০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন চেয়ে ফোন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু এই আবদারে সায় না পেয়েই ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প- বলছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এক ফোনকল আর নোবেল পুরস্কারের আবদারেই তিক্ত ট্রাম্প-মোদী সম্পর্ক

মিজানুর রহমান খান - বিশেষ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • আপডেট সময় ১২:০৪:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৩৬ বার পড়া হয়েছে

নরেন্দ্র মোদী ও ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

 

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বন্ধত্বপূর্ণই ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিজের কাছের বন্ধু বলে প্রকাশ্যেই দাবি করেছিলেন৷

তার পরও গত কয়েক মাসে কী এমন ঘটল যে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বাড়ল? বিষয়টি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’।

ভারতের ওপর ট্রাম্পের চটে যাওয়ার একটি কারণ অবশ্যই গত মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব তাকে নিতে দেয়নি নয়াদিল্লি৷

বলা হয়েছে, ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন চেয়ে ফোন করেছিলেন মোদীকে। কিন্তু এই আবদারে সায় না পেয়েই রাগ হয়েছে ট্রাম্পের।

ট্রাম্প বারবারই দাবি করে এসেছিলেন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে গত মে মাসে চলা ৪ দিনের সংঘর্ষের ইতি টেনেছেন তিনিই। আর ভারতও বারবার এই দাবি খারিজ করে এসেছে। এ নিয়ে দুই নেতার মধ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

মোদী একবার পার্লামেন্টে দাঁড়িয়েও জোর গলায় দাবি করেছিলেন যে, বিশ্বের কোনও রাষ্ট্রনেতা ফোন করে অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করার জন্য ভারতকে চাপ দেয়নি৷

ঘটনাচক্রে, মোদীর এই মন্তব্যের পরদিনই ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প৷ এরপর আরেক দফায় ট্রাম্প ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ভারতীয় পণ্যে মোট শুল্ক চাপান ৫০ শতাংশ।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের উপর ধৈর্য্য হারাচ্ছিলেন মোদী। এর মধ্যেই গত ১৭ জুন নরেন্দ্র মোদী এবং ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ৩৫ মিনিটের ফোনালাপ হয়।

সেই ফোনকলে ট্রাম্প ফের দাবি করেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ তিনিই থামিয়েছেন। সঙ্গে এও বলেন, পাকিস্তান তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে চলেছে। । ভারতেরও তা-ই করা উচিত।

নোবেলের জন্য ট্রাম্প লবিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মোদীকেও তা করতে বলেছিলেন তিনি। তবে মোদী তা করতে অস্বীকৃতি জানান।

ভারতের দাবি ছিল, ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি হয়েছে। সংঘাত থামানোয় যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ভূমিকা ছিল না।

মোদীর বক্তব্য ট্রাম্প উপেক্ষা করেন। তবে তাদের মধ্যকার এই মতবিরোধ এবং মোদীর নোবেল পুরষ্কারে অনাগ্রহ দুই নেতার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৫ মিনিটের ওই ফোন কলের পর থেকেই দুই দেশের নেতার মধ্যে আর কোনও কথা হয়নি।

ওই ফোনালাপের কয়েক সপ্তাহ পরই ট্রাম্প আচমকা ভারতের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং এরপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান রাশিয়ার তেল কেনার শাস্তি হিসাবে।

তাছাড়া, বছরের শেষের দিকে কোয়াড সম্মলনের জন্য ট্রাম্পের ভারত সফরের পরিকল্পনা না থাকার পেছনেও আছে দুই দেশর নেতার ওই ফোনালাপ।

তবে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ একথা বললেও ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

 

 

মিজানুর রহমান খান – বিশেষ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন চেয়ে ফোন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু এই আবদারে সায় না পেয়েই ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প- বলছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এক ফোনকল আর নোবেল পুরস্কারের আবদারেই তিক্ত ট্রাম্প-মোদী সম্পর্ক

আপডেট সময় ১২:০৪:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বন্ধত্বপূর্ণই ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিজের কাছের বন্ধু বলে প্রকাশ্যেই দাবি করেছিলেন৷

তার পরও গত কয়েক মাসে কী এমন ঘটল যে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বাড়ল? বিষয়টি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’।

ভারতের ওপর ট্রাম্পের চটে যাওয়ার একটি কারণ অবশ্যই গত মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব তাকে নিতে দেয়নি নয়াদিল্লি৷

বলা হয়েছে, ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন চেয়ে ফোন করেছিলেন মোদীকে। কিন্তু এই আবদারে সায় না পেয়েই রাগ হয়েছে ট্রাম্পের।

ট্রাম্প বারবারই দাবি করে এসেছিলেন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে গত মে মাসে চলা ৪ দিনের সংঘর্ষের ইতি টেনেছেন তিনিই। আর ভারতও বারবার এই দাবি খারিজ করে এসেছে। এ নিয়ে দুই নেতার মধ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

মোদী একবার পার্লামেন্টে দাঁড়িয়েও জোর গলায় দাবি করেছিলেন যে, বিশ্বের কোনও রাষ্ট্রনেতা ফোন করে অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করার জন্য ভারতকে চাপ দেয়নি৷

ঘটনাচক্রে, মোদীর এই মন্তব্যের পরদিনই ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প৷ এরপর আরেক দফায় ট্রাম্প ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ভারতীয় পণ্যে মোট শুল্ক চাপান ৫০ শতাংশ।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের উপর ধৈর্য্য হারাচ্ছিলেন মোদী। এর মধ্যেই গত ১৭ জুন নরেন্দ্র মোদী এবং ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ৩৫ মিনিটের ফোনালাপ হয়।

সেই ফোনকলে ট্রাম্প ফের দাবি করেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ তিনিই থামিয়েছেন। সঙ্গে এও বলেন, পাকিস্তান তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে চলেছে। । ভারতেরও তা-ই করা উচিত।

নোবেলের জন্য ট্রাম্প লবিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মোদীকেও তা করতে বলেছিলেন তিনি। তবে মোদী তা করতে অস্বীকৃতি জানান।

ভারতের দাবি ছিল, ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি হয়েছে। সংঘাত থামানোয় যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ভূমিকা ছিল না।

মোদীর বক্তব্য ট্রাম্প উপেক্ষা করেন। তবে তাদের মধ্যকার এই মতবিরোধ এবং মোদীর নোবেল পুরষ্কারে অনাগ্রহ দুই নেতার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৫ মিনিটের ওই ফোন কলের পর থেকেই দুই দেশের নেতার মধ্যে আর কোনও কথা হয়নি।

ওই ফোনালাপের কয়েক সপ্তাহ পরই ট্রাম্প আচমকা ভারতের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং এরপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান রাশিয়ার তেল কেনার শাস্তি হিসাবে।

তাছাড়া, বছরের শেষের দিকে কোয়াড সম্মলনের জন্য ট্রাম্পের ভারত সফরের পরিকল্পনা না থাকার পেছনেও আছে দুই দেশর নেতার ওই ফোনালাপ।

তবে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ একথা বললেও ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

 

 

মিজানুর রহমান খান – বিশেষ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম