১১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

ঈদের ছুটিজুড়ে কালবৈশাখীর শঙ্কা

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৯:৪১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৩
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে

টানা দুই সপ্তাহ বৃষ্টিহীন দেশ। তীব্র তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। প্রায় এক দশক পর তেতে ওঠা প্রকৃতি যেন রেহাই দিচ্ছে না। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে কালবৈশাখীর প্রবণতা বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতোমধ্যে দক্ষিণা বাতাস বইছে, যা সাগর থেকে জলীয় বাষ্প আনা শুরু করেছে। এতে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিলেও সেটা খুব কম। তবে এ সম্ভাবনা বেড়ে ১৯ কিংবা ২০ এপ্রিলের দিকে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্যস্থানে আপাতত বৃষ্টিপাতে সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে ২১ এপ্রিল পর বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ও হতে পারে বিক্ষিপ্তভাবে। সঙ্গে হতে পারে বজ্রঝড় আর শিলাবৃষ্টি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ৪ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে বেড়েছে দেশের তাপমাত্রা। ঢাকায় ১৬ এপ্রিল গত ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের দিন চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এর আগে ২০১৪ সালের এপ্রিলেও চুয়াডাঙ্গায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। ঢাকায় ১৯৬৫ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে ১৯৬০ সালে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৯৭৫ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এই রেকর্ড এখনও ভাঙেনি।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা আমরা পূর্বাভাসে বলছি। ২১, ২২ এপ্রিলের দিকে দেশের বেশির ভাগ স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম। এসব এলাকাসহ পুরো দেশেই বৃষ্টিপাত এবং কালবৈশাখী ঝড় হবে ২৩ এপ্রিল থেকে। তবে সেটা একটানা নয়। আর কয়েক দিন তাপপ্রবাহ এমন থাকলে দেশে তাপমাত্রাজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়। এদিকে দেশের এমন পরিস্থিতিতে সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বৃষ্টির আশায় রাজধানীসহ সারাদেশে খোলা আকাশের নিচে বিশেষ নামাজ (সালাতুল ইস্তিসকা) আদায় করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এ ছাড়া রাত ৮টা ৫০ মিনিটে হালকা বৃষ্টি হয়ে থেমে যায়। এরপর রাত ১০টায় শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। সিলেটের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, আগেই আমরা বৃষ্টির আভাস দিয়েছিলাম। কোম্পানীগঞ্জসহ বেশ কয়েক জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সিলেট নগর ও এর আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদের ছুটিজুড়ে কালবৈশাখীর শঙ্কা

আপডেট সময় ০৯:৪১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৩

টানা দুই সপ্তাহ বৃষ্টিহীন দেশ। তীব্র তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। প্রায় এক দশক পর তেতে ওঠা প্রকৃতি যেন রেহাই দিচ্ছে না। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে কালবৈশাখীর প্রবণতা বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতোমধ্যে দক্ষিণা বাতাস বইছে, যা সাগর থেকে জলীয় বাষ্প আনা শুরু করেছে। এতে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিলেও সেটা খুব কম। তবে এ সম্ভাবনা বেড়ে ১৯ কিংবা ২০ এপ্রিলের দিকে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্যস্থানে আপাতত বৃষ্টিপাতে সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে ২১ এপ্রিল পর বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ও হতে পারে বিক্ষিপ্তভাবে। সঙ্গে হতে পারে বজ্রঝড় আর শিলাবৃষ্টি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ৪ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে বেড়েছে দেশের তাপমাত্রা। ঢাকায় ১৬ এপ্রিল গত ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের দিন চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এর আগে ২০১৪ সালের এপ্রিলেও চুয়াডাঙ্গায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। ঢাকায় ১৯৬৫ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে ১৯৬০ সালে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৯৭৫ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এই রেকর্ড এখনও ভাঙেনি।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা আমরা পূর্বাভাসে বলছি। ২১, ২২ এপ্রিলের দিকে দেশের বেশির ভাগ স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম। এসব এলাকাসহ পুরো দেশেই বৃষ্টিপাত এবং কালবৈশাখী ঝড় হবে ২৩ এপ্রিল থেকে। তবে সেটা একটানা নয়। আর কয়েক দিন তাপপ্রবাহ এমন থাকলে দেশে তাপমাত্রাজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়। এদিকে দেশের এমন পরিস্থিতিতে সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বৃষ্টির আশায় রাজধানীসহ সারাদেশে খোলা আকাশের নিচে বিশেষ নামাজ (সালাতুল ইস্তিসকা) আদায় করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এ ছাড়া রাত ৮টা ৫০ মিনিটে হালকা বৃষ্টি হয়ে থেমে যায়। এরপর রাত ১০টায় শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। সিলেটের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, আগেই আমরা বৃষ্টির আভাস দিয়েছিলাম। কোম্পানীগঞ্জসহ বেশ কয়েক জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সিলেট নগর ও এর আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।