০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
মিনেসোটার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, বন্দুকধারী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইহুদি সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছিলেন।

‘শিশু হত্যার চিন্তায় বিভোর’ ছিলেন মিনিয়াপোলিসের স্কুলে হামলাকারী

মিজানুর রহমান খান - বিশেষ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • আপডেট সময় ০১:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২৮ বার পড়া হয়েছে

হামলাস্থলে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স

 

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের ক্যাথলিক স্কুলে চার্চে প্রার্থনার সময় শিশুদের ওপর হামলাকারী ‘শিশু হত্যার চিন্তায় বিভোর’ ছিলেন। হামলার ঘটনা তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এমন কথাই।

স্থানীয় সময় গত বুধবার সকালে অ্যানুনসিয়েশন ক্যাথলিক স্কুলে হামলা চালান বন্দুকধারী রবিন ওয়েস্টম্যান। এতে ২ শিশু নিহত এবং আরও ১৮ জন আহত হয়। পরে নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেন হামলাকারী।

মিনিয়াপোলিস শহরের পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা বলেছেন, হামলার পেছনে রবিন ওয়েস্টম্যানের বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য ছিল না বলেই মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “হামলাকারী আমাদের সবাইকে ঘৃণা করতেন বলে মনে হচ্ছে। সর্বোপরি শিশুদের হত্যা করতে চেয়েছিলেন তিনি।”

নিহত দুই শিশুর পরিবার তাদের লাশ শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে এক শিশুর নাম ফ্লেচার মারকেল। তার বয়স আট বছর এবং অপর শিশুটির বয়স ১০ বছর। তার নাম হারপার ময়স্কি।

কর্মকর্তারা এখনও হামলাকারী বন্দুকধারীর সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে তারা বলেছে, রবিন ওয়েস্টম্যান চার্চের ওই স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। তার মা সেখানে কাজ করতেন।

২৩ বছর বয়সী রবিন ওয়েস্টম্যান ঘটনার দিন গির্জার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। সেখানেই স্কুল ছিল। জানালা দিয়ে শিশুদের লক্ষ্য করে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কয়েক ডজন গুলি ছুড়েছিলেন রবিন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি স্মোক গ্রেনেডও উদ্ধার করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা শিশুদের রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালাতে এবং আশপাশের মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে দেখেছেন।

বৃহস্পতিবার মিনেসোটার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জোসেফ থম্পসন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বন্দুকধারী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইহুদি সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এর পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল এ হামলাকে ‘ঘৃণাভিত্তিক মতাদর্শে অনুপ্রাণিত অভ্যন্তরীন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তদন্তকারীরা বন্দুকধারীর অস্ত্র ও চিরকুটে ধর্ম-বিরোধী ও ক্যাথলিক-বিরোধী নানা লেখনী দেখতে পেয়েছেন।

প্যাটেল পোস্টে লেখেন, “হামলাকারী ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতার প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।”

হামলাকারী লিখেছিলেন, ‘ইসরায়েলের পতন হোক’, ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত কর’, এমনকি বন্দুকের একটি ম্যাগাজিনে ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রকাশ্য আহ্বানও জানানো হয়েছিল।

 

 

মিজানুর রহমান খান – বিশেষ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম

নিউজটি শেয়ার করুন

মিনেসোটার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, বন্দুকধারী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইহুদি সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছিলেন।

‘শিশু হত্যার চিন্তায় বিভোর’ ছিলেন মিনিয়াপোলিসের স্কুলে হামলাকারী

আপডেট সময় ০১:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

 

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের ক্যাথলিক স্কুলে চার্চে প্রার্থনার সময় শিশুদের ওপর হামলাকারী ‘শিশু হত্যার চিন্তায় বিভোর’ ছিলেন। হামলার ঘটনা তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এমন কথাই।

স্থানীয় সময় গত বুধবার সকালে অ্যানুনসিয়েশন ক্যাথলিক স্কুলে হামলা চালান বন্দুকধারী রবিন ওয়েস্টম্যান। এতে ২ শিশু নিহত এবং আরও ১৮ জন আহত হয়। পরে নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেন হামলাকারী।

মিনিয়াপোলিস শহরের পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা বলেছেন, হামলার পেছনে রবিন ওয়েস্টম্যানের বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য ছিল না বলেই মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “হামলাকারী আমাদের সবাইকে ঘৃণা করতেন বলে মনে হচ্ছে। সর্বোপরি শিশুদের হত্যা করতে চেয়েছিলেন তিনি।”

নিহত দুই শিশুর পরিবার তাদের লাশ শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে এক শিশুর নাম ফ্লেচার মারকেল। তার বয়স আট বছর এবং অপর শিশুটির বয়স ১০ বছর। তার নাম হারপার ময়স্কি।

কর্মকর্তারা এখনও হামলাকারী বন্দুকধারীর সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে তারা বলেছে, রবিন ওয়েস্টম্যান চার্চের ওই স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। তার মা সেখানে কাজ করতেন।

২৩ বছর বয়সী রবিন ওয়েস্টম্যান ঘটনার দিন গির্জার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। সেখানেই স্কুল ছিল। জানালা দিয়ে শিশুদের লক্ষ্য করে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কয়েক ডজন গুলি ছুড়েছিলেন রবিন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি স্মোক গ্রেনেডও উদ্ধার করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা শিশুদের রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালাতে এবং আশপাশের মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে দেখেছেন।

বৃহস্পতিবার মিনেসোটার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জোসেফ থম্পসন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বন্দুকধারী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইহুদি সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এর পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল এ হামলাকে ‘ঘৃণাভিত্তিক মতাদর্শে অনুপ্রাণিত অভ্যন্তরীন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তদন্তকারীরা বন্দুকধারীর অস্ত্র ও চিরকুটে ধর্ম-বিরোধী ও ক্যাথলিক-বিরোধী নানা লেখনী দেখতে পেয়েছেন।

প্যাটেল পোস্টে লেখেন, “হামলাকারী ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতার প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।”

হামলাকারী লিখেছিলেন, ‘ইসরায়েলের পতন হোক’, ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত কর’, এমনকি বন্দুকের একটি ম্যাগাজিনে ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রকাশ্য আহ্বানও জানানো হয়েছিল।

 

 

মিজানুর রহমান খান – বিশেষ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম