০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মানুষের ভাগ্যে ছিল শুধু হত্যা আর খুন’

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৫:২৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩
  • / ৫৩ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যে শুধু হত্যা আর খুন ছিল। মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর এমন একটা সময় মানুষের জীবনে এসেছিল। যে মুক্তিযোদ্ধারা নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলতেই ভয় পেত। কারণ, এটা বললে তারা সরকারি-বেসরকারি সকল ক্ষেত্রেই অবহেলার শিকার হতো। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনেক সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। যে নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন।

পঁচাত্তরের ২৩ নভেম্বর সেই চার জাতীয় নেতাকেও কারাগারে হত্যা করা হয়। হত্যা, খুন এগুলোই ছিল বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যে। গণতন্ত্রের পরিবর্তে মার্শাল-ল। দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মুষ্টিমেয় লোককে সুবিধা দিয়ে ও তাদের ওপর নির্ভর করেই দেশ পরিচালনা করা হয়। জনগণের কোনো অধিকারই ছিল না, এটাই ছিল বাস্তবতা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ছয় বছর আমারা দুই বোন দেশে আসতে পারিনি, রিফিউজি হিসেবে থাকতে হয়েছিল। নিজেদের নাম-পরিচয়টাও আমরা দিতে পারতাম না। ছয় বছর পর আমি দেশে ফিরে আসার সুযোগ পাই। বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে, হাটে আমি বিচরণ করি, মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখি। কারণ বড় সন্তান হিসেবে বাবার পাশে থেকে কি না কীভাবে দেশটাকে গড়তে চাইতেন, সে গল্প অনেক শুনতাম। কাজেই সেই চিন্তা-ভাবনা মাথায় নিয়েই আমি কাজ শুরু করি।

এরপর যখন সরকার গঠন করি তখন জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই আমরা কাজ করি। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। জাতির পিতা অতি অল্প সময়ের মধ্যে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছিলেন। আর সেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আমরা উত্তরণে সক্ষম হয়েছি যখন ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০০৮ সালে সরকার গঠন করে ২০০৯ সালে যখন পরিকল্পনা করলাম ২০২১ পর্যন্ত।

সেই লক্ষ্য আমরা অর্জন করেছি। এখন ২০২১ থেকে ২০৪১ এর পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও প্রযুক্তি-জ্ঞান সম্পন্ন জনগোষ্ঠী গড়ে তুলে আমরা সবকিছুতে স্মার্ট একটি দেশ গড়ে তুলব। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নয়জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দেন।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মানুষের ভাগ্যে ছিল শুধু হত্যা আর খুন’

আপডেট সময় ০৫:২৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যে শুধু হত্যা আর খুন ছিল। মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর এমন একটা সময় মানুষের জীবনে এসেছিল। যে মুক্তিযোদ্ধারা নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলতেই ভয় পেত। কারণ, এটা বললে তারা সরকারি-বেসরকারি সকল ক্ষেত্রেই অবহেলার শিকার হতো। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনেক সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। যে নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন।

পঁচাত্তরের ২৩ নভেম্বর সেই চার জাতীয় নেতাকেও কারাগারে হত্যা করা হয়। হত্যা, খুন এগুলোই ছিল বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যে। গণতন্ত্রের পরিবর্তে মার্শাল-ল। দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মুষ্টিমেয় লোককে সুবিধা দিয়ে ও তাদের ওপর নির্ভর করেই দেশ পরিচালনা করা হয়। জনগণের কোনো অধিকারই ছিল না, এটাই ছিল বাস্তবতা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ছয় বছর আমারা দুই বোন দেশে আসতে পারিনি, রিফিউজি হিসেবে থাকতে হয়েছিল। নিজেদের নাম-পরিচয়টাও আমরা দিতে পারতাম না। ছয় বছর পর আমি দেশে ফিরে আসার সুযোগ পাই। বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে, হাটে আমি বিচরণ করি, মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখি। কারণ বড় সন্তান হিসেবে বাবার পাশে থেকে কি না কীভাবে দেশটাকে গড়তে চাইতেন, সে গল্প অনেক শুনতাম। কাজেই সেই চিন্তা-ভাবনা মাথায় নিয়েই আমি কাজ শুরু করি।

এরপর যখন সরকার গঠন করি তখন জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই আমরা কাজ করি। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। জাতির পিতা অতি অল্প সময়ের মধ্যে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছিলেন। আর সেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আমরা উত্তরণে সক্ষম হয়েছি যখন ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০০৮ সালে সরকার গঠন করে ২০০৯ সালে যখন পরিকল্পনা করলাম ২০২১ পর্যন্ত।

সেই লক্ষ্য আমরা অর্জন করেছি। এখন ২০২১ থেকে ২০৪১ এর পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও প্রযুক্তি-জ্ঞান সম্পন্ন জনগোষ্ঠী গড়ে তুলে আমরা সবকিছুতে স্মার্ট একটি দেশ গড়ে তুলব। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নয়জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দেন।