাত্রদলের রাশেদ ইকবাল খান প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আহমেদ আযম খান, বরকতউল্লা বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ডা. রফিকুল ইসলাম, রকিকুল ইসলাম বকুল, মীর সরাফত আলী সপু, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আজিজুল বারী হেলাল, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, কাদের গণি চৌধুরী, প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, মহানগরের ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, ছাত্রদলের সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

আ.লীগকে দেশের মানুষ ‘না’ বলে দিয়েছে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ১১:৩৫:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সব অনৈতিক কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে দেশের মানুষ ‘না’ বলে দিয়েছে। এখন এই অবৈধ সরকার নানা চক্রান্ত করছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গত দুদিন আগে বলেছেন, ‘দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নাকি আক্রমণ হতে পারে।’ আসলে সেই আক্রমণ করবে আওয়ামী লীগই। আক্রমণ করে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করবে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আর বুকে সাহস ও শক্তি নিয়ে রাস্তায় নেমে ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে সরকার আটক করে রেখে দিয়েছে। অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে। সব নেতাকর্মীকে মুক্তি দিতে হবে। সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

শনিবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমিছিল শেষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের পদত্যাগসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একদফা দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি দুই স্থান থেকে গণমিছিল বের করে। পরে প্রথমবারের মতো দুই গণমিছিল নয়াপল্টনে গিয়ে মিলিত হয় এবং সেখানে সমাবেশ করে। এ সময় তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, রোদ-বৃষ্টির মধ্যে লাখ লাখ মানুষের গণমিছিল প্রমাণ করে শেখ হাসিনার সরকারকে ‘না’ জানিয়ে দিয়েছে। এ দেশের মানুষ শেখ হাসিনার সরকার আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সব অনৈতিক কাজ করছে।

তিনি বলেন, সরকার জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারপরও জনগণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যে আওয়াজ তুলছে, সে আওয়াজকে বন্ধ করার ক্ষমতা এই সরকারের নেই। কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ, অর্থাৎ সব দল-মত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই ঐক্যবদ্ধ আন্দালনের মধ্যে দিয়েই তাদের পরাজিত করতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, রোদ-বৃষ্টির মধ্যে সবাই কষ্ট করছেন। সামনে আরও কষ্ট হবে। এই সরকারকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থেই একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। আমাদের স্পষ্ট দাবি-দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার তৈরি করে তার মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগনের সরকার গঠন করতে হবে। এ সময় তিনি ‘সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, এক হও’সহ বিভিন্ন স্লাগান দেন।

দুপুর ১টা থেকেই মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দুটি গণমিছিলে যোগ দেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বেলা ৩টায় শুরু হয় গণমিছিল। উত্তরের গণমিছিলটি রামপুরার বেটার লাইফ হাসপাতালের সামনে থেকে শুরু হয়। পরে তা আবুল হোটেল-মালিবাগ রেলগেট-মৌচাক-মালিবাগ মোড়-শান্তিনগর-কাকরাইল মোড়-নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। অন্যদিকে দক্ষিণের গণমিছিল কমলাপুর থেকে শুরু হয়ে পীরজঙ্গি মাজার-আরামবাগ-ফকিরাপুল মোড় হয়ে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। দুই গণমিছিল মিলিত হলে নয়াপল্টন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করে দলটি। কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দেন নেতারা। বিকাল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। নেতাকর্মীদের বৃষ্টিতে ভিজেই সমাবেশে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারাও বৃষ্টিতে ভিজেই বক্তব্য দেন। পরে বিকাল পৌনে ৬টার দিকে সমাবেশ শেষ হয়।

উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান, ছাত্রদলের রাশেদ ইকবাল খান প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আহমেদ আযম খান, বরকতউল্লা বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ডা. রফিকুল ইসলাম, রকিকুল ইসলাম বকুল, মীর সরাফত আলী সপু, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আজিজুল বারী হেলাল, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, কাদের গণি চৌধুরী, প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, মহানগরের ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, ছাত্রদলের সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।