০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কম খরচে পড়ার সুযোগ যে ১০ দেশে

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৭:১০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০২৩
  • / ৭৪ বার পড়া হয়েছে

অনেকেই দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ালেখা করতে চান। তবে কোন দেশে পড়ালেখা করবেন সেটা ঠিক করার জন্য অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করতে হয়। উন্নত বিশ্বের কয়েকটি দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং অবকাঠামো অনবদ্য। এশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ বিদেশিদের কম খরচে পড়ার সুযোগ দেয়। আর্থিক সংকুলান না হলে আছে স্কলারশিপের ব্যবস্থা। এমন কিছু দেশ আছে যারা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই কম খরচে উন্নত শিক্ষার পাশাপাশি চাকরিরও সুযোগ প্রদান করে। ফলে, শিক্ষা ও জীবনধারণের ব্যয় সহজ হয়ে যায়।

তাই আপনার স্বপ্ন যদি হয় বিদেশে উচ্চশিক্ষা, তবে ১০টি দেশ আপনার জন্য হতে পারে অভিষ্ট গন্তব্য-

জার্মানি: সাধারণত জার্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একজন বিদেশি শিক্ষার্থীর সেমিস্টার প্রতি ৩১৫ থেকে ৫৩০ ডলার খরচ হবে। প্রতি মাসে থাকা-খাওয়ার অর্থাৎ জীবনযাত্রার ব্যয় পড়বে ৯৫০ ডলারের মতো। স্নাতক করার পর ১৮ মাসের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়র্ক ভিসা মেলে এখানে। এমনকি এখানে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফিই নেই।

ফ্রান্স: বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্গ বলা যেতে পারে ফ্রান্সকে। শুধু পড়াশোনার জন্যই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ইউরোপীয় বাজারে তাদের অভিজাত পদচারণা আছে। স্নাতকের পর বিদেশি শিক্ষার্থীরা সেখানে ব্যবসায়িক খাতে আকর্ষণীয় কাজের সুযোগ পেতে পারেন। সুস্বাদু খাবার থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক, ফ্যাশন, শিল্প-সাহিত্য ও জীবনধারা-প্রায় সবকিছুর আনন্দদায়ক মিশ্রণ পাওয়া যায় ফ্রান্সে। এখানে লাইসেন্স (স্নাতক) স্তরে বছরে খরচ হতে পারে ২ হাজার ৭৭০ ইউরো (প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা)। মাস্টার লেভেলে বছরে খরচ হতে পারে ৩ হাজার ৭৭০ ইউরো বা ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৪০০ টাকা। জীবনযাত্রার জন্য প্যারিস, নিস, লিয়ন, ন্যান্টেস, বোর্দো বা টুলুজের মতো অভিজাত শহরগুলো বাদ দিয়ে ছোট শহর বেছে নিলে ৬৫০ ইউরোর (প্রায় ৬২ হাজার ৬৫০ টাকা) কমে থাকা যাবে।

অস্ট্রিয়া: উরোপের প্রাণকেন্দ্র অস্ট্রিয়া যে কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে। ইইউ (ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন)/ইইএ (ইউরোপিয়ান ইকোনোমিক এরিয়া) দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফি একদম ফ্রি। কিন্তু, নন-ইউ/ইইএ দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এখানকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতি সেমিস্টারে ২০ ইউরো (প্রায় ১ হাজার ৯২৭ টাকা) ছাড়াও টিউশন ফি বাবদ গড়ে ৭২৬ ইউরো (প্রায় ৭০ হাজার টাকা) ধার্য করে। তবে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রিয়ার অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি মুক্ত। এ তালিকায় আছে ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়, ভিয়েনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়, জোহানেস কেপলার ইউনিভার্সিটি লিঞ্জ, গ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় ও লিওবেন বিশ্ববিদ্যালয়।

তাইওয়ান: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তি, ইতিহাস, রান্না, সংস্কৃতি, ভাষা ও প্রাকৃতিক সম্পদসহ অনেক বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগে ভরপুর এশিয়ার স্বঘোষিত এই দ্বীপদেশটি। এখানে বেশি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে পড়ছেন। বহুসাংস্কৃতিক ও ইতিহাসসমৃদ্ধ তাইওয়ান বিদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়। এখানে সাবলীলভাবে চলাফেরা করা যায়। বেশ কয়েক বছর ধরে তাইওয়ানের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা বেশ জনপ্রিয়। তাইওয়ানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়ার খরচ প্রতি বছর ৬৭৫ থেকে ১২ হাজার ৭০০ ইউরো (প্রায় ৬৫ হাজার টাকা থেকে ১২ লাখ ২৪ হাজার টাকা)। এখানে প্রতি মাসে কমপক্ষে প্রায় ৬৮০ থেকে ৮৮০ ইউরো (প্রায় ৬৫ হাজার ৫৪০ থেকে ৮৪ হাজার ৮২০ টাকা) খরচ করতে হবে।

তুরস্ক: এশিয়া ও ইউরোপকে স্পর্শ করে গড়ে ওঠা তুরস্ক স্থাপত্য বিস্ময় ও হট এয়ার বেলুন ট্রিপের জন্য বিখ্যাত। এখানকার যে বিষয়টি বিদেশি শিক্ষার্থীদের নজর কাড়ে তা হলো এর মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা। দেশটি ইউরোপীয় উচ্চশিক্ষা অঞ্চলের অংশ যা ‘বোলোগনা প্রক্রিয়া’ হিসেবে পরিচিত। এ কারণে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিপ্লোমা বা অন্যান্য ডিগ্রি ইউরোপে স্বীকৃত। তুরস্কের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাশ্রয়ী। একজন শিক্ষার্থীকে সাধারণত প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০০ থেকে ৪ হাজার ইউরোর (প্রায় ৯ হাজার ৬৪০ থেকে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৬ টাকা) মতো খরচ করতে হয়।

পোল্যান্ড: পোল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত নয় এমন দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে বছরে টিউশন ফি ২০০০ ডলার থেকে ৬ হাজার ২০০ ডলার। মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় ৪০০ ডলার থেকে ৬২৫ ডলার হতে পারে। স্নাতক করার পর ৯ মাস পর্যন্ত ওয়র্ক বা কাজের ভিসা পেতে পারেন শিক্ষার্থীরা।

মালয়েশিয়া: ২০২১ সালে মালয়েশিয়ার সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য মোট ১১ হাজার ১৬১ বিদেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পাবলিক প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি মালায়া ২০২২ সালে এশিয়ার শীর্ষ ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এখানকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রিতে প্রতি বছর খরচ হয় ২ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার ইউরো (১ লাখ ৯২ হাজার ৭৬০ থেকে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭২০ টাকা)। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে প্রতি বছর ৫০০ থেকে ৪ হাজার ইউরো (প্রায় ৪৮ হাজার ১৯০ থেকে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৬ টাকা) লেগে যায়। জীবনযাত্রার খরচের জন্য প্রতি মাসে ৪৫০ থেকে ৮০০ ইউরো (প্রায় ৪৩ হাজার ৩৭২ থেকে ৭৭ হাজার টাকা) প্রয়োজন হয়।

গ্রিস: ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী গ্রিস শুধু সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার নিয়েই গর্ব করে না, তারা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও গর্বিত। গ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজিতে পড়ার সুবিধা রেখেছে। ইইউভুক্ত দেশ হিসেবে গ্রিস ‘বোলোগনা প্রক্রিয়া’র সদস্য। শিক্ষার্থীরা ইউরোপের যে কোনো বোলোগনা সদস্য দেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট স্থানান্তর করতে পারেন। নন-ইউ/ইইএ শিক্ষার্থীদের জন্য বেশিরভাগ ব্যাচেলর ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য প্রতি শিক্ষাবর্ষে দেড় হাজার থেকে ২ হাজার ইউরোর (১ লাখ ৪৪ হাজার ৬০০ থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৭০ টাকা) মতো অর্থ খরচ করতে হয়। গ্রিসের সাশ্রয়ী পরিবেশে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর প্রতি মাসে ৪৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো (প্রায় ৪৩ হাজার ৩৭২ থেকে ৭২ হাজার ২৮৭ টাকা) প্রয়োজন হয়। এটি স্পেন, জার্মানি বা ইতালির তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী।

হাঙ্গেরি: বৈচিত্র্য ও বহুসংস্কৃতির চমৎকার মেলবন্ধন চোখের পড়বে হাঙ্গেরিতে ঘুরতে গেলে। এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো টিউশন ফির দিক থেকে পশ্চিমের সমকক্ষদের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। একজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর ১ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ইউরোর (প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬০ থেকে ৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা) প্রস্তুতি নিতে হয়। এ ছাড়া, বসবাসের জন্য প্রয়োজন ৩৭৫ থেকে ৭০০ ইউরো (প্রায় ৩৬ হাজার ১৪০ থেকে ৬৭ হাজার ৪৭০ টাকা)। এটি অবশ্যই শহর ভেদে ভিন্ন হয়। আবাসন, খাবার, পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে রাজধানী বুদাপেস্টে থাকতে গেলে প্রতি মাসে ৬০০ ইউরোর (প্রায় ৫৭ হাজার ৮৩০ টাকা) প্রয়োজন। ছোট শহরে প্রতি মাসে ৬০০ ইউরোর (প্রায় ৪৮ হাজার ২০০ টাকা) প্রয়োজন হতে পারে।

নরওয়ে: নরওয়ে দিনে দিনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ এখানকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি দিতে হবে না আপনাকে। তবে এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত নয় এমন দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের থেকে টিউশন ফি নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। কোনো কোনো বিষয়ের খরচ সে ক্ষেত্রে ১৩ হাজার ডলারের মতো পড়তে পারে। এখানে মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় ৭৩৫ থেকে ৯৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ালেখার পাশাপাশি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পান। স্নাতক শেষের পর এক বছরের ওয়র্ক ভিসা বা কাজের ভিসা পান।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কম খরচে পড়ার সুযোগ যে ১০ দেশে

আপডেট সময় ০৭:১০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০২৩

অনেকেই দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ালেখা করতে চান। তবে কোন দেশে পড়ালেখা করবেন সেটা ঠিক করার জন্য অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করতে হয়। উন্নত বিশ্বের কয়েকটি দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং অবকাঠামো অনবদ্য। এশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ বিদেশিদের কম খরচে পড়ার সুযোগ দেয়। আর্থিক সংকুলান না হলে আছে স্কলারশিপের ব্যবস্থা। এমন কিছু দেশ আছে যারা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই কম খরচে উন্নত শিক্ষার পাশাপাশি চাকরিরও সুযোগ প্রদান করে। ফলে, শিক্ষা ও জীবনধারণের ব্যয় সহজ হয়ে যায়।

তাই আপনার স্বপ্ন যদি হয় বিদেশে উচ্চশিক্ষা, তবে ১০টি দেশ আপনার জন্য হতে পারে অভিষ্ট গন্তব্য-

জার্মানি: সাধারণত জার্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একজন বিদেশি শিক্ষার্থীর সেমিস্টার প্রতি ৩১৫ থেকে ৫৩০ ডলার খরচ হবে। প্রতি মাসে থাকা-খাওয়ার অর্থাৎ জীবনযাত্রার ব্যয় পড়বে ৯৫০ ডলারের মতো। স্নাতক করার পর ১৮ মাসের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়র্ক ভিসা মেলে এখানে। এমনকি এখানে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফিই নেই।

ফ্রান্স: বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্গ বলা যেতে পারে ফ্রান্সকে। শুধু পড়াশোনার জন্যই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ইউরোপীয় বাজারে তাদের অভিজাত পদচারণা আছে। স্নাতকের পর বিদেশি শিক্ষার্থীরা সেখানে ব্যবসায়িক খাতে আকর্ষণীয় কাজের সুযোগ পেতে পারেন। সুস্বাদু খাবার থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক, ফ্যাশন, শিল্প-সাহিত্য ও জীবনধারা-প্রায় সবকিছুর আনন্দদায়ক মিশ্রণ পাওয়া যায় ফ্রান্সে। এখানে লাইসেন্স (স্নাতক) স্তরে বছরে খরচ হতে পারে ২ হাজার ৭৭০ ইউরো (প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা)। মাস্টার লেভেলে বছরে খরচ হতে পারে ৩ হাজার ৭৭০ ইউরো বা ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৪০০ টাকা। জীবনযাত্রার জন্য প্যারিস, নিস, লিয়ন, ন্যান্টেস, বোর্দো বা টুলুজের মতো অভিজাত শহরগুলো বাদ দিয়ে ছোট শহর বেছে নিলে ৬৫০ ইউরোর (প্রায় ৬২ হাজার ৬৫০ টাকা) কমে থাকা যাবে।

অস্ট্রিয়া: উরোপের প্রাণকেন্দ্র অস্ট্রিয়া যে কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে। ইইউ (ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন)/ইইএ (ইউরোপিয়ান ইকোনোমিক এরিয়া) দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফি একদম ফ্রি। কিন্তু, নন-ইউ/ইইএ দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এখানকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতি সেমিস্টারে ২০ ইউরো (প্রায় ১ হাজার ৯২৭ টাকা) ছাড়াও টিউশন ফি বাবদ গড়ে ৭২৬ ইউরো (প্রায় ৭০ হাজার টাকা) ধার্য করে। তবে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রিয়ার অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি মুক্ত। এ তালিকায় আছে ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়, ভিয়েনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়, জোহানেস কেপলার ইউনিভার্সিটি লিঞ্জ, গ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় ও লিওবেন বিশ্ববিদ্যালয়।

তাইওয়ান: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তি, ইতিহাস, রান্না, সংস্কৃতি, ভাষা ও প্রাকৃতিক সম্পদসহ অনেক বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগে ভরপুর এশিয়ার স্বঘোষিত এই দ্বীপদেশটি। এখানে বেশি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে পড়ছেন। বহুসাংস্কৃতিক ও ইতিহাসসমৃদ্ধ তাইওয়ান বিদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়। এখানে সাবলীলভাবে চলাফেরা করা যায়। বেশ কয়েক বছর ধরে তাইওয়ানের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা বেশ জনপ্রিয়। তাইওয়ানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়ার খরচ প্রতি বছর ৬৭৫ থেকে ১২ হাজার ৭০০ ইউরো (প্রায় ৬৫ হাজার টাকা থেকে ১২ লাখ ২৪ হাজার টাকা)। এখানে প্রতি মাসে কমপক্ষে প্রায় ৬৮০ থেকে ৮৮০ ইউরো (প্রায় ৬৫ হাজার ৫৪০ থেকে ৮৪ হাজার ৮২০ টাকা) খরচ করতে হবে।

তুরস্ক: এশিয়া ও ইউরোপকে স্পর্শ করে গড়ে ওঠা তুরস্ক স্থাপত্য বিস্ময় ও হট এয়ার বেলুন ট্রিপের জন্য বিখ্যাত। এখানকার যে বিষয়টি বিদেশি শিক্ষার্থীদের নজর কাড়ে তা হলো এর মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা। দেশটি ইউরোপীয় উচ্চশিক্ষা অঞ্চলের অংশ যা ‘বোলোগনা প্রক্রিয়া’ হিসেবে পরিচিত। এ কারণে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিপ্লোমা বা অন্যান্য ডিগ্রি ইউরোপে স্বীকৃত। তুরস্কের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাশ্রয়ী। একজন শিক্ষার্থীকে সাধারণত প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০০ থেকে ৪ হাজার ইউরোর (প্রায় ৯ হাজার ৬৪০ থেকে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৬ টাকা) মতো খরচ করতে হয়।

পোল্যান্ড: পোল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত নয় এমন দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে বছরে টিউশন ফি ২০০০ ডলার থেকে ৬ হাজার ২০০ ডলার। মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় ৪০০ ডলার থেকে ৬২৫ ডলার হতে পারে। স্নাতক করার পর ৯ মাস পর্যন্ত ওয়র্ক বা কাজের ভিসা পেতে পারেন শিক্ষার্থীরা।

মালয়েশিয়া: ২০২১ সালে মালয়েশিয়ার সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য মোট ১১ হাজার ১৬১ বিদেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পাবলিক প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি মালায়া ২০২২ সালে এশিয়ার শীর্ষ ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এখানকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রিতে প্রতি বছর খরচ হয় ২ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার ইউরো (১ লাখ ৯২ হাজার ৭৬০ থেকে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭২০ টাকা)। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে প্রতি বছর ৫০০ থেকে ৪ হাজার ইউরো (প্রায় ৪৮ হাজার ১৯০ থেকে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৬ টাকা) লেগে যায়। জীবনযাত্রার খরচের জন্য প্রতি মাসে ৪৫০ থেকে ৮০০ ইউরো (প্রায় ৪৩ হাজার ৩৭২ থেকে ৭৭ হাজার টাকা) প্রয়োজন হয়।

গ্রিস: ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী গ্রিস শুধু সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার নিয়েই গর্ব করে না, তারা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও গর্বিত। গ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজিতে পড়ার সুবিধা রেখেছে। ইইউভুক্ত দেশ হিসেবে গ্রিস ‘বোলোগনা প্রক্রিয়া’র সদস্য। শিক্ষার্থীরা ইউরোপের যে কোনো বোলোগনা সদস্য দেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট স্থানান্তর করতে পারেন। নন-ইউ/ইইএ শিক্ষার্থীদের জন্য বেশিরভাগ ব্যাচেলর ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য প্রতি শিক্ষাবর্ষে দেড় হাজার থেকে ২ হাজার ইউরোর (১ লাখ ৪৪ হাজার ৬০০ থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৭০ টাকা) মতো অর্থ খরচ করতে হয়। গ্রিসের সাশ্রয়ী পরিবেশে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর প্রতি মাসে ৪৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো (প্রায় ৪৩ হাজার ৩৭২ থেকে ৭২ হাজার ২৮৭ টাকা) প্রয়োজন হয়। এটি স্পেন, জার্মানি বা ইতালির তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী।

হাঙ্গেরি: বৈচিত্র্য ও বহুসংস্কৃতির চমৎকার মেলবন্ধন চোখের পড়বে হাঙ্গেরিতে ঘুরতে গেলে। এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো টিউশন ফির দিক থেকে পশ্চিমের সমকক্ষদের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। একজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর ১ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ইউরোর (প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬০ থেকে ৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা) প্রস্তুতি নিতে হয়। এ ছাড়া, বসবাসের জন্য প্রয়োজন ৩৭৫ থেকে ৭০০ ইউরো (প্রায় ৩৬ হাজার ১৪০ থেকে ৬৭ হাজার ৪৭০ টাকা)। এটি অবশ্যই শহর ভেদে ভিন্ন হয়। আবাসন, খাবার, পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে রাজধানী বুদাপেস্টে থাকতে গেলে প্রতি মাসে ৬০০ ইউরোর (প্রায় ৫৭ হাজার ৮৩০ টাকা) প্রয়োজন। ছোট শহরে প্রতি মাসে ৬০০ ইউরোর (প্রায় ৪৮ হাজার ২০০ টাকা) প্রয়োজন হতে পারে।

নরওয়ে: নরওয়ে দিনে দিনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ এখানকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি দিতে হবে না আপনাকে। তবে এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত নয় এমন দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের থেকে টিউশন ফি নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। কোনো কোনো বিষয়ের খরচ সে ক্ষেত্রে ১৩ হাজার ডলারের মতো পড়তে পারে। এখানে মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় ৭৩৫ থেকে ৯৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ালেখার পাশাপাশি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পান। স্নাতক শেষের পর এক বছরের ওয়র্ক ভিসা বা কাজের ভিসা পান।