০৫:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

মোরগের ডাক শুনে আল্লাহকে স্মরণ

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৩:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

মানুষ শখের বশে বিভিন্ন রকম প্রাণী পালন করে। এর মধ্যে বেশির ভাগ প্রাণী শুধু শখ পূরণ করলেও সেগুলো থেকে প্রাপ্তি খুব বেশি কিছু থাকে না। কিছু প্রাণী পালনের মাধ্যমে আবার শখ যেমন পূরণ হয়, তেমনি আনুষঙ্গিক উপকারও ভোগ করা যায়। এর মধ্যে উপকারী একটি প্রাণী হলো মোরগ।

কারণ মোরগ ভোররাতে মানুষের ইবাদতে সহায়তা করে। নিস্তব্ধ রজনীর শেষ প্রহরে যখন চারদিক নিদ্রামগ্ন, তখন তার সুমধুর ডাক যেন মুমিন হৃদয়ে এক অদৃশ্য আহ্বান জাগিয়ে তোলে—উঠে দাঁড়াও, প্রভুর দরবারে হাজির হও। এ যেন প্রকৃতির বুকে স্থাপিত এক জীবন্ত অ্যালার্ম, যা মানুষকে দুনিয়ার ঘুম ভেঙে আখিরাতের জাগরণে ডেকে নেয়। তাইতো মহানবী (সা.) শেষরাতে ডেকে ঘুম ভেঙে দেওয়া মোরগকে গালি দিতে বারণ করেছেন।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা মোরগকে গালি দিয়ো না; কারণ সে নামাজের জন্য জাগিয়ে তোলে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১০১) অর্থাৎ মোরগকে গালি দেওয়া বা অপমান করা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন, কারণ তার ডাকার মধ্যে উপকারিতা রয়েছে। রাতের কোনো সময়ে তার ডাক শুনে কেউ তাহাজ্জুদে উঠতে পারে বা ফজরের নামাজের জন্য জেগে যেতে পারে। এভাবে মোরগ মানুষের কিয়াম (রাতের ইবাদত) ও সালাতে সহায়তা করে; তাই সে গালির নয়, বরং প্রশংসার উপযুক্ত।

মহান আল্লাহ প্রতিটি মাখলুককেই কোনো না কোনো উপকারে সৃষ্টি করেছেন। মোরগও তার ব্যতিক্রম নয়। অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন, বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে তখন তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করে দোয়া কোরো। কেননা এই মোরগ ফেরেশতাদের দেখে আর যখন গাধার আওয়াজ শুনবে তখন শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে, কেননা এই গাধা শয়তান দেখেছে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৩০৩) এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে, মোরগ শুধু একটি গৃহপালিত প্রাণী নয়; বরং তার ডাকে রয়েছে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও ইবাদতের প্রেরণা।

তাই তাকে অবজ্ঞা না করে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা উচিত।
হাদিসে সরাসরি মোরগ পালনের প্রতি উৎসাহ দেওয়া না হলেও সম্ভব হলে তা পালন করা উচিত। শুধু মোরগ কেন, পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ইত্যাদির পালনও মানুষের বহুবিধ উপকারে আসে।

এগুলোর লালন-পালন পরিবারের অর্গানিক খাদ্যের জোগান দিতে পারে। বর্তমান সময়ে বাজারের ভেজাল ও রাসায়নিকের ভিড়ে যখন বিশুদ্ধ খাবার পাওয়া কঠিন, তখন নিজের ঘরে পালিত মোরগ-মুরগি, হাঁস ইত্যাদি হতে পারে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের উৎস। এগুলোর ডিম ও মাংস উভয়ই পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গ্রামে যদি এটি বড় আকারে করা যায়, তাহলে এগুলোর মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কিছু হালাল উপার্জনেরও ব্যবস্থা হতে পারে। অনেক পরিবার এরই মধ্যে এই খাতে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বিতা অর্জন করেছে। বেকার যুবক কিংবা গৃহিণীদের জন্য এটি হতে পারে সম্মানজনক আয়ের একটি বাস্তব পথ। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হতে পারে। আমাদের প্রতিটি কাজই এমন হওয়া উচিত যাতে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের উপকার রয়েছে।

লেখক: মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

বিডি পলিটিক্স/বিইউ

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

মোরগের ডাক শুনে আল্লাহকে স্মরণ

আপডেট সময় ০৩:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মানুষ শখের বশে বিভিন্ন রকম প্রাণী পালন করে। এর মধ্যে বেশির ভাগ প্রাণী শুধু শখ পূরণ করলেও সেগুলো থেকে প্রাপ্তি খুব বেশি কিছু থাকে না। কিছু প্রাণী পালনের মাধ্যমে আবার শখ যেমন পূরণ হয়, তেমনি আনুষঙ্গিক উপকারও ভোগ করা যায়। এর মধ্যে উপকারী একটি প্রাণী হলো মোরগ।

কারণ মোরগ ভোররাতে মানুষের ইবাদতে সহায়তা করে। নিস্তব্ধ রজনীর শেষ প্রহরে যখন চারদিক নিদ্রামগ্ন, তখন তার সুমধুর ডাক যেন মুমিন হৃদয়ে এক অদৃশ্য আহ্বান জাগিয়ে তোলে—উঠে দাঁড়াও, প্রভুর দরবারে হাজির হও। এ যেন প্রকৃতির বুকে স্থাপিত এক জীবন্ত অ্যালার্ম, যা মানুষকে দুনিয়ার ঘুম ভেঙে আখিরাতের জাগরণে ডেকে নেয়। তাইতো মহানবী (সা.) শেষরাতে ডেকে ঘুম ভেঙে দেওয়া মোরগকে গালি দিতে বারণ করেছেন।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা মোরগকে গালি দিয়ো না; কারণ সে নামাজের জন্য জাগিয়ে তোলে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১০১) অর্থাৎ মোরগকে গালি দেওয়া বা অপমান করা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন, কারণ তার ডাকার মধ্যে উপকারিতা রয়েছে। রাতের কোনো সময়ে তার ডাক শুনে কেউ তাহাজ্জুদে উঠতে পারে বা ফজরের নামাজের জন্য জেগে যেতে পারে। এভাবে মোরগ মানুষের কিয়াম (রাতের ইবাদত) ও সালাতে সহায়তা করে; তাই সে গালির নয়, বরং প্রশংসার উপযুক্ত।

মহান আল্লাহ প্রতিটি মাখলুককেই কোনো না কোনো উপকারে সৃষ্টি করেছেন। মোরগও তার ব্যতিক্রম নয়। অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন, বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে তখন তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করে দোয়া কোরো। কেননা এই মোরগ ফেরেশতাদের দেখে আর যখন গাধার আওয়াজ শুনবে তখন শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে, কেননা এই গাধা শয়তান দেখেছে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৩০৩) এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে, মোরগ শুধু একটি গৃহপালিত প্রাণী নয়; বরং তার ডাকে রয়েছে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও ইবাদতের প্রেরণা।

তাই তাকে অবজ্ঞা না করে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা উচিত।
হাদিসে সরাসরি মোরগ পালনের প্রতি উৎসাহ দেওয়া না হলেও সম্ভব হলে তা পালন করা উচিত। শুধু মোরগ কেন, পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ইত্যাদির পালনও মানুষের বহুবিধ উপকারে আসে।

এগুলোর লালন-পালন পরিবারের অর্গানিক খাদ্যের জোগান দিতে পারে। বর্তমান সময়ে বাজারের ভেজাল ও রাসায়নিকের ভিড়ে যখন বিশুদ্ধ খাবার পাওয়া কঠিন, তখন নিজের ঘরে পালিত মোরগ-মুরগি, হাঁস ইত্যাদি হতে পারে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের উৎস। এগুলোর ডিম ও মাংস উভয়ই পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গ্রামে যদি এটি বড় আকারে করা যায়, তাহলে এগুলোর মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কিছু হালাল উপার্জনেরও ব্যবস্থা হতে পারে। অনেক পরিবার এরই মধ্যে এই খাতে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বিতা অর্জন করেছে। বেকার যুবক কিংবা গৃহিণীদের জন্য এটি হতে পারে সম্মানজনক আয়ের একটি বাস্তব পথ। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হতে পারে। আমাদের প্রতিটি কাজই এমন হওয়া উচিত যাতে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের উপকার রয়েছে।

লেখক: মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

বিডি পলিটিক্স/বিইউ