০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ থেকে পাথর লুটের ঘটনায় এর আগে ডিসি-ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে।

‘সাদাপাথর লুট’: এবার কোম্পানীগঞ্জের ওসির বদলি

সিলেট প্রতিনিধি : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • আপডেট সময় ১১:২২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২৬ বার পড়া হয়েছে

 

সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ থেকে পাথর লুটের ঘটনায় ডিসি-ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে। এবার ‘সাদাপাথর’ এলাকার কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে বদলি করা হল।

রোববার এক আদেশে তাকে বদলি করা হয় বলে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, “নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জের ওসি ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনানকে বদলি করা হয়েছে। সেখানে পরিদর্শক মো. রতন শেখকে ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।”

রতন শেখ ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিলেটের জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৮ অগাস্ট সিলেটের ডিসি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ ও কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়। কোম্পানীগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর লুটের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

‘সাদাপাথরে’ লুট নিয়ে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ওসিসহ সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সদস্যরা অবৈধ পাথর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করে সাদাপাথর লুটপাটে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন।”

১৩ অগাস্ট দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে একটি দল ‘সাদাপাথর’ পরিদর্শন করে। পরে তারা ১৬ আগস্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে ‘সাদাপাথর’ লুটে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা মিলিয়ে ৫৩ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর প্রতি ট্রাকে প্রায় ৫০০ ঘনফুট করে লোড করা হয়। পরিবহন ভাড়া ছাড়া প্রতি ট্রাকের পাথরের দাম ধরা হয় ৯১ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রতি ট্রাক থেকে ১০ হাজার টাকা পুলিশ ও প্রশাসনের জন্য আলাদা করা হয়। বাকি ৮১ হাজার টাকা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীরা নিজেদের মাঝে বণ্টন করে নেয়।

এ ছাড়া প্রতি ট্রাক থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পুলিশের জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং উপজেলা প্রশাসনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা বণ্টন হতো। এ ছাড়া অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি বারকি নৌকা হতে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। যার মধ্যে পুলিশ বিভাগ পায় ৫০০ টাকা এবং প্রশাসন (ডিসি ও ইউএনও) পায় ৫০০ টাকা। পুলিশ নির্দিষ্ট সোর্সের মাধ্যমে প্রত্যেক ট্রাক ও নৌকা থেকে এসব চাঁদা বা অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করে বলে দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

 

সিলেট প্রতিনিধি : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম

নিউজটি শেয়ার করুন

সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ থেকে পাথর লুটের ঘটনায় এর আগে ডিসি-ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে।

‘সাদাপাথর লুট’: এবার কোম্পানীগঞ্জের ওসির বদলি

আপডেট সময় ১১:২২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

 

সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ থেকে পাথর লুটের ঘটনায় ডিসি-ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে। এবার ‘সাদাপাথর’ এলাকার কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে বদলি করা হল।

রোববার এক আদেশে তাকে বদলি করা হয় বলে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, “নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জের ওসি ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনানকে বদলি করা হয়েছে। সেখানে পরিদর্শক মো. রতন শেখকে ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।”

রতন শেখ ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিলেটের জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৮ অগাস্ট সিলেটের ডিসি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ ও কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়। কোম্পানীগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর লুটের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

‘সাদাপাথরে’ লুট নিয়ে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ওসিসহ সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সদস্যরা অবৈধ পাথর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করে সাদাপাথর লুটপাটে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন।”

১৩ অগাস্ট দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে একটি দল ‘সাদাপাথর’ পরিদর্শন করে। পরে তারা ১৬ আগস্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে ‘সাদাপাথর’ লুটে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা মিলিয়ে ৫৩ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর প্রতি ট্রাকে প্রায় ৫০০ ঘনফুট করে লোড করা হয়। পরিবহন ভাড়া ছাড়া প্রতি ট্রাকের পাথরের দাম ধরা হয় ৯১ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রতি ট্রাক থেকে ১০ হাজার টাকা পুলিশ ও প্রশাসনের জন্য আলাদা করা হয়। বাকি ৮১ হাজার টাকা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীরা নিজেদের মাঝে বণ্টন করে নেয়।

এ ছাড়া প্রতি ট্রাক থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পুলিশের জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং উপজেলা প্রশাসনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা বণ্টন হতো। এ ছাড়া অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি বারকি নৌকা হতে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। যার মধ্যে পুলিশ বিভাগ পায় ৫০০ টাকা এবং প্রশাসন (ডিসি ও ইউএনও) পায় ৫০০ টাকা। পুলিশ নির্দিষ্ট সোর্সের মাধ্যমে প্রত্যেক ট্রাক ও নৌকা থেকে এসব চাঁদা বা অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করে বলে দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

 

সিলেট প্রতিনিধি : বিডিপলিটিক্স টোয়েন্টিফোর ডটকম