১২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

মেট্রোরেলে ঢিল, যে শাস্তি হতে পারে অভিযুক্তদের

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ১২:৫৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মে ২০২৩
  • / ৫৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের প্রথম বিদ্যুৎচালিত গণপরিবহন মেট্রোরেলে ঢিল ছোড়ার ঘটনায় ১০ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ এনে একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করেছেন মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

রোববার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। সোমবার রাতে মেট্রোরেলের লাইন অপারেশন শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক সামিউল কাদের বাদী হয়ে মেট্রোরেল আইন-২০১৫-এর ৩৫ ও ৪৩ ধারাসহ দণ্ডবিধি ৪২৭ ধারায় একটি মামলা করেন। গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের এমন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দণ্ডবিধি অনুযায়ী জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে চায় রাষ্ট্রপক্ষ। মেট্রোরেল আইনের যেসব ধারায় মামলা হয়েছে এর মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকার জরিমানা। আর সর্বনিম্ন শাস্তি হচ্ছে দুই বছরের কারাদণ্ড। মেট্রোরেলে ঢিল নিক্ষেপকারীদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেদিকে নজর রাখছেন রাষ্ট্রপক্ষ। তারা চান, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যেন ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের গর্হিত অপরাধে না জড়ায়।

মেট্রোরেল আইন ২০১৫-এর ৩৫ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি মেট্রোরেল ও উহার যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় বা বিঘ্নিত হইবার সম্ভাবনা থাকে এইরূপ কোনো কর্মকাণ্ড সম্পাদন করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তির কার্যটি হবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। আইনটির ৪৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন বা উক্ত অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা দেন বা ষড়যন্ত্র করেন এবং উক্ত ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনার ফলে সংশ্লিষ্ট অপরাধটি সংঘটিত হয়, তাহলে উক্ত সহায়তাকারী, ষড়যন্ত্রকারী বা প্ররোচনাদানকারী উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি আইনের ৪২৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ক্ষতিসাধন করে এবং তদ্বারা পঞ্চাশ টাকা বা তদূর্ধ্ব পরিমাণ অর্থের অনিষ্ট করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডের, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন। উল্লেখ্য, রোববার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁও থেকে উত্তরা-উত্তর স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া মেট্রোরেলের একটি কোচ সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার মধ্যবর্তী স্থালে পৌঁছালে দুষ্কৃতকারীদের ঢিল কোচটির জানালায় আঘাত হানে। জানা গেছে, ঘটনাস্থলের পাশে বহুতল ভবন ছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারণা, কোনো দুর্বৃত্ত পূর্বপাশের কোনো ভবন বা ছাদ থেকে ঢিল ছুড়তে পারে। পুলিশ বলছে, মেট্রোরেলে ঢিল ছোড়ার ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি), র‌্যাপিড আ্যকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) আরও কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

মেট্রোরেলে ঢিল, যে শাস্তি হতে পারে অভিযুক্তদের

আপডেট সময় ১২:৫৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মে ২০২৩

দেশের প্রথম বিদ্যুৎচালিত গণপরিবহন মেট্রোরেলে ঢিল ছোড়ার ঘটনায় ১০ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ এনে একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করেছেন মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

রোববার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। সোমবার রাতে মেট্রোরেলের লাইন অপারেশন শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক সামিউল কাদের বাদী হয়ে মেট্রোরেল আইন-২০১৫-এর ৩৫ ও ৪৩ ধারাসহ দণ্ডবিধি ৪২৭ ধারায় একটি মামলা করেন। গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের এমন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দণ্ডবিধি অনুযায়ী জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে চায় রাষ্ট্রপক্ষ। মেট্রোরেল আইনের যেসব ধারায় মামলা হয়েছে এর মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকার জরিমানা। আর সর্বনিম্ন শাস্তি হচ্ছে দুই বছরের কারাদণ্ড। মেট্রোরেলে ঢিল নিক্ষেপকারীদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেদিকে নজর রাখছেন রাষ্ট্রপক্ষ। তারা চান, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যেন ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের গর্হিত অপরাধে না জড়ায়।

মেট্রোরেল আইন ২০১৫-এর ৩৫ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি মেট্রোরেল ও উহার যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় বা বিঘ্নিত হইবার সম্ভাবনা থাকে এইরূপ কোনো কর্মকাণ্ড সম্পাদন করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তির কার্যটি হবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। আইনটির ৪৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন বা উক্ত অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা দেন বা ষড়যন্ত্র করেন এবং উক্ত ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনার ফলে সংশ্লিষ্ট অপরাধটি সংঘটিত হয়, তাহলে উক্ত সহায়তাকারী, ষড়যন্ত্রকারী বা প্ররোচনাদানকারী উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি আইনের ৪২৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ক্ষতিসাধন করে এবং তদ্বারা পঞ্চাশ টাকা বা তদূর্ধ্ব পরিমাণ অর্থের অনিষ্ট করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডের, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন। উল্লেখ্য, রোববার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁও থেকে উত্তরা-উত্তর স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া মেট্রোরেলের একটি কোচ সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার মধ্যবর্তী স্থালে পৌঁছালে দুষ্কৃতকারীদের ঢিল কোচটির জানালায় আঘাত হানে। জানা গেছে, ঘটনাস্থলের পাশে বহুতল ভবন ছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারণা, কোনো দুর্বৃত্ত পূর্বপাশের কোনো ভবন বা ছাদ থেকে ঢিল ছুড়তে পারে। পুলিশ বলছে, মেট্রোরেলে ঢিল ছোড়ার ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি), র‌্যাপিড আ্যকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) আরও কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।