০২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪

স্পেনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু

বিশেষ প্রতিবেদন
  • আপডেট সময় ১০:৩৬:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ জুলাই ২০২৩
  • / ১৩২ বার পড়া হয়েছে

স্পেন-প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হয়েছে।

রোববার (৯ জুলাই) স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদের সভাপতিত্বে এ উপলক্ষো দূতাবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুতাসিমুল ইসলাম।

সংখ্যাধিক্যের দিক থেকে স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সিস্টেম প্রবর্তনের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হল। এখন থেকে স্পেন-প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকগণ ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত সকল সেবা ও সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।

দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সিস্টেমের পাশাপাশি এমআরপি কার্যক্রমও যথারীতি অব্যাহত থাকবে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে সরকার ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন করে, যা স্মার্ট বাংলাদেশ-এ উত্তরণের দৃপ্ত অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নিরাপদ ভ্রমণ দলিল ই-পাসপোর্ট একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে ‘ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ’ রয়েছে। এতে ৩৮টিরও অধিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত মাইক্রোপ্রসেসর চিপে বায়োমেট্রিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যথা পাসপোর্টধারীর রঙিন ছবি, দশ আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ, স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা, পূর্ববর্তী পাসপোর্টের রেকর্ড, ইত্যাদি সঞ্চিত থাকে। ই-পাসপোর্ট সিস্টেমের সঙ্গে এমআরপি সিস্টেমের ইন্ট্রিগ্রেশন ও মাইগ্রেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে, পূর্বের পাসপোর্টের সকল তথ্যই এতে সংরক্ষিত থাকবে।

ই-পাসপোর্ট সিস্টেমে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদন ফরম পূরণ করা এবং অনলাইনে পাসপোর্ট ফি প্রদানের সুযোগ রয়েছে। আবেদনের সঙ্গে দাখিলকৃত তথ্য যাচাইসহ আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সর্বশেষ স্ট্যাটাস মুহূর্তেই জানা যায়। বয়সের ঊর্ধ্বসীমা নির্বিশেষে যেকোনো নাগরিক ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট নিতে পারবেন। ই-পাসপোর্ট সিস্টেমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদের ডেটাবেইস, ৭২টি এসবি/ডিএসবি অফিস, ই-হজ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া, তথ্যের নিরাপত্তার জন্য পৃথক ডেটা সেন্টার ও disaster recovery site স্থাপন করা হয়েছে।

বর্তমানে বিদেশস্থ ২৫টি বাংলাদেশ মিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২৬তম মিশন হিসেবে আজ স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সিস্টেম চালু হল। ভবিষ্যতে বিদেশস্থ আরও ৫৪টি মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করা হবে। ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল, ই-গেইট ব্যবহার করে একজন ই-পাসপোর্টধারী অনায়াসে এবং দ্রুততার সাথে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

বর্তমানে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহআমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বেনাপোল স্থলবন্দরসহ মোট ৪২টি ই-গেইট চালু রয়েছে। বাংলাবান্ধা, আখাউড়া ও মুজিবনগর স্থলবন্দরসহ আরও ১০টি ই-গেইট স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

স্পেনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু

আপডেট সময় ১০:৩৬:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ জুলাই ২০২৩

স্পেন-প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হয়েছে।

রোববার (৯ জুলাই) স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদের সভাপতিত্বে এ উপলক্ষো দূতাবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুতাসিমুল ইসলাম।

সংখ্যাধিক্যের দিক থেকে স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সিস্টেম প্রবর্তনের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হল। এখন থেকে স্পেন-প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকগণ ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত সকল সেবা ও সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।

দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সিস্টেমের পাশাপাশি এমআরপি কার্যক্রমও যথারীতি অব্যাহত থাকবে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে সরকার ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন করে, যা স্মার্ট বাংলাদেশ-এ উত্তরণের দৃপ্ত অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নিরাপদ ভ্রমণ দলিল ই-পাসপোর্ট একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে ‘ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ’ রয়েছে। এতে ৩৮টিরও অধিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত মাইক্রোপ্রসেসর চিপে বায়োমেট্রিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যথা পাসপোর্টধারীর রঙিন ছবি, দশ আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ, স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা, পূর্ববর্তী পাসপোর্টের রেকর্ড, ইত্যাদি সঞ্চিত থাকে। ই-পাসপোর্ট সিস্টেমের সঙ্গে এমআরপি সিস্টেমের ইন্ট্রিগ্রেশন ও মাইগ্রেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে, পূর্বের পাসপোর্টের সকল তথ্যই এতে সংরক্ষিত থাকবে।

ই-পাসপোর্ট সিস্টেমে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদন ফরম পূরণ করা এবং অনলাইনে পাসপোর্ট ফি প্রদানের সুযোগ রয়েছে। আবেদনের সঙ্গে দাখিলকৃত তথ্য যাচাইসহ আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সর্বশেষ স্ট্যাটাস মুহূর্তেই জানা যায়। বয়সের ঊর্ধ্বসীমা নির্বিশেষে যেকোনো নাগরিক ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট নিতে পারবেন। ই-পাসপোর্ট সিস্টেমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদের ডেটাবেইস, ৭২টি এসবি/ডিএসবি অফিস, ই-হজ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া, তথ্যের নিরাপত্তার জন্য পৃথক ডেটা সেন্টার ও disaster recovery site স্থাপন করা হয়েছে।

বর্তমানে বিদেশস্থ ২৫টি বাংলাদেশ মিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২৬তম মিশন হিসেবে আজ স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সিস্টেম চালু হল। ভবিষ্যতে বিদেশস্থ আরও ৫৪টি মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করা হবে। ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল, ই-গেইট ব্যবহার করে একজন ই-পাসপোর্টধারী অনায়াসে এবং দ্রুততার সাথে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

বর্তমানে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহআমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বেনাপোল স্থলবন্দরসহ মোট ৪২টি ই-গেইট চালু রয়েছে। বাংলাবান্ধা, আখাউড়া ও মুজিবনগর স্থলবন্দরসহ আরও ১০টি ই-গেইট স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।