০৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
দীর্ঘ ১১ বছর পর শনিবার নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মোট ১ হাজার ৫১৫ জনকে কাউন্সিলর করা হয়।

নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার, সম্পাদক হিলালী

নেত্রকোণা প্রতিনিধি : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • আপডেট সময় ১১:৩০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৩১ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল হক ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী।

 

দীর্ঘ ১১ বছর পর নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে আনোয়ারুল হক সভাপতি ও রফিকুল ইসলাম হিলালী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভোট গণনা শেষে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণা জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট এম এ আউয়াল সেলিম।

তিনি বলেন, সম্মেলনে ১০টি উপজেলা ও পাঁচটি পৌর কমিটির মোট ১ হাজার ৫১৫ জনকে কাউন্সিলর করা হয়। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারাই জেলার নেতৃত্ব বাছাই করেন। এই কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে মোট ১ হাজার ৪৯৫ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৯টি ভোট ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১০টি ভোট বাতিল হয়েছে।

শনিবার বিকালে শুরু হওয়া নির্বাচনে সভাপতি পদে ডা. আনোয়ারুল হক ১ হাজার ২৭৫ ভোট পেয়ে জয় পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক পান ২১১ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী ৭৪৬ ভোট পেয়ে জয় পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি পেয়েছেন ৭২১ ভোট।

এছাড়াও একই পদে এসএম মনিরুজ্জামান দুদু পেয়েছেন ১৮ ভোট।

এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ২০১৯ সালের ৬ অগাস্ট সে কমিটি ভেঙে দিয়ে ডা. আনোয়ারুল হককে আহ্বায়ক এবং ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল।

সেই থেকে এই দুইজনই জেলা বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

ডা. আনোয়ারুল হক ছাত্রাবস্থাতেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন, পরে ২০১৯ সালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হওয়ার পর থেকে তিনি জেলা বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন।

অপরদিকে রফিকুল ইসলাম হিলালী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। পরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হিলালী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিরও সদস্য।

এছাড়া সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নেত্রকোণা জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুল হক জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ২৫ ভোটে হেরে যাওয়া আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি সাবেক যুবদল নেতা। নেত্রকোণা শহরের দাপুটে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচিত রনির বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন।

শনিবার দুপুরে শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সম্মেলন উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ আলমগীর হাসান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সম্মেলন শেষে নব নির্বাচিত জেলা সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম ব্যক্তিকেই সম্মানিত করেন। শ্রম ঘাম ত্যাগের ফল তিনি আমাকে দিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির কঠিন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোর্দণ্ড প্রতাপের বিপরীতে দাঁড়িয়ে দলকে টেনে নেয়ার প্রতিদান পেয়েছি।

তিনি অন্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রতিদ্বন্দী ছিলাম-প্রতিপক্ষ নই। আপনাদের প্রতি আমার অসীম কৃতজ্ঞতা। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই যেতে চাই আরো বহুদূর।”

 

 

নেত্রকোণা প্রতিনিধি : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম

নিউজটি শেয়ার করুন

দীর্ঘ ১১ বছর পর শনিবার নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মোট ১ হাজার ৫১৫ জনকে কাউন্সিলর করা হয়।

নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার, সম্পাদক হিলালী

আপডেট সময় ১১:৩০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

 

দীর্ঘ ১১ বছর পর নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে আনোয়ারুল হক সভাপতি ও রফিকুল ইসলাম হিলালী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভোট গণনা শেষে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণা জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট এম এ আউয়াল সেলিম।

তিনি বলেন, সম্মেলনে ১০টি উপজেলা ও পাঁচটি পৌর কমিটির মোট ১ হাজার ৫১৫ জনকে কাউন্সিলর করা হয়। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারাই জেলার নেতৃত্ব বাছাই করেন। এই কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে মোট ১ হাজার ৪৯৫ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৯টি ভোট ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১০টি ভোট বাতিল হয়েছে।

শনিবার বিকালে শুরু হওয়া নির্বাচনে সভাপতি পদে ডা. আনোয়ারুল হক ১ হাজার ২৭৫ ভোট পেয়ে জয় পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক পান ২১১ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী ৭৪৬ ভোট পেয়ে জয় পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি পেয়েছেন ৭২১ ভোট।

এছাড়াও একই পদে এসএম মনিরুজ্জামান দুদু পেয়েছেন ১৮ ভোট।

এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ২০১৯ সালের ৬ অগাস্ট সে কমিটি ভেঙে দিয়ে ডা. আনোয়ারুল হককে আহ্বায়ক এবং ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল।

সেই থেকে এই দুইজনই জেলা বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

ডা. আনোয়ারুল হক ছাত্রাবস্থাতেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন, পরে ২০১৯ সালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হওয়ার পর থেকে তিনি জেলা বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন।

অপরদিকে রফিকুল ইসলাম হিলালী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। পরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হিলালী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিরও সদস্য।

এছাড়া সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নেত্রকোণা জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুল হক জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ২৫ ভোটে হেরে যাওয়া আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি সাবেক যুবদল নেতা। নেত্রকোণা শহরের দাপুটে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচিত রনির বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন।

শনিবার দুপুরে শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সম্মেলন উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ আলমগীর হাসান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সম্মেলন শেষে নব নির্বাচিত জেলা সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম ব্যক্তিকেই সম্মানিত করেন। শ্রম ঘাম ত্যাগের ফল তিনি আমাকে দিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির কঠিন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোর্দণ্ড প্রতাপের বিপরীতে দাঁড়িয়ে দলকে টেনে নেয়ার প্রতিদান পেয়েছি।

তিনি অন্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রতিদ্বন্দী ছিলাম-প্রতিপক্ষ নই। আপনাদের প্রতি আমার অসীম কৃতজ্ঞতা। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই যেতে চাই আরো বহুদূর।”

 

 

নেত্রকোণা প্রতিনিধি : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম