০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

অটিজমে আক্রান্তদের ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৩:২৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

প্রতি বছর ২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সমাজের প্রতিটি মানুষই মর্যাদা ও ভালোবাসার যোগ্য। অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি এক ধরনের ভিন্ন স্নায়বিক অবস্থা, যা একজন মানুষের চিন্তা, যোগাযোগ ও আচরণকে আলাদা বৈশিষ্ট্যে প্রকাশ করে। ইসলাম অটিজম আক্রান্ত মানুষদের প্রতি অন্যান্যের মতোই সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে।

কেননা আল্লাহ বলেন, ‘আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি…’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৭০) এই আয়াত স্পষ্ট করে, শারীরিক বা মানসিক পার্থক্য কোনো মানুষের মর্যাদা কমায় না। তাই অটিজমে আক্রান্ত একজন শিশুও আল্লাহর সম্মানিত সৃষ্টি, তাদের প্রতি অবহেলা বা বৈষম্য ইসলামের পরিপন্থী। আর ইসলামে সহমর্মিতা ও দয়া হলো ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির ওপর দয়া করেন না, যে মানুষের ওপর দয়া করেন না। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৯৭)

অটিজম যুক্ত মানুষদের সঙ্গে ধৈর্য, সহানুভূতি ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা শুধু মানবিক কর্তব্য নয়, এটি ইবাদতেরই একটি রূপ। তাদের বুঝতে চেষ্টা করা, পাশে দাঁড়ানো—এসবই ইসলামের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে। আর অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যত্ন নেওয়া একটি আমানতও বটে। এই আমানত ইসলামে পরিবার ও সমাজের ওপর বিশেষভাবে অর্পিত।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকে একজন অভিভাবক এবং প্রত্যেকেই তার অধীনদের ব্যাপারে জবাবদিহি করবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪২৯) অতএব অটিজমে আক্রান্ত সন্তান বা আত্মীয় থাকলে, তাদের যত্ন নেওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন দেওয়াও একটি অমানত। আর পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব; আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫) অটিজমে আক্রান্ত সন্তান অনেক সময় পরিবারের জন্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। কিন্তু ইসলাম এটিকে পরীক্ষা ও সওয়াবের সুযোগ হিসেবে দেখায়। ধৈর্য, ভালোবাসা ও চেষ্টা—এসবের বিনিময়ে আল্লাহ বিশেষ প্রতিদান দেন।

বিডি পলিটিক্স/বিইউ

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

অটিজমে আক্রান্তদের ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা

আপডেট সময় ০৩:২৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

প্রতি বছর ২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সমাজের প্রতিটি মানুষই মর্যাদা ও ভালোবাসার যোগ্য। অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি এক ধরনের ভিন্ন স্নায়বিক অবস্থা, যা একজন মানুষের চিন্তা, যোগাযোগ ও আচরণকে আলাদা বৈশিষ্ট্যে প্রকাশ করে। ইসলাম অটিজম আক্রান্ত মানুষদের প্রতি অন্যান্যের মতোই সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে।

কেননা আল্লাহ বলেন, ‘আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি…’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৭০) এই আয়াত স্পষ্ট করে, শারীরিক বা মানসিক পার্থক্য কোনো মানুষের মর্যাদা কমায় না। তাই অটিজমে আক্রান্ত একজন শিশুও আল্লাহর সম্মানিত সৃষ্টি, তাদের প্রতি অবহেলা বা বৈষম্য ইসলামের পরিপন্থী। আর ইসলামে সহমর্মিতা ও দয়া হলো ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির ওপর দয়া করেন না, যে মানুষের ওপর দয়া করেন না। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৯৭)

অটিজম যুক্ত মানুষদের সঙ্গে ধৈর্য, সহানুভূতি ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা শুধু মানবিক কর্তব্য নয়, এটি ইবাদতেরই একটি রূপ। তাদের বুঝতে চেষ্টা করা, পাশে দাঁড়ানো—এসবই ইসলামের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে। আর অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যত্ন নেওয়া একটি আমানতও বটে। এই আমানত ইসলামে পরিবার ও সমাজের ওপর বিশেষভাবে অর্পিত।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকে একজন অভিভাবক এবং প্রত্যেকেই তার অধীনদের ব্যাপারে জবাবদিহি করবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪২৯) অতএব অটিজমে আক্রান্ত সন্তান বা আত্মীয় থাকলে, তাদের যত্ন নেওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন দেওয়াও একটি অমানত। আর পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব; আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫) অটিজমে আক্রান্ত সন্তান অনেক সময় পরিবারের জন্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। কিন্তু ইসলাম এটিকে পরীক্ষা ও সওয়াবের সুযোগ হিসেবে দেখায়। ধৈর্য, ভালোবাসা ও চেষ্টা—এসবের বিনিময়ে আল্লাহ বিশেষ প্রতিদান দেন।

বিডি পলিটিক্স/বিইউ