‘হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে জানলেও হস্তক্ষেপ করতে পারেনি ভারত’: জয়শঙ্কর

- আপডেট সময় ০৮:৪১:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
- / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এই সময়ের মধ্যে হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে ভারত অবগত ছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ভারত এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানত, তবে তারা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারেনি।
এ তথ্যটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে শনিবার (২২ মার্চ) প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগেই বাংলাদেশে একটি হাসিনাবিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠছিল, এবং ভারত এ সম্পর্কে অবগত ছিল। জয়শঙ্কর পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদের পরামর্শক কমিটির বৈঠকে এই তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, হাসিনার ওপর প্রয়োজনীয় প্রভাবের অভাব ছিল, ফলে কেবল পরামর্শ দেওয়া সম্ভব ছিল, কিন্তু ভারত এই বিষয়ে কার্যকর কিছু করতে পারেনি।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জয়শঙ্কর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভারত অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের মতো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থির পরিস্থিতি সম্পর্কে জানত। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে তুর্কে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলেন যে, যদি নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করা হয়, তবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হতে পারে।
পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় পরামর্শক কমিটির সদস্যরা ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে জয়শঙ্করের সঙ্গে একটি খোলামেলা আলোচনায় মিলিত হন। আলোচনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি, বিশেষ করে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয় দেওয়ার কারণে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভারত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। তবে ২-৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে কিনা, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছুই জানায়নি।
ড. ইউনুস ক্ষমতা গ্রহণের পর ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বর্তমানে তিনি চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চীনে এই সফরে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার সঙ্গে চীনের বিভিন্ন গন্তব্যের মধ্যে বিমান সংযোগ বৃদ্ধিসহ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। জয়শঙ্কর বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়েও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, চীন প্রতিপক্ষ নয়, তবে প্রতিযোগী।