০৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ইউনূসের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বিতর্কিতরা

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৬:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩
  • / ৫০ বার পড়া হয়েছে

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ছাড়াও কিছু বিতর্কিত ধনাঢ্য ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। এদের মধ্যে একজন ভার্জিন এয়ারলাইনস ও ভার্জিন রেকর্ডসের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড ব্র্যানসন।

এই ধনকুবেরের সঙ্গে ইউনূসের মিল রয়েছে। ইউনূস যেভাবে নিজ কর্মচারীদের ২ মাসের বিনা বেতনে বাধ্যতামূলক ছুটিতে যেতে বলেছিলেন, তেমনই কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালে ব্র্যানসন তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আট সপ্তাহ অবৈতনিক ছুটি নেওয়ার অনুরোধ করেন। যা ওই সময় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। যেখানে এয়ারলাইনস ব্যবসা করে তিনি ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন।

ওই সময় ব্রিটিশ এমপিদের একটি দল জানায়, ভার্জিন এয়ারলাইনসে ৮,৫৭১ জন কর্মী রয়েছে। তারা সবাই আট সপ্তাহের ছুটি নিলে ব্র্যানসনের বেঁচে যাবে ৬.৪ মিলিয়ন পাউন্ড। সেই টাকা তিনি যদি ২% সুদেও কোথাও বিনিয়োগ করেন তাতে তিনি একই সময়ে ৯.৯ মিলিয়ন পাউন্ড পাবেন। এই ধনকুবের সম্ভবত সেই লোভে পড়েই কর্মীদের বিরুদ্ধে গেছেন!

নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের ইন্টেলিজেন্টসিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, যৌন হয়রানিকারীদের পক্ষে অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে অপর বিবৃতি দানকারী ভিনোদ খোসলার বিরুদ্ধে। সান মাইক্রোসিস্টেম্‌সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ভারতীয়-মার্কিন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বিনোদ খোসলার প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে সিলিকন ভ্যালিতে লিখিত অভিযোগে তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীরা এই দাবি করেন। তবে ওই সময় অভিযুক্তদের পক্ষ নেন বিনোদ খোসলা। এতে ভীত হয়ে পড়েন ভুক্তভোগীরা। ওই সময় বিনোদ খোসলা বলেন, এসব অভিযোগ না দেখতে পেলে সেগুলো আসলে ঘটেনি। আমার এখানে এমন সমস্যা নেই।

এ ছাড়া ইউনূসের পক্ষে আরেক বিবৃতিদাতা মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আর্থার লেভিট। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রায়কে নিযুক্ত করতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বুশ। তবে শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পদচ্যুত হন তিনি।ট্রেডার্স ম্যাগাজিন বলছে, লেভিটের উদ্যোগ পেশাদার বিনিয়োগকারীদের বাইরেও বাজারে বিনিয়োগ করার সুযোগ দিত। ফলে অচিরেই পুরো বাজারে জুয়াড়িদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয় নাগরিকরা। পরে বিতর্কের জেরে পদ ছেড়ে যান প্রবাদপ্রতিম এই কর্মকর্তা।

এদিকে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশেনরে প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরেসকে ‘বুড়ো, ধনী, জেদি ও বিপজ্জনক’ অ্যাখ্যা দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘এ ধরনের মানুষ ভাবেন, তিনি যা মনে করেন, সেটাই ঠিক। সারা বিশ্ব সেই ভাবনাতেই চলবে।’‘নিউইয়র্কে বসে থেকে এ ধরনের মানুষ ভাবেন, তাদের ইচ্ছেমতো পৃথিবী চলবে। সে জন্য এসব মানুষ প্রচুর অর্থ খরচ করেন। তারা মনে করেন, যদি তাদের পছন্দমতো ব্যক্তিরা জেতেন, তা হলে নির্বাচন ভালো হয়েছে।

আর তা না হলে সংশ্লিষ্ট দেশের গণতন্ত্র খারাপ। মজাটা হচ্ছে, তারা বোঝাতে চান, খোলামেলা সমাজের স্বার্থে এসব করা হচ্ছে। এটা স্রেফ ভণ্ডামি।’জয়শঙ্কর বলেন, ‘এ ধরনের কথাবার্তা আমাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত রাখে। কারণ, আমরা জানি, ঔপনিবেশিকতা কী। আমরা সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। বাইরের শক্তি নাক গলালে কী বিপদ হয়, তা আমাদের জানা।’

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউনূসের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বিতর্কিতরা

আপডেট সময় ০৬:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ছাড়াও কিছু বিতর্কিত ধনাঢ্য ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। এদের মধ্যে একজন ভার্জিন এয়ারলাইনস ও ভার্জিন রেকর্ডসের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড ব্র্যানসন।

এই ধনকুবেরের সঙ্গে ইউনূসের মিল রয়েছে। ইউনূস যেভাবে নিজ কর্মচারীদের ২ মাসের বিনা বেতনে বাধ্যতামূলক ছুটিতে যেতে বলেছিলেন, তেমনই কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালে ব্র্যানসন তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আট সপ্তাহ অবৈতনিক ছুটি নেওয়ার অনুরোধ করেন। যা ওই সময় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। যেখানে এয়ারলাইনস ব্যবসা করে তিনি ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন।

ওই সময় ব্রিটিশ এমপিদের একটি দল জানায়, ভার্জিন এয়ারলাইনসে ৮,৫৭১ জন কর্মী রয়েছে। তারা সবাই আট সপ্তাহের ছুটি নিলে ব্র্যানসনের বেঁচে যাবে ৬.৪ মিলিয়ন পাউন্ড। সেই টাকা তিনি যদি ২% সুদেও কোথাও বিনিয়োগ করেন তাতে তিনি একই সময়ে ৯.৯ মিলিয়ন পাউন্ড পাবেন। এই ধনকুবের সম্ভবত সেই লোভে পড়েই কর্মীদের বিরুদ্ধে গেছেন!

নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের ইন্টেলিজেন্টসিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, যৌন হয়রানিকারীদের পক্ষে অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে অপর বিবৃতি দানকারী ভিনোদ খোসলার বিরুদ্ধে। সান মাইক্রোসিস্টেম্‌সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ভারতীয়-মার্কিন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বিনোদ খোসলার প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে সিলিকন ভ্যালিতে লিখিত অভিযোগে তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীরা এই দাবি করেন। তবে ওই সময় অভিযুক্তদের পক্ষ নেন বিনোদ খোসলা। এতে ভীত হয়ে পড়েন ভুক্তভোগীরা। ওই সময় বিনোদ খোসলা বলেন, এসব অভিযোগ না দেখতে পেলে সেগুলো আসলে ঘটেনি। আমার এখানে এমন সমস্যা নেই।

এ ছাড়া ইউনূসের পক্ষে আরেক বিবৃতিদাতা মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আর্থার লেভিট। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রায়কে নিযুক্ত করতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বুশ। তবে শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পদচ্যুত হন তিনি।ট্রেডার্স ম্যাগাজিন বলছে, লেভিটের উদ্যোগ পেশাদার বিনিয়োগকারীদের বাইরেও বাজারে বিনিয়োগ করার সুযোগ দিত। ফলে অচিরেই পুরো বাজারে জুয়াড়িদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয় নাগরিকরা। পরে বিতর্কের জেরে পদ ছেড়ে যান প্রবাদপ্রতিম এই কর্মকর্তা।

এদিকে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশেনরে প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরেসকে ‘বুড়ো, ধনী, জেদি ও বিপজ্জনক’ অ্যাখ্যা দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘এ ধরনের মানুষ ভাবেন, তিনি যা মনে করেন, সেটাই ঠিক। সারা বিশ্ব সেই ভাবনাতেই চলবে।’‘নিউইয়র্কে বসে থেকে এ ধরনের মানুষ ভাবেন, তাদের ইচ্ছেমতো পৃথিবী চলবে। সে জন্য এসব মানুষ প্রচুর অর্থ খরচ করেন। তারা মনে করেন, যদি তাদের পছন্দমতো ব্যক্তিরা জেতেন, তা হলে নির্বাচন ভালো হয়েছে।

আর তা না হলে সংশ্লিষ্ট দেশের গণতন্ত্র খারাপ। মজাটা হচ্ছে, তারা বোঝাতে চান, খোলামেলা সমাজের স্বার্থে এসব করা হচ্ছে। এটা স্রেফ ভণ্ডামি।’জয়শঙ্কর বলেন, ‘এ ধরনের কথাবার্তা আমাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত রাখে। কারণ, আমরা জানি, ঔপনিবেশিকতা কী। আমরা সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। বাইরের শক্তি নাক গলালে কী বিপদ হয়, তা আমাদের জানা।’