০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩

বাড়ি ফিরছে মানুষ, ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ১১:০০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৩
  • / ৩৫ বার পড়া হয়েছে

ব্যস্ততম শহর রাজধানী ঢাকা। লাখ লাখ কর্মজীবীর বসবাস এখানে। শেষ সময়ে ঈদে ঘরে ফেরার তাড়া, ঈদ উদযাপনে নাড়ির টানে যে যেভাবে পারছেন বাড়ি ফিরছেন। বাস, ট্রেন, লঞ্চ- সবখানেই ঘরমুখো মানুষের ভিড়। ফলে ফাঁকা হয়ে পড়ছে ইট-পথরে মোড়ানো ঢাকা। চিরচেনা ব্যস্ত শহর যেন বিশ্রামে যাচ্ছে।

ঈদুল ফিতরের আগে গতকাল বুধবার (১৯ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের ঈদের ছুটি। সরকারি, আধা সরকারি এবং অনেক বেসরকারি অফিসে শেষ কর্মদিবস ছিল মঙ্গলবার। ওইদিন বিকেল থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল পর্যন্ত বিপুল মানুষ রাজধানী ছেড়েছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) শেষ কর্মদিবসের অফিস শেষে ঢাকার বাইরে গেছে ১২ লাখের বেশি সচল মোবাইল সিম। এর বিপরীতে ঢাকায় ঢুকেছে সাড়ে ৬ লাখের বেশি সিম। এই চিত্র বলে দিচ্ছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছেড়েছে। ছুটির দ্বিতীয় দিন বুধবারও ঘরমুখী মানুষের গন্তব্য ছিল বাস-রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটের দিকে।

ঘরমুখো মানুষের চাপে গতকাল ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে যানজট তৈরি হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে খিলগাঁও থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত তীব্র যানজট তৈরি হয়। এ সময় রাস্তা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে খিলগাঁও উড়ালসেতু, বাসাবো, টিটিপাড়া, গোলাপবাগ, মানিকনগর হয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে সায়েদাবাদ যেতে দেখা যায়। এদিকে যাত্রাবাড়ী-সায়দাবাদজুড়ে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। ভোরেই পরিবার পরিজন নিয়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন মানুষ। ফলে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে সকাল থেকেই।

এতে বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সায়েদাবাদের হানিফ পরিবনের টিকিট বিক্রেতা কামাল বলেন, এবার আগাম টিকিট বিক্রির সংখ্যা কমেছে। যাত্রীদের ভিড় অন্যান্যবারের চেয়ে কিছুটা কম মনে হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে গাড়ির সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এর সুফল পাচ্ছে ওই অঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। এ ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলের যাত্রীদের চাপ আগের মতোই আছে। যাত্রাবাড়ী এলাকার ট্রাফিক সার্জেন্ট মৃন্ময় বিশ্বাস বলেন, মানুষের চাপে এই যানজট তৈরি হয়েছে। বাসের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ভিড়।

পদ্মা সেতু চালুর পর গত বছরের মতো এবারও যাত্রীর চাপ ছিল স্বস্তিদায়ক। অনেকেই টার্মিনালে এসে টিকিট কেটে লঞ্চে চড়েছেন।বরিশাল যেতে সদরঘাটে আসেন সিয়াম ও অন্তু দমপতি। সিয়াম বলেন, আজ (বুধবার) সকালেই বরিশালের উদ্দেশে রওনা করছি। এবার ভিড়ও কম। সব মিলিয়ে যাত্রা এবার স্বস্তিদায়ক হবে। রাজধানীর উত্তর প্রান্তে আবদুল্লাপুরে তেমন যানজট দেখা যায়নি। শুধু বিমানবন্দর এলাকায় নির্মাণকাজের জন্য সড়কের কিছুটা জায়গা সরু হওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়।

যানজট এড়াতে পুলিশ আবদুল্লাপুর হয়ে পশ্চিমাঞ্চলগামী বাস দাঁড়ানোর জায়গা করেছে আবদুল্লাপুর মোড় থেকে এগিয়ে স্লুইস গেটে এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলগামী বাস দাঁড়ানোর জায়গা করেছে টঙ্গী বাজারের বাটার দোকান সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায়। প্রসঙ্গত, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার জন্য এ বছর ঢাকার ২০টি পয়েন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ৪৬টি পয়েন্ট নির্ধারণ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বাড়ি ফিরছে মানুষ, ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

আপডেট সময় ১১:০০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৩

ব্যস্ততম শহর রাজধানী ঢাকা। লাখ লাখ কর্মজীবীর বসবাস এখানে। শেষ সময়ে ঈদে ঘরে ফেরার তাড়া, ঈদ উদযাপনে নাড়ির টানে যে যেভাবে পারছেন বাড়ি ফিরছেন। বাস, ট্রেন, লঞ্চ- সবখানেই ঘরমুখো মানুষের ভিড়। ফলে ফাঁকা হয়ে পড়ছে ইট-পথরে মোড়ানো ঢাকা। চিরচেনা ব্যস্ত শহর যেন বিশ্রামে যাচ্ছে।

ঈদুল ফিতরের আগে গতকাল বুধবার (১৯ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের ঈদের ছুটি। সরকারি, আধা সরকারি এবং অনেক বেসরকারি অফিসে শেষ কর্মদিবস ছিল মঙ্গলবার। ওইদিন বিকেল থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল পর্যন্ত বিপুল মানুষ রাজধানী ছেড়েছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) শেষ কর্মদিবসের অফিস শেষে ঢাকার বাইরে গেছে ১২ লাখের বেশি সচল মোবাইল সিম। এর বিপরীতে ঢাকায় ঢুকেছে সাড়ে ৬ লাখের বেশি সিম। এই চিত্র বলে দিচ্ছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছেড়েছে। ছুটির দ্বিতীয় দিন বুধবারও ঘরমুখী মানুষের গন্তব্য ছিল বাস-রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটের দিকে।

ঘরমুখো মানুষের চাপে গতকাল ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে যানজট তৈরি হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে খিলগাঁও থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত তীব্র যানজট তৈরি হয়। এ সময় রাস্তা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে খিলগাঁও উড়ালসেতু, বাসাবো, টিটিপাড়া, গোলাপবাগ, মানিকনগর হয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে সায়েদাবাদ যেতে দেখা যায়। এদিকে যাত্রাবাড়ী-সায়দাবাদজুড়ে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। ভোরেই পরিবার পরিজন নিয়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন মানুষ। ফলে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে সকাল থেকেই।

এতে বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সায়েদাবাদের হানিফ পরিবনের টিকিট বিক্রেতা কামাল বলেন, এবার আগাম টিকিট বিক্রির সংখ্যা কমেছে। যাত্রীদের ভিড় অন্যান্যবারের চেয়ে কিছুটা কম মনে হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে গাড়ির সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এর সুফল পাচ্ছে ওই অঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। এ ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলের যাত্রীদের চাপ আগের মতোই আছে। যাত্রাবাড়ী এলাকার ট্রাফিক সার্জেন্ট মৃন্ময় বিশ্বাস বলেন, মানুষের চাপে এই যানজট তৈরি হয়েছে। বাসের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ভিড়।

পদ্মা সেতু চালুর পর গত বছরের মতো এবারও যাত্রীর চাপ ছিল স্বস্তিদায়ক। অনেকেই টার্মিনালে এসে টিকিট কেটে লঞ্চে চড়েছেন।বরিশাল যেতে সদরঘাটে আসেন সিয়াম ও অন্তু দমপতি। সিয়াম বলেন, আজ (বুধবার) সকালেই বরিশালের উদ্দেশে রওনা করছি। এবার ভিড়ও কম। সব মিলিয়ে যাত্রা এবার স্বস্তিদায়ক হবে। রাজধানীর উত্তর প্রান্তে আবদুল্লাপুরে তেমন যানজট দেখা যায়নি। শুধু বিমানবন্দর এলাকায় নির্মাণকাজের জন্য সড়কের কিছুটা জায়গা সরু হওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়।

যানজট এড়াতে পুলিশ আবদুল্লাপুর হয়ে পশ্চিমাঞ্চলগামী বাস দাঁড়ানোর জায়গা করেছে আবদুল্লাপুর মোড় থেকে এগিয়ে স্লুইস গেটে এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলগামী বাস দাঁড়ানোর জায়গা করেছে টঙ্গী বাজারের বাটার দোকান সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায়। প্রসঙ্গত, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার জন্য এ বছর ঢাকার ২০টি পয়েন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ৪৬টি পয়েন্ট নির্ধারণ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।