০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

ফায়ার সার্ভিসের দপ্তরে হামলায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৮:০০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ এপ্রিল ২০২৩
  • / ৬৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বঙ্গবাজারে আগুন নেভানোর সময় পার্শ্ববর্তী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। তারা এ সময় ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি গাড়ি ভাঙচুরসহ ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে বংশাল থানায় মামলার বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করা হলে শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সকালে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। মামলার বাদী মো. শাহিন আলম অভিযোগ করে বলেন, গত মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে বঙ্গবাজারে আগুন লাগার খবর পাই। তাৎক্ষণিকভাবে অফিসার ও ফায়ার ফাইটারদের সঙ্গে নিয়ে গাড়ি, পাম্প ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।

আগুনের ভয়াবহতা দেখে বিভিন্ন স্টেশনের ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিট, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক টিমের সহায়তা গ্রহণ করা হয়। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে, সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা ২৫০-৩০০ জন হাতে লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে।

হামলায় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়। অতর্কিত এ হামলায় ভাঙচুর করা হয় ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন মডেলের ১৪টি গাড়ি, মেইন গেটের সেন্ট্রি পোস্ট, প্রশাসনিক ভবন ও সিনিয়র স্টেশন অফিসারের কার্যালয়। হামলায় আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা। শুধু তাই নয় হামলায় সিনিয়র কর্মকর্তাসহ আহত হন ফায়ার সার্ভিসের চার জন সদস্য। এ বিষয়ে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়েছে। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

গত মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গবাজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। বঙ্গবাজার থেকে আশপাশের আরও চারটি মার্কেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও ওয়াসাসহ অনেক বাহিনী ও সংস্থার চেষ্টায় দুপুর সাড়ে ১২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে সাধারণ মানুষ হতাহত না হলেও ফায়ার সার্ভিসের আটজন আহত হয়েছেন। আগুনে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার দোকান পুড়ে গেছে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ফায়ার সার্ভিসের দপ্তরে হামলায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০৮:০০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ এপ্রিল ২০২৩

রাজধানীর বঙ্গবাজারে আগুন নেভানোর সময় পার্শ্ববর্তী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। তারা এ সময় ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি গাড়ি ভাঙচুরসহ ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে বংশাল থানায় মামলার বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করা হলে শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সকালে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। মামলার বাদী মো. শাহিন আলম অভিযোগ করে বলেন, গত মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে বঙ্গবাজারে আগুন লাগার খবর পাই। তাৎক্ষণিকভাবে অফিসার ও ফায়ার ফাইটারদের সঙ্গে নিয়ে গাড়ি, পাম্প ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।

আগুনের ভয়াবহতা দেখে বিভিন্ন স্টেশনের ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিট, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক টিমের সহায়তা গ্রহণ করা হয়। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে, সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা ২৫০-৩০০ জন হাতে লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে।

হামলায় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়। অতর্কিত এ হামলায় ভাঙচুর করা হয় ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন মডেলের ১৪টি গাড়ি, মেইন গেটের সেন্ট্রি পোস্ট, প্রশাসনিক ভবন ও সিনিয়র স্টেশন অফিসারের কার্যালয়। হামলায় আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা। শুধু তাই নয় হামলায় সিনিয়র কর্মকর্তাসহ আহত হন ফায়ার সার্ভিসের চার জন সদস্য। এ বিষয়ে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়েছে। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

গত মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গবাজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। বঙ্গবাজার থেকে আশপাশের আরও চারটি মার্কেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও ওয়াসাসহ অনেক বাহিনী ও সংস্থার চেষ্টায় দুপুর সাড়ে ১২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে সাধারণ মানুষ হতাহত না হলেও ফায়ার সার্ভিসের আটজন আহত হয়েছেন। আগুনে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার দোকান পুড়ে গেছে।