০৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

অনলাইনে ক্লাস করাবে কোন স্কুল?

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৫:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

মহানগরে মাধ্যমিক স্তরের কিছু স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনদিন অনলাইন ও বাকি তিনদিন অফলাইনে (সশরীরে) ক্লাস চালুর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস হবে। অন্যদিকে, শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা স্কুলে উপস্থিত হয়ে অফলাইন ক্লাসে অংশ নেবে। এহছানুল হক মিলন বলেন, শনিবার স্কুলে ক্লাস হবে, এদিন ট্রাফিক কম। রোববার অনলাইনে ক্লাস করতে চাই, শিক্ষকরা স্কুলে এসে ক্লাস করবেন।

সোমবার স্কুলে আনতে চাই। মঙ্গলবার স্কুলে আসব না, অনলাইনে ক্লাস। বুধবার আনতে চাই। বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস। শুক্রবার অনলাইনে ক্লাস করালে বাবা-মায়েদের সমস্যা হবে। আমরা পাইলট হিসেবে চালু করব। কিন্তু শিক্ষকদের স্কুলে এসে ক্লাসে অংশ নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা তিন দিন অনলাইনে ও তিন দিন স্কুলে এনে ক্লাস করব। আমরা কাউকে ফোর্স করছি না, বৃহৎ স্কুলগুলো, ভালো স্কুলগুলোকে ব্লেন্ডিং এডুকেশনে যাওয়ার জন্য আমরা এই কাজগুলো হাতে নিয়েছি। স্কুলগুলোকে প্রিভিলেজ দিচ্ছি যে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি কিনতে। আর ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে বসে কথা বলব।

অনলাইন ক্লাস কি সারা দেশে শুরু হবে– জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মহানগরে যেখানে যানজট হয়। মহানগর বলতে বরিশালের বা ময়মনসিংহের কথা বলিনি। আমাদের শহরের রিনাউন স্কুলগুলো, যেটাতে গাড়ি নিয়ে আসে যায়, যানজট তৈরি করে। আমরা সারা বাংলাদেশ না, সারা মেট্রোপলিটন না। আমরা যদি প্রস্তুতি নিতে পারি, তাহলে সারা দেশে যাব। হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আমরা ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেব। নতুন এই পদ্ধতিতে কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে– জানতে চাইলে এহছানুল হক মিলন বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে এই পদ্ধতিতে ক্লাস হবে।

কোন কোন স্কুলে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস হবে, তার কোনো তালিকা করা হয়েছে কি না– জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, শুনুন, এটা করোনা না যে আমরা জোর করে শুরু করব। এটা ব্লেন্ডিং এডুকেশন। যারা অ্যাফোর্ড করতে পারবে, যাদের অনেক বাচ্চা গাড়িতে করে আসে তারা করবে। আমি কাউকে জোর করে করতে বলিনি। শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক বলেন, ঢাকা শহরের কিছু নির্দিষ্ট স্কুল, মহানগরীর কিছু নামকরা স্কুলে, যেখানে বাচ্চারা গাড়িতে করে যায়। সেসব স্কুলে অনলাইনে ক্লাস চালু করা হবে।

পুরান ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোডের নাজিরাবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রোজিনা আক্তার শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমার স্কুলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তৃণমূল পর্যায়ের। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সবজি বিক্রেতার সন্তানেরা পড়ে, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর বাসায় অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল– প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন পাব কি না? সেক্ষেত্রে আমি কী করতে যাব?

এসব শ্রেণির স্কুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, না। আপনাকে আমরা ইনক্লুড করিনি। আমরা বলছি নামিদামি স্কুলগুলো, যেখানে ৯০ শতাংশের বেশি গাড়ি নিয়ে আসে, সেই স্কুলগুলোর জন্য। আপনাকে আমরা এ ব্যাপারে ইনসিস্ট করছি না। যেগুলো ভালো স্কুল, সেগুলো আস্তে আস্তে শুরু করুক। তালিকাগুলো আমরা দেব।

অন্য স্কুলগুলো সপ্তাহে ৫ দিন না ৬ দিন স্কুল করবে– এমন প্রশ্নে এহছানুল হক মিলন বলেন, তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের মতো করে ক্লাস করবে। অর্থাৎ আগের মতো পাঁচদিন ক্লাস করবে বলে জানান মন্ত্রী।

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর আগামী জুলাই থেকে ও লেভেল, এ লেভেল পরীক্ষা, তারা অনলাইনে যেতে চাইছে না– এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য কী সিদ্ধান্ত– জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সেগুলো আরেকটি বিষয়। পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে তাদের মতামত নেওয়া হয়। এসময় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইন ক্লাস চালুর জন্য প্রস্তুতি নিতে সময় চান।

বিডি পলিটিক্স/বিইউ

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

অনলাইনে ক্লাস করাবে কোন স্কুল?

আপডেট সময় ০৫:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

মহানগরে মাধ্যমিক স্তরের কিছু স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনদিন অনলাইন ও বাকি তিনদিন অফলাইনে (সশরীরে) ক্লাস চালুর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস হবে। অন্যদিকে, শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা স্কুলে উপস্থিত হয়ে অফলাইন ক্লাসে অংশ নেবে। এহছানুল হক মিলন বলেন, শনিবার স্কুলে ক্লাস হবে, এদিন ট্রাফিক কম। রোববার অনলাইনে ক্লাস করতে চাই, শিক্ষকরা স্কুলে এসে ক্লাস করবেন।

সোমবার স্কুলে আনতে চাই। মঙ্গলবার স্কুলে আসব না, অনলাইনে ক্লাস। বুধবার আনতে চাই। বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস। শুক্রবার অনলাইনে ক্লাস করালে বাবা-মায়েদের সমস্যা হবে। আমরা পাইলট হিসেবে চালু করব। কিন্তু শিক্ষকদের স্কুলে এসে ক্লাসে অংশ নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা তিন দিন অনলাইনে ও তিন দিন স্কুলে এনে ক্লাস করব। আমরা কাউকে ফোর্স করছি না, বৃহৎ স্কুলগুলো, ভালো স্কুলগুলোকে ব্লেন্ডিং এডুকেশনে যাওয়ার জন্য আমরা এই কাজগুলো হাতে নিয়েছি। স্কুলগুলোকে প্রিভিলেজ দিচ্ছি যে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি কিনতে। আর ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে বসে কথা বলব।

অনলাইন ক্লাস কি সারা দেশে শুরু হবে– জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মহানগরে যেখানে যানজট হয়। মহানগর বলতে বরিশালের বা ময়মনসিংহের কথা বলিনি। আমাদের শহরের রিনাউন স্কুলগুলো, যেটাতে গাড়ি নিয়ে আসে যায়, যানজট তৈরি করে। আমরা সারা বাংলাদেশ না, সারা মেট্রোপলিটন না। আমরা যদি প্রস্তুতি নিতে পারি, তাহলে সারা দেশে যাব। হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আমরা ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেব। নতুন এই পদ্ধতিতে কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে– জানতে চাইলে এহছানুল হক মিলন বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে এই পদ্ধতিতে ক্লাস হবে।

কোন কোন স্কুলে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস হবে, তার কোনো তালিকা করা হয়েছে কি না– জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, শুনুন, এটা করোনা না যে আমরা জোর করে শুরু করব। এটা ব্লেন্ডিং এডুকেশন। যারা অ্যাফোর্ড করতে পারবে, যাদের অনেক বাচ্চা গাড়িতে করে আসে তারা করবে। আমি কাউকে জোর করে করতে বলিনি। শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক বলেন, ঢাকা শহরের কিছু নির্দিষ্ট স্কুল, মহানগরীর কিছু নামকরা স্কুলে, যেখানে বাচ্চারা গাড়িতে করে যায়। সেসব স্কুলে অনলাইনে ক্লাস চালু করা হবে।

পুরান ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোডের নাজিরাবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রোজিনা আক্তার শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমার স্কুলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তৃণমূল পর্যায়ের। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সবজি বিক্রেতার সন্তানেরা পড়ে, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর বাসায় অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল– প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন পাব কি না? সেক্ষেত্রে আমি কী করতে যাব?

এসব শ্রেণির স্কুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, না। আপনাকে আমরা ইনক্লুড করিনি। আমরা বলছি নামিদামি স্কুলগুলো, যেখানে ৯০ শতাংশের বেশি গাড়ি নিয়ে আসে, সেই স্কুলগুলোর জন্য। আপনাকে আমরা এ ব্যাপারে ইনসিস্ট করছি না। যেগুলো ভালো স্কুল, সেগুলো আস্তে আস্তে শুরু করুক। তালিকাগুলো আমরা দেব।

অন্য স্কুলগুলো সপ্তাহে ৫ দিন না ৬ দিন স্কুল করবে– এমন প্রশ্নে এহছানুল হক মিলন বলেন, তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের মতো করে ক্লাস করবে। অর্থাৎ আগের মতো পাঁচদিন ক্লাস করবে বলে জানান মন্ত্রী।

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর আগামী জুলাই থেকে ও লেভেল, এ লেভেল পরীক্ষা, তারা অনলাইনে যেতে চাইছে না– এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য কী সিদ্ধান্ত– জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সেগুলো আরেকটি বিষয়। পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে তাদের মতামত নেওয়া হয়। এসময় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইন ক্লাস চালুর জন্য প্রস্তুতি নিতে সময় চান।

বিডি পলিটিক্স/বিইউ