০২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

‘হিজরতের’ ডাকে ঘরছাড়া ৫৫ তরুণের ৩৩ জন শনাক্ত

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৭:০৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০২৩
  • / ৭৯ বার পড়া হয়েছে

জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়ার ‘হিজরতের’ ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরছাড়া ৫৫ তরুণের মধ্যে ৩৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বাকি ২১ জন জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পেই রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান, র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

নতুন জঙ্গি সংগঠনটির আমির আনিছুর রহমান ওরফে মাহমুদ এবং দাওয়াতি শাখার প্রধান আব্দুল্লাহ মাইমুনের সদস্য ও অর্থ সংগ্রহবিষয়ক উগ্রবাদী বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও কনটেন্ট উদ্ধার হওয়ার পর এ তথ্য জানায় র‌্যাব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পাহাড়ে প্রশিক্ষণরত আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরমধ্যে গ্রেপ্তার আল আমিন ওরফে মিলদুকের কাছ থেকে ওই ভিডিওটি উদ্ধার করা হয়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তার নতুন জঙ্গি সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমান ওরফে রনবীরের কাছ থেকে একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়। ওই ভিডিওতে মোট ২৯ জন জঙ্গিকে শনাক্ত করা হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি উদ্ধার হওয়া নতুন ভিডিওতে আরও ২৩ জন জঙ্গিকে শনাক্ত করা হয়। ওই ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জন জঙ্গি আগের ভিডিওতেও ছিলেন। আর চারজন নতুন জঙ্গির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভিডিওর তথ্যানুযায়ী, এরমধ্যে ডা. জহিরুল নামে একজন গত বছরের ৬ জুন মারা গেছেন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ভিডিওতে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে থাকা মোট ৩৩ জনকে শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, মূলত অর্থ এবং সদস্য সংগ্রহের জন্য ভিডিওটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। অপরদিকে দেশে বড় কোনো নাশকতার পর নিজেদের অস্তিত্ব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে জানান দেওয়াও এই ভিডিওর উদ্দেশ্য হতে পারে। সংগঠনটির আমির রাকিব বা দাওয়াতি শাখার প্রধান মাইমুনকে গ্রেপ্তার করতে পারলে বিস্তারিত জানা যাবে।

পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নিজেদের স্বার্থে নতুন জঙ্গি সংগঠনকে আশ্রয়, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে জানান, র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি আরও জানান, র‌্যাবের অব্যাহত অভিযানে এখন পর্যন্ত জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়ার ৫৯ জন জঙ্গি ও তাদের প্রশিক্ষণে সহায়তার অভিযোগে ১৭ জন কেএনএফ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনের দুইজনকে ডির‌্যাডিকালাইজড করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

‘হিজরতের’ ডাকে ঘরছাড়া ৫৫ তরুণের ৩৩ জন শনাক্ত

আপডেট সময় ০৭:০৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০২৩

জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়ার ‘হিজরতের’ ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরছাড়া ৫৫ তরুণের মধ্যে ৩৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বাকি ২১ জন জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পেই রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান, র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

নতুন জঙ্গি সংগঠনটির আমির আনিছুর রহমান ওরফে মাহমুদ এবং দাওয়াতি শাখার প্রধান আব্দুল্লাহ মাইমুনের সদস্য ও অর্থ সংগ্রহবিষয়ক উগ্রবাদী বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও কনটেন্ট উদ্ধার হওয়ার পর এ তথ্য জানায় র‌্যাব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পাহাড়ে প্রশিক্ষণরত আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরমধ্যে গ্রেপ্তার আল আমিন ওরফে মিলদুকের কাছ থেকে ওই ভিডিওটি উদ্ধার করা হয়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তার নতুন জঙ্গি সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমান ওরফে রনবীরের কাছ থেকে একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়। ওই ভিডিওতে মোট ২৯ জন জঙ্গিকে শনাক্ত করা হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি উদ্ধার হওয়া নতুন ভিডিওতে আরও ২৩ জন জঙ্গিকে শনাক্ত করা হয়। ওই ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জন জঙ্গি আগের ভিডিওতেও ছিলেন। আর চারজন নতুন জঙ্গির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভিডিওর তথ্যানুযায়ী, এরমধ্যে ডা. জহিরুল নামে একজন গত বছরের ৬ জুন মারা গেছেন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ভিডিওতে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে থাকা মোট ৩৩ জনকে শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, মূলত অর্থ এবং সদস্য সংগ্রহের জন্য ভিডিওটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। অপরদিকে দেশে বড় কোনো নাশকতার পর নিজেদের অস্তিত্ব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে জানান দেওয়াও এই ভিডিওর উদ্দেশ্য হতে পারে। সংগঠনটির আমির রাকিব বা দাওয়াতি শাখার প্রধান মাইমুনকে গ্রেপ্তার করতে পারলে বিস্তারিত জানা যাবে।

পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নিজেদের স্বার্থে নতুন জঙ্গি সংগঠনকে আশ্রয়, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে জানান, র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি আরও জানান, র‌্যাবের অব্যাহত অভিযানে এখন পর্যন্ত জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়ার ৫৯ জন জঙ্গি ও তাদের প্রশিক্ষণে সহায়তার অভিযোগে ১৭ জন কেএনএফ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনের দুইজনকে ডির‌্যাডিকালাইজড করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।