টিআইএনধারী যারা রিটার্ন জমা দেন না তাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় করছে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।
কর ফাঁকি ঠেকাতে জোরালো গোয়েন্দা তৎপরতা চান এনবিআর চেয়ারম্যান

- আপডেট সময় ০১:৪৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রতিটি কর অঞ্চলকে গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়িয়ে কর ফাঁকি খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
এছাড়া কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকা স্বত্বেও যেসকল করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না তাদের সকলকে রিটার্ন দাখিলের জন্য নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ অগ্রগতি ও পর্যালোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান এসব বিষয়সহ আরও বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেছেন, টিআইএনধারী যারা রিটার্ন জমা দেন না তাদের আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য সরেজমিনে তদন্ত করে, আইন অনুযায়ী আয়কর আরোপ করে তা আদায় করতে আয়কর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে প্রতি মাসের রাজস্ব সভায় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের জন্যও চেয়ারম্যান নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া দাখিল করা আয়কর রিটার্ন আয়কর আইনের বিধান অনুসারে তৈরি করার মাধ্যমে কর আদায় কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশনাও এসেছে সভায়।
এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কর কমিশনারদের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সকল মনিটরিং সদস্যকে প্রতিসপ্তাহে একজন কমিশনারের সাথে সভা করে ‘নন-ফাইলারদের’ বিরুদ্ধে গৃহীত কার্যক্রম পৃথক ব্রিফিং সেশনের মাধ্যমে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।”
রাজস্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় কাস্টমস ও ভ্যাট এবং আয়কর অনুবিভাগের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে আবদুর রহমান বলেন, সন্দেহের বশে পণ্যের চালান আটকে সৎ আমদানি-রপ্তানিকারকদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।
“আমাদের মূল ফোকাস হতে হবে সহযোগিতামূলক বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আমদানি বা রপ্তানিকারকের চালান আটক না করে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে রক্ষিত অতীত রেকর্ডের ভিত্তিতে রাজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।”
তিনি বলেন, কী কারণ চালান আটক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কার্যক্রম হতে কী পরিমাণ অতিরিক্ত কর আদায় হয়েছে, প্রতি মাসের রাজস্ব সভায় এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করে আইনানুগভাবে প্রযোজ্য কর আদায় করার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি এনবিআর চেয়ারম্যান কর্মকর্তাদের আদায়ের প্রবৃদ্ধির ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, যারা সৎভাবে নিয়ম-কানুন মেনে ভ্যাট দেন তাদের ওপর অহেতুক বাড়তি চাপ প্রয়োগ করা সমীচীন নয়। যারা মোটেও ভ্যাট পরিশোধ করেন না তাদের ভ্যাট নেটে আনার কথা বলেছেন তিনি।
এছাড়া যারা ভ্যাট ফাঁকি দেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে ভ্যাট আদায় বাড়ানোর নির্দেশনা এসেছে তার কাছ থেকে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনবিআর চেয়ারম্যান বন্ডের কার্যক্রম অনলাইনে করার ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি সেবার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্খিত সেবা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা প্রবর্তনেরও নির্দেশনা দেন তিনি।
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্ড সুবিধার আওতায় আনা মালামাল বাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আমাদানিকারকের বন্ড লাইসেন্স বাতিল করার জন্য চেয়ারম্যান নির্দেশনা দিয়েছেন।
এছাড়া যে সকল কন্টেইনার অনেক দিন ধরে বন্দরে পড়ে আছে সেগুলো ডিসেম্বর মধ্যে দ্রুত নিলামে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাবরিনা জাহান- বিশেষ প্রতিনিধি : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম