০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

মুরগির খুচরা দামে অসন্তোষ, যা বলছে পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৪:৩০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মার্চ ২০২৩
  • / ৭৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে বিদ্যমান ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৭৯টি খামারের মধ্যে চালু আছে ৯৫ হাজার ৫২৩টি খামার। দেশে মুরগির মাংসের উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ২৭৩ মেট্রিক টন হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার ২১৯ মেট্রিক টন। ফলে সক্ষমতা থেকে ২৫ দশমিক ৭১ শতাংশ কম।

একইভাবে ডিম উৎপাদনের সক্ষমতা দৈনিক যেখানে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৮২ হাজার ১৮৩টি সেখানে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে ৪ কোটি ৩২ লাখ ১৩ হাজার ৪১৮টি ডিম, যা উৎপাদন সক্ষমতা থেকে ২৫ ভাগ কম। রোববার (৫ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটি বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে করোনা পরিস্থিতি এবং পরবর্তীতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জনসাধরণের অন্যতম নিত্যপণ্যের মধ্যে ডিম ও মুরগির মাংসের খুচরা দাম নিয়ে অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পক্ষান্তরে খামারিরা তাদের উৎপাদন মূল্য না পাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই বন্ধ হচ্ছে কোনো না কোনো পোল্ট্রি খামার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির মহাসচিব খোন্দকার মো. মহসিন।

তিনি বলেন, করোনার সময় থেকে অদ্যবধি পোল্ট্রি সেক্টর থেকে কর্ম হারিয়ে বেকার হয়েছেন লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষ। প্রতিদিন স্ব-পেশা থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন অনেকেই। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের নিবন্ধনের ৩১ বছরের ইতিহাসে পোল্ট্রি সেক্টরে এমন নাজুক অবস্থা কখনো আসেনি। ডিম ও ব্রয়লার মাংসের বর্তমান বাজারদরে ছোট-বড় সব স্তরের পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ডিম ও মুরগি যে মূল্যে বিক্রি হচ্ছে উৎপাদন খরচ তার চেয়ে অনেক বেশি।

গতকাল গাজীপুরে ১টি ডিমের পাইকারি মূল্য ছিল ৯.৪৫ টাকা, পক্ষান্তরে ১টি ডিমের উৎপাদন খরচ ১১.৭১ টাকা। প্রতি ডিম বিক্রয়ে ক্ষতি হচ্ছে ২.২৬টাকা। এভাবে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বন্ধ হচ্ছে ডিম উৎপাদনকারী খামার। তিনি আরও জানান, অনেক সময় বাচ্চা বিক্রি করতে না পেরে বাচ্চা উৎপাদকারী প্রতিষ্ঠানগুলি ১ দিনের লাখ লাখ মুরগির বাচ্চা মেরে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। পোল্ট্রির ডিম ও মাংস উৎপাদনে ৬৮ থেকে ৭০ ভাগ খরচ হয় খাদ্যে। আর এ খাদ্যের বেশির ভাগ উপাদান বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

আমদানির জন্য ৮৪ টাকার ডলার ১১০ টাকা দিয়েও সহজলভ্য হচ্ছে না। জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি, ডিজেল, বিদ্যুৎ, পরিবহনসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধির ফলে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। পোল্ট্রি খাদ্যে ব্যবহৃত হয় এমন সবকয়টি খাদ্য উপাদানের মূল্যবৃদ্ধিসহ দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে কোনো না কোনোটি। বর্তমানে খাদ্য উপাদান সংকট চরমে। প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান আমদানির জন্য চাহিদা মতো এলসি ওপেন করতে না পারলে একে একে বন্ধ হবে ছোট-বড় আরও পোল্ট্রি খামারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

মুরগির খুচরা দামে অসন্তোষ, যা বলছে পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন

আপডেট সময় ০৪:৩০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মার্চ ২০২৩

বাংলাদেশে বিদ্যমান ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৭৯টি খামারের মধ্যে চালু আছে ৯৫ হাজার ৫২৩টি খামার। দেশে মুরগির মাংসের উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ২৭৩ মেট্রিক টন হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার ২১৯ মেট্রিক টন। ফলে সক্ষমতা থেকে ২৫ দশমিক ৭১ শতাংশ কম।

একইভাবে ডিম উৎপাদনের সক্ষমতা দৈনিক যেখানে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৮২ হাজার ১৮৩টি সেখানে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে ৪ কোটি ৩২ লাখ ১৩ হাজার ৪১৮টি ডিম, যা উৎপাদন সক্ষমতা থেকে ২৫ ভাগ কম। রোববার (৫ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটি বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে করোনা পরিস্থিতি এবং পরবর্তীতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জনসাধরণের অন্যতম নিত্যপণ্যের মধ্যে ডিম ও মুরগির মাংসের খুচরা দাম নিয়ে অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পক্ষান্তরে খামারিরা তাদের উৎপাদন মূল্য না পাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই বন্ধ হচ্ছে কোনো না কোনো পোল্ট্রি খামার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির মহাসচিব খোন্দকার মো. মহসিন।

তিনি বলেন, করোনার সময় থেকে অদ্যবধি পোল্ট্রি সেক্টর থেকে কর্ম হারিয়ে বেকার হয়েছেন লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষ। প্রতিদিন স্ব-পেশা থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন অনেকেই। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের নিবন্ধনের ৩১ বছরের ইতিহাসে পোল্ট্রি সেক্টরে এমন নাজুক অবস্থা কখনো আসেনি। ডিম ও ব্রয়লার মাংসের বর্তমান বাজারদরে ছোট-বড় সব স্তরের পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ডিম ও মুরগি যে মূল্যে বিক্রি হচ্ছে উৎপাদন খরচ তার চেয়ে অনেক বেশি।

গতকাল গাজীপুরে ১টি ডিমের পাইকারি মূল্য ছিল ৯.৪৫ টাকা, পক্ষান্তরে ১টি ডিমের উৎপাদন খরচ ১১.৭১ টাকা। প্রতি ডিম বিক্রয়ে ক্ষতি হচ্ছে ২.২৬টাকা। এভাবে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বন্ধ হচ্ছে ডিম উৎপাদনকারী খামার। তিনি আরও জানান, অনেক সময় বাচ্চা বিক্রি করতে না পেরে বাচ্চা উৎপাদকারী প্রতিষ্ঠানগুলি ১ দিনের লাখ লাখ মুরগির বাচ্চা মেরে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। পোল্ট্রির ডিম ও মাংস উৎপাদনে ৬৮ থেকে ৭০ ভাগ খরচ হয় খাদ্যে। আর এ খাদ্যের বেশির ভাগ উপাদান বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

আমদানির জন্য ৮৪ টাকার ডলার ১১০ টাকা দিয়েও সহজলভ্য হচ্ছে না। জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি, ডিজেল, বিদ্যুৎ, পরিবহনসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধির ফলে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। পোল্ট্রি খাদ্যে ব্যবহৃত হয় এমন সবকয়টি খাদ্য উপাদানের মূল্যবৃদ্ধিসহ দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে কোনো না কোনোটি। বর্তমানে খাদ্য উপাদান সংকট চরমে। প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান আমদানির জন্য চাহিদা মতো এলসি ওপেন করতে না পারলে একে একে বন্ধ হবে ছোট-বড় আরও পোল্ট্রি খামারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।