০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

বৃহত্তর সমাবেশের ডাক দিলেন শামীম ওসমান

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৮০ বার পড়া হয়েছে

‘দেশ বাচাঁও’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বৃহত্তর সমাবশের ডাক দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।

শনিবার নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় রাইফেলস ক্লাবে এক কর্মী সভায় এই ঘোষণা দেন তিনি।চলতি মাসের ১৬ তারিখ এই  সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন সমাবেশের স্থান নির্ধারণ হয়নি।

কর্মী সমাবেশে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানা ও উপজেলার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শামীম  ওসমান বলেন, আমি দেখছি সম্প্রতি জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনাকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেওয়া হচ্ছে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আন্দোলনের নামে মিছিল করা হচ্ছে। তারা শুধু জাতির পিতার কন্যা শেখ হসিনাকেই নয় বরং বঙ্গবন্ধুকে পর্যন্ত নোংরা ভাষায় গালি দিচ্ছে, যা মেনে নেওয়ার মত না। অন্তত আমরা মেনে নিতে পারবো না।

শামীম ওসমান বলেন, রাজনীতিতে কিছু হিসাব নিকাশের বিষয় আছে। আমি যে সব জানি তা না। তবে খোঁজ খবর রাখি। ওরা ষড়যন্ত্রের খেলায় মেতে উঠেছে। ওরা তারাই যারা স্বাধীনতার সময় ত্রিশ লাখ মানুষের জীবন নিয়েছিল। দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নিয়েছিল। ওরা ইসলামের কথা বলে মানুষ জবাই করেছিল। আমরা কি এই জন্য মাঠে নামবো, না এই জন্য মাঠে নামবো না। নামবো স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির জানান দিতে। কী লজ্জা আমাদের? এই শহীদদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন দেশ রক্ষা করতে আমাদের এক হতে হয়। এই বয়সে মুক্তিযোদ্ধাদের রাস্তায় নেমে শ্লোগান দিতে হয়। সেই সময়ে মুক্তিযোদ্ধারা শ্লোগান দিয়েছিলেন, ‘বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।’ আর আজকে আমাদের শ্লোগান ধরতে হয়, ‘বীর বাঙ্গালী ঐক্য গড়ো, বাংলাদেশ রক্ষা কর।’

বিএনপির আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি অনেক লাফালাফি করছে। কেউ বলছে, সাত দিনের মধ্যে সরকার পতন করে ফেলবে। কেউ বলছে এক মাসের মধ্যে করবে। কারা সরকার পতন করবে আর করবে না, এটা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ফায়সালা। তবে আমি বলি, আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাই হবেন সরকার প্রধান। আমরা যারা ৭৫ এর পরে রাজনীতিতে এসেছি তারা শেখ হাসিনাকে মায়ের দৃষ্টিতে দেখি। ওরা আমাদের মাকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করবে, এটাতো আমরা মেনে নিব না। এমন কর্মকাণ্ড আমরা মেনে নিতে পারি না।

শামীম ওসমান আরো বলেন, বিএনপি বলে পুলিশ নিয়ে চলি। আমি পুলিশের কাছে অনুরোধ করছি আপনাদের যত পুলিশ আছে, সব তাদের পক্ষে যান। সব নিয়ে ঘোষণা করেন পুলিশ আমাদের পক্ষে আছে, তারপর ২৪ ঘন্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ছাড়া করে দিব। আপনাদের স্মরণ থাকার কথা, আপনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আপনাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন মতিন চৌধুরী। নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন, আটকে দিয়েছিলাম। অনুমতি চেয়ে বলেছিলেন, আমি যাই। অনুমতি দেওয়ার পর চলে গিয়েছিলেন। আমাদের পুলিশ লাগে না।

অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণা হলে আমিও সমান, তুমিও সমান। তখন খেলবো। দেখা যাবে কতটুকু জোর কার। আসলে খেলার আগে রিহার্সেল লাগে। আমাদের অনেক নেতাকর্মীদের শরীরে চর্বি জমে গেছে। আমি বিশ্বাস করি আমার সঙ্গে যারা আছেন তারা ফিট আছেন। আমাদের মধ্যে কেউ আছেন যারা মনোনয়ন পাবার জন্য বলেন আপা আপা। কিন্তু মনোনয়ন পেলে আর কিছুই ঠিক থাকে না। এখানে আমরা যারা আছি সবাই কর্মী, কেউ নেতা না। আমরা মুজিব আদর্শের সৈনিক।

সমাবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, সেদিন নারায়ণগঞ্জের মানুষ দেখিয়ে দেবো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল আছে এবং থাকবে। আপনারা ১৬ তারিখ দেখিয়ে দেবেন, আমরা এমন আওয়াজ তুলব, যা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। সেদিন আমি মন্ত্রীকে দাওয়াত করব আশা করি কোনো ব্যস্ততা না থাকলে উনি উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, সাফায়েত আলম সানী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমানসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বৃহত্তর সমাবেশের ডাক দিলেন শামীম ওসমান

আপডেট সময় ১১:৩৩:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

‘দেশ বাচাঁও’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বৃহত্তর সমাবশের ডাক দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।

শনিবার নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় রাইফেলস ক্লাবে এক কর্মী সভায় এই ঘোষণা দেন তিনি।চলতি মাসের ১৬ তারিখ এই  সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন সমাবেশের স্থান নির্ধারণ হয়নি।

কর্মী সমাবেশে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানা ও উপজেলার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শামীম  ওসমান বলেন, আমি দেখছি সম্প্রতি জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনাকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেওয়া হচ্ছে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আন্দোলনের নামে মিছিল করা হচ্ছে। তারা শুধু জাতির পিতার কন্যা শেখ হসিনাকেই নয় বরং বঙ্গবন্ধুকে পর্যন্ত নোংরা ভাষায় গালি দিচ্ছে, যা মেনে নেওয়ার মত না। অন্তত আমরা মেনে নিতে পারবো না।

শামীম ওসমান বলেন, রাজনীতিতে কিছু হিসাব নিকাশের বিষয় আছে। আমি যে সব জানি তা না। তবে খোঁজ খবর রাখি। ওরা ষড়যন্ত্রের খেলায় মেতে উঠেছে। ওরা তারাই যারা স্বাধীনতার সময় ত্রিশ লাখ মানুষের জীবন নিয়েছিল। দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নিয়েছিল। ওরা ইসলামের কথা বলে মানুষ জবাই করেছিল। আমরা কি এই জন্য মাঠে নামবো, না এই জন্য মাঠে নামবো না। নামবো স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির জানান দিতে। কী লজ্জা আমাদের? এই শহীদদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন দেশ রক্ষা করতে আমাদের এক হতে হয়। এই বয়সে মুক্তিযোদ্ধাদের রাস্তায় নেমে শ্লোগান দিতে হয়। সেই সময়ে মুক্তিযোদ্ধারা শ্লোগান দিয়েছিলেন, ‘বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।’ আর আজকে আমাদের শ্লোগান ধরতে হয়, ‘বীর বাঙ্গালী ঐক্য গড়ো, বাংলাদেশ রক্ষা কর।’

বিএনপির আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি অনেক লাফালাফি করছে। কেউ বলছে, সাত দিনের মধ্যে সরকার পতন করে ফেলবে। কেউ বলছে এক মাসের মধ্যে করবে। কারা সরকার পতন করবে আর করবে না, এটা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ফায়সালা। তবে আমি বলি, আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাই হবেন সরকার প্রধান। আমরা যারা ৭৫ এর পরে রাজনীতিতে এসেছি তারা শেখ হাসিনাকে মায়ের দৃষ্টিতে দেখি। ওরা আমাদের মাকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করবে, এটাতো আমরা মেনে নিব না। এমন কর্মকাণ্ড আমরা মেনে নিতে পারি না।

শামীম ওসমান আরো বলেন, বিএনপি বলে পুলিশ নিয়ে চলি। আমি পুলিশের কাছে অনুরোধ করছি আপনাদের যত পুলিশ আছে, সব তাদের পক্ষে যান। সব নিয়ে ঘোষণা করেন পুলিশ আমাদের পক্ষে আছে, তারপর ২৪ ঘন্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ছাড়া করে দিব। আপনাদের স্মরণ থাকার কথা, আপনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আপনাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন মতিন চৌধুরী। নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন, আটকে দিয়েছিলাম। অনুমতি চেয়ে বলেছিলেন, আমি যাই। অনুমতি দেওয়ার পর চলে গিয়েছিলেন। আমাদের পুলিশ লাগে না।

অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণা হলে আমিও সমান, তুমিও সমান। তখন খেলবো। দেখা যাবে কতটুকু জোর কার। আসলে খেলার আগে রিহার্সেল লাগে। আমাদের অনেক নেতাকর্মীদের শরীরে চর্বি জমে গেছে। আমি বিশ্বাস করি আমার সঙ্গে যারা আছেন তারা ফিট আছেন। আমাদের মধ্যে কেউ আছেন যারা মনোনয়ন পাবার জন্য বলেন আপা আপা। কিন্তু মনোনয়ন পেলে আর কিছুই ঠিক থাকে না। এখানে আমরা যারা আছি সবাই কর্মী, কেউ নেতা না। আমরা মুজিব আদর্শের সৈনিক।

সমাবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, সেদিন নারায়ণগঞ্জের মানুষ দেখিয়ে দেবো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল আছে এবং থাকবে। আপনারা ১৬ তারিখ দেখিয়ে দেবেন, আমরা এমন আওয়াজ তুলব, যা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। সেদিন আমি মন্ত্রীকে দাওয়াত করব আশা করি কোনো ব্যস্ততা না থাকলে উনি উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, সাফায়েত আলম সানী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমানসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।