০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা, চারজনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৭:০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মে ২০২৩
  • / ২৬ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর রাজধানী ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি করেছে দেশটির সরকার। এর সঙ্গে চারজনের বেশি জমায়েতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ মে) ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে থেকে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে করা মামলার একটির শুনানিতে অংশ নিতে আদালতে যাচ্ছিলেন তিনি। ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার ডাক দিয়েছেন।

এদিকে গ্রেপ্তার করার পর ইমরানকে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে রাখা হয়েছে নাকি অন্য কোথাও নেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ইসলামাবাদ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।স্থানীয় টিভিতে প্রচারিত সংবাদে বলা হয়, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে জড়ো হয়েছেন পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা। সেখানে তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষও হয়েছে।

অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন ইমরান খান। সম্প্রতি তিনি অভিযোগ করেন, একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। তার এমন অভিযোগে সেনাবাহিনী ক্ষোভ প্রকাশ করে সোমবার (৮ মে) তাকে সতর্ক করে। সেনাবাহিনী সতর্ক করার পরদিনই ইমরান গ্রেপ্তার হলেন। গতকালের ওই সতর্কতার মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়, ইমরান খানের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে।

বলা হয়ে থাকে, সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ইমরান ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেন। তবে মতবিরোধের জেরে সেনাবাহিনী সমর্থন প্রত্যাহার করলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করা হয়। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে পাকিস্তানের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত নাজুক। ইমরান খান অপসারিত হওয়ার পর গঠিত জোট সরকারের অবস্থানও নড়বড়ে। আর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খান আগাম নির্বাচন আয়োজনে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। যদিও শাহবাজ শরিফ সরকার এখনো নিজ অবস্থানে অনড়।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে লাহোরে এক সমাবেশে ইমরান খান দাবি করেন, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ফয়সাল নাসের গত বছর তাকে গুপ্তহত্যার চক্রান্ত করেন। এরপর একটি সমাবেশে ইমরানকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তবে গুলি তার পায়ে লাগে। এদিকে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর গতকাল এক বিবৃতিতে ইমরানের ওই অভিযোগ খারিজ করে বলেছে, এ বানোয়াট ও বিদ্বেষপূর্ণ অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা, চারজনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ

আপডেট সময় ০৭:০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মে ২০২৩

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর রাজধানী ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি করেছে দেশটির সরকার। এর সঙ্গে চারজনের বেশি জমায়েতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ মে) ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে থেকে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে করা মামলার একটির শুনানিতে অংশ নিতে আদালতে যাচ্ছিলেন তিনি। ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার ডাক দিয়েছেন।

এদিকে গ্রেপ্তার করার পর ইমরানকে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে রাখা হয়েছে নাকি অন্য কোথাও নেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ইসলামাবাদ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।স্থানীয় টিভিতে প্রচারিত সংবাদে বলা হয়, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে জড়ো হয়েছেন পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা। সেখানে তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষও হয়েছে।

অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন ইমরান খান। সম্প্রতি তিনি অভিযোগ করেন, একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। তার এমন অভিযোগে সেনাবাহিনী ক্ষোভ প্রকাশ করে সোমবার (৮ মে) তাকে সতর্ক করে। সেনাবাহিনী সতর্ক করার পরদিনই ইমরান গ্রেপ্তার হলেন। গতকালের ওই সতর্কতার মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়, ইমরান খানের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে।

বলা হয়ে থাকে, সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ইমরান ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেন। তবে মতবিরোধের জেরে সেনাবাহিনী সমর্থন প্রত্যাহার করলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করা হয়। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে পাকিস্তানের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত নাজুক। ইমরান খান অপসারিত হওয়ার পর গঠিত জোট সরকারের অবস্থানও নড়বড়ে। আর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খান আগাম নির্বাচন আয়োজনে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। যদিও শাহবাজ শরিফ সরকার এখনো নিজ অবস্থানে অনড়।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে লাহোরে এক সমাবেশে ইমরান খান দাবি করেন, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ফয়সাল নাসের গত বছর তাকে গুপ্তহত্যার চক্রান্ত করেন। এরপর একটি সমাবেশে ইমরানকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তবে গুলি তার পায়ে লাগে। এদিকে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর গতকাল এক বিবৃতিতে ইমরানের ওই অভিযোগ খারিজ করে বলেছে, এ বানোয়াট ও বিদ্বেষপূর্ণ অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।