১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

ইফতারি আয়োজনের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কম

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৩:৫৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩
  • / ৮৮ বার পড়া হয়েছে

বছর ঘুরে আবারো সৌভাগ্যের বার্তা নিয়ে হাজির হলো পবিত্র মাহে রমজান। মহিমান্বিত এই মাসে পুরো মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইফতারির বাহারি আয়োজন নিয়ে প্রতিযোগিতায় চলে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর মাঝে।

অন্যান্যবারের মতো এবারও ঢাকাতে নানা ধরণের ইফতারির পসরা সাজিয়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো। পাঁচ তারকা রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার টঙের দোকান পর্যন্ত সর্বত্র রয়েছে রকমারি ইফতারের আয়োজন। তবে চাহিদা মতো ক্রেতা পাচ্ছে না বিক্রেতারা। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার তুলনামূলকভাবে ইফতারের দাম অনেকটাই বেশি। কোন কোন পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ইফতারির আয়োজন করা হয়েছে। দুপুর গড়ালেই প্রতিটি রেস্তোরাঁয় নানা রকমের ইফতার সাজিয়ে ক্রেতাদের অপেক্ষায় থাকেন বিক্রেতারা। কিন্তু রেস্তোরাঁগুলোতে অর্ধশতাধিক পদের বাহারি স্বাদের ইফতারের আয়োজন থাকলেও আয়োজনের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই কম বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।তারা জানান, ইফতার কিনতে এসে আগের মতো বেছে বেছে পছন্দ করে ইফতার কিনতে দেখা যায়নি তেমন কাউকে। পছন্দের তালিকা থেকে অল্প অল্প করেই ইফতার ক্রয় করছেন ক্রেতারা।

রমজান উপলক্ষে রেস্তোরাঁগুলোর বাহারি ইফতার আয়োজনের মধ্যে রয়েছে চিকেন রোস্ট (প্রতি পিস ১২০ টাকা), চিকেন ফ্রাই (ব্রয়লার) প্রতি পিস ৭৫ টাকা, চিকেন ফ্রাই প্রতি পিস ১২০ টাকা, চিকেন সাসলিক প্রতি পিস ৬০ টাকা, চিকেন উইংস প্রতি পিস ৩০ টাকা, চিকেন চিজ বল প্রতি পিস ২৫ টাকা, চিকেন অনথন প্রতি পিস ২৫ টাকা, ফিস ফিঙ্গার প্রতি পিস ৬০ টাকা, বিফ চাপ প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা, খাসির গ্রিল চাপ কেজি ১২০০ টাকা, খাসির লেগ কাবাব প্রতি পিস ৫৫০ টাকা, খাসির লেগ রোস্ট প্রতি পিস ৫৫০ টাকা, খাসির হালিম প্রতি পেয়ালা ১০০ টাকা, চিকেন ফুল রোস্ট (বড়) প্রতি পিস ৫০০ টাকা, চিকেন রোস্ট (ছোট) (পাকিস্তানি) প্রতি পিস ৪০০ টাকা, জালি কাবাব প্রতি পিস ২৫ টাকা, শামি কাবাব প্রতি পিস ২৫ টাকা, চিকেন ড্রাম স্টিক প্রতি পিস ৬৫ টাকা, চিকেন চিজ বল প্রতি পিস ৩০ টাকা, চিকেন চিজ রোল প্রতি পিস ৩৫ টাকা, চিকেন রোল প্রতি পিস ৩০ টাকা, চিকেন সমুচা প্রতি পিস ২০ টাকা, চিকেন পরোটা প্রতি পিস ৫০ টাকা, কিমা সমুচা প্রতি পিস ২০ টাকা, পনির সমুচা প্রতি পিস ২৫ টাকা, চাইনিজ রোল প্রতি পিস ২৫ টাকা, চিকেন কাটলেট প্রতি পিস ৬০ টাকা, পিঁয়াজু প্রতি পিস ৮ টাকা, আলুর চপ প্রতি পিস ৮ টাকা, বেগুনি প্রতি পিস ৮ টাকা, ভেজিটেবল রোল প্রতি পিস ২৫ টাকা, স্প্রিং রোল প্রতি পিস ২৫ টাকা, কিমা পরোটা প্রতি পিস ৫৫ টাকা, টানা পরোটা প্রতি পিস ৩৫ টাকা, বাটার পরোটা প্রতি পিস ৫৫ টাকা, জিলাপি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, রেশমি জিলাপি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, লাবাং লিটার ২০০ টাকা।

ইফতার বিক্রেতা হাসান আহমেদ জানিয়েছেন, রমজানের প্রথম দিকে তেমন ক্রেতা না থাকলেও এখন ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। কিন্তু আমরা যে পরিমাণ ক্রেতা আশা করেছিলাম, সেটা এখনো দেখা যায়নি। আশা করছি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়বে। ইফতার ক্রয় করতে আসা জামাল হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, জিলাপি, সমুচা, পরোটা, আলুর চপ, বেগুনি, চিকেন ফ্রাই কিনেছি। অন্য বছরের তুলনায় এবার একটু দাম বেশি। তাদের (বিক্রেতা) দোষ দিয়ে কী হবে।

ইফতারের পণ্যের যেভাবে দাম বাড়ছে, তারাইবা কম দেবে কী করে। তবে দাম আরেকটু কমানো যেত। আরেক ইফতার ক্রেতা মকবুল হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, একেক দোকানে একেক দাম। আবার একেক দোকানে একেক রকম ইফতার সামগ্রী। কেউ বেশি নিচ্ছে, আবার কেউ কম নিচ্ছে। তুলনামূলকভাবে ইফতারের দামটা একটু বেশি মনে হচ্ছে। আমরা নিরুপায়, কম হোক বেশি হোক নিতে হবে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ইফতারি আয়োজনের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কম

আপডেট সময় ০৩:৫৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩

বছর ঘুরে আবারো সৌভাগ্যের বার্তা নিয়ে হাজির হলো পবিত্র মাহে রমজান। মহিমান্বিত এই মাসে পুরো মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইফতারির বাহারি আয়োজন নিয়ে প্রতিযোগিতায় চলে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর মাঝে।

অন্যান্যবারের মতো এবারও ঢাকাতে নানা ধরণের ইফতারির পসরা সাজিয়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো। পাঁচ তারকা রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার টঙের দোকান পর্যন্ত সর্বত্র রয়েছে রকমারি ইফতারের আয়োজন। তবে চাহিদা মতো ক্রেতা পাচ্ছে না বিক্রেতারা। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার তুলনামূলকভাবে ইফতারের দাম অনেকটাই বেশি। কোন কোন পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ইফতারির আয়োজন করা হয়েছে। দুপুর গড়ালেই প্রতিটি রেস্তোরাঁয় নানা রকমের ইফতার সাজিয়ে ক্রেতাদের অপেক্ষায় থাকেন বিক্রেতারা। কিন্তু রেস্তোরাঁগুলোতে অর্ধশতাধিক পদের বাহারি স্বাদের ইফতারের আয়োজন থাকলেও আয়োজনের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই কম বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।তারা জানান, ইফতার কিনতে এসে আগের মতো বেছে বেছে পছন্দ করে ইফতার কিনতে দেখা যায়নি তেমন কাউকে। পছন্দের তালিকা থেকে অল্প অল্প করেই ইফতার ক্রয় করছেন ক্রেতারা।

রমজান উপলক্ষে রেস্তোরাঁগুলোর বাহারি ইফতার আয়োজনের মধ্যে রয়েছে চিকেন রোস্ট (প্রতি পিস ১২০ টাকা), চিকেন ফ্রাই (ব্রয়লার) প্রতি পিস ৭৫ টাকা, চিকেন ফ্রাই প্রতি পিস ১২০ টাকা, চিকেন সাসলিক প্রতি পিস ৬০ টাকা, চিকেন উইংস প্রতি পিস ৩০ টাকা, চিকেন চিজ বল প্রতি পিস ২৫ টাকা, চিকেন অনথন প্রতি পিস ২৫ টাকা, ফিস ফিঙ্গার প্রতি পিস ৬০ টাকা, বিফ চাপ প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা, খাসির গ্রিল চাপ কেজি ১২০০ টাকা, খাসির লেগ কাবাব প্রতি পিস ৫৫০ টাকা, খাসির লেগ রোস্ট প্রতি পিস ৫৫০ টাকা, খাসির হালিম প্রতি পেয়ালা ১০০ টাকা, চিকেন ফুল রোস্ট (বড়) প্রতি পিস ৫০০ টাকা, চিকেন রোস্ট (ছোট) (পাকিস্তানি) প্রতি পিস ৪০০ টাকা, জালি কাবাব প্রতি পিস ২৫ টাকা, শামি কাবাব প্রতি পিস ২৫ টাকা, চিকেন ড্রাম স্টিক প্রতি পিস ৬৫ টাকা, চিকেন চিজ বল প্রতি পিস ৩০ টাকা, চিকেন চিজ রোল প্রতি পিস ৩৫ টাকা, চিকেন রোল প্রতি পিস ৩০ টাকা, চিকেন সমুচা প্রতি পিস ২০ টাকা, চিকেন পরোটা প্রতি পিস ৫০ টাকা, কিমা সমুচা প্রতি পিস ২০ টাকা, পনির সমুচা প্রতি পিস ২৫ টাকা, চাইনিজ রোল প্রতি পিস ২৫ টাকা, চিকেন কাটলেট প্রতি পিস ৬০ টাকা, পিঁয়াজু প্রতি পিস ৮ টাকা, আলুর চপ প্রতি পিস ৮ টাকা, বেগুনি প্রতি পিস ৮ টাকা, ভেজিটেবল রোল প্রতি পিস ২৫ টাকা, স্প্রিং রোল প্রতি পিস ২৫ টাকা, কিমা পরোটা প্রতি পিস ৫৫ টাকা, টানা পরোটা প্রতি পিস ৩৫ টাকা, বাটার পরোটা প্রতি পিস ৫৫ টাকা, জিলাপি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, রেশমি জিলাপি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, লাবাং লিটার ২০০ টাকা।

ইফতার বিক্রেতা হাসান আহমেদ জানিয়েছেন, রমজানের প্রথম দিকে তেমন ক্রেতা না থাকলেও এখন ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। কিন্তু আমরা যে পরিমাণ ক্রেতা আশা করেছিলাম, সেটা এখনো দেখা যায়নি। আশা করছি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়বে। ইফতার ক্রয় করতে আসা জামাল হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, জিলাপি, সমুচা, পরোটা, আলুর চপ, বেগুনি, চিকেন ফ্রাই কিনেছি। অন্য বছরের তুলনায় এবার একটু দাম বেশি। তাদের (বিক্রেতা) দোষ দিয়ে কী হবে।

ইফতারের পণ্যের যেভাবে দাম বাড়ছে, তারাইবা কম দেবে কী করে। তবে দাম আরেকটু কমানো যেত। আরেক ইফতার ক্রেতা মকবুল হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, একেক দোকানে একেক দাম। আবার একেক দোকানে একেক রকম ইফতার সামগ্রী। কেউ বেশি নিচ্ছে, আবার কেউ কম নিচ্ছে। তুলনামূলকভাবে ইফতারের দামটা একটু বেশি মনে হচ্ছে। আমরা নিরুপায়, কম হোক বেশি হোক নিতে হবে।