০৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

ক্ষত শুকায়নি রানা প্লাজার আহত শ্রমিকদের

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৮:৩৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৩
  • / ৬৯ বার পড়া হয়েছে

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১০ বছর আজ। শরীর কিছুটা সুস্থ হলেও মনের ক্ষত মোছেনি প্লাজার আহত শ্রমিকদের। অভাব-অনটন ম্লান করেছে তাদের অনেকের ঈদ আনন্দ। এসব নিয়েই বেঁচে থাকার পথ খুঁজে ফিরছে তারা। চান সরকারি পুনর্বাসন।

১০ বছর পেরিয়েছে এই দুর্বিষহ স্মৃতি আর আর্তনাদের। রানা প্লাজার ভবন ধসের সেই ঘটনা নাড়িয়ে দেয় পুরো বিশ্বকে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার দুর্বিষহ সেই স্মৃতি এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে শিলাকে। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে বেঁচে ফেরা শিলা রহমান কেমন আছেন এখন? কেমন কেটেছে এবারের ঈদ?

শিলা জানান, আমাদের দাবিগুলো যদি সরকার মেনে নেয় তাহলে আমরা এতিম সন্তানদের নিয়ে কোনো রকম বেঁছে থাকতে পারব। এই গার্মেন্টসে আমরা উঠতে চাইনি, আমাদের জোর উঠানো হয়েছে। এ দুর্ঘটনা আমাদের জীবনটা থামিয়ে দিলো। এই গার্মেন্টস এবং ভবন মালিকের যেনো বিচার হয় সেটাই আমরা চাই। রাস্তার মাঝে বসে থাকলে চোখ মারে, মজা নেয়। এই জীবনটাই আর ভালো লাগে না ভাই।

শিলার মত এমন অনেক শ্রমিক দুর্বিষহ সেই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরলেও ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। বিনা চিকিৎসা, শারীরিক নানা অক্ষমতা আর অভাব-অনটনের মাঝেই জীবন হয়েছে উঠেছে বিষাদপূর্ণ। স্বজন হারানোদের কান্না এখনও ভারি করে তুলে আশেপাশের পরিবেশ। শ্রমিক নেতাদের দাবি, রানা প্লাজা ঘটনায় নিহত, নিখোঁজ ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও দোষীদের শান্তির দাবি জানিয়ে আসলেও এখনও পূরণ হয়নি কোনোটিই।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, এই দিনটিকে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবসের দাবি জানিয়ে আসছি। এই জায়গাটা সরকার অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবি করছি। এ ঘটনায় দায়ি ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি। দুর্ভাগ্যজনক সত্য হচ্ছে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরই দেশের পোশাক কারখানা সংস্কারে বড় ধরণের সাফল্য আসে। কেননা এই অঘটনে টনক নড়ে সরকার ও মালিক পক্ষের।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্ষত শুকায়নি রানা প্লাজার আহত শ্রমিকদের

আপডেট সময় ০৮:৩৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৩

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১০ বছর আজ। শরীর কিছুটা সুস্থ হলেও মনের ক্ষত মোছেনি প্লাজার আহত শ্রমিকদের। অভাব-অনটন ম্লান করেছে তাদের অনেকের ঈদ আনন্দ। এসব নিয়েই বেঁচে থাকার পথ খুঁজে ফিরছে তারা। চান সরকারি পুনর্বাসন।

১০ বছর পেরিয়েছে এই দুর্বিষহ স্মৃতি আর আর্তনাদের। রানা প্লাজার ভবন ধসের সেই ঘটনা নাড়িয়ে দেয় পুরো বিশ্বকে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার দুর্বিষহ সেই স্মৃতি এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে শিলাকে। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে বেঁচে ফেরা শিলা রহমান কেমন আছেন এখন? কেমন কেটেছে এবারের ঈদ?

শিলা জানান, আমাদের দাবিগুলো যদি সরকার মেনে নেয় তাহলে আমরা এতিম সন্তানদের নিয়ে কোনো রকম বেঁছে থাকতে পারব। এই গার্মেন্টসে আমরা উঠতে চাইনি, আমাদের জোর উঠানো হয়েছে। এ দুর্ঘটনা আমাদের জীবনটা থামিয়ে দিলো। এই গার্মেন্টস এবং ভবন মালিকের যেনো বিচার হয় সেটাই আমরা চাই। রাস্তার মাঝে বসে থাকলে চোখ মারে, মজা নেয়। এই জীবনটাই আর ভালো লাগে না ভাই।

শিলার মত এমন অনেক শ্রমিক দুর্বিষহ সেই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরলেও ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। বিনা চিকিৎসা, শারীরিক নানা অক্ষমতা আর অভাব-অনটনের মাঝেই জীবন হয়েছে উঠেছে বিষাদপূর্ণ। স্বজন হারানোদের কান্না এখনও ভারি করে তুলে আশেপাশের পরিবেশ। শ্রমিক নেতাদের দাবি, রানা প্লাজা ঘটনায় নিহত, নিখোঁজ ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও দোষীদের শান্তির দাবি জানিয়ে আসলেও এখনও পূরণ হয়নি কোনোটিই।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, এই দিনটিকে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবসের দাবি জানিয়ে আসছি। এই জায়গাটা সরকার অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবি করছি। এ ঘটনায় দায়ি ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি। দুর্ভাগ্যজনক সত্য হচ্ছে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরই দেশের পোশাক কারখানা সংস্কারে বড় ধরণের সাফল্য আসে। কেননা এই অঘটনে টনক নড়ে সরকার ও মালিক পক্ষের।