০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপ

মেসির অধীনে অধিনায়কদের মেলা!

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৪:১৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

আগামী ১৭ জুন কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অভিযানে নামছেন লিওনেল মেসি। আর এই ম্যাচেই অধিনায়ক হিসেবে টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের নেতৃত্ব দিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়বেন তিনি।

এর আগে বিশ্বকাপে টানা চার আসরে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরার এই কীর্তি কেবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনারই ছিল, এবার তাকে স্পর্শ করছেন মেসি।

তবে বিশ্বকাপে টানা ১৮ ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়া রোজারিওর এই মহাতারকার পাশে থাকা এবারের দলটি কিন্তু আরও একটি কারণে অনন্য।

মেসিকে ঘিরে থাকা এই স্কোয়াডের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে আছেন এক একজন প্রকৃত নেতা যারা নিজ নিজ ক্লাবের অধিনায়কত্ব সামলান, কিন্তু জাতীয় দলে এসে সবাই নিঃশর্তভাবে মেনে নেন তাদের একমাত্র অবিসংবাদিত নেতা লিওনেল মেসিকে।
মেসির এই নেতৃত্ব কিন্তু শুরু থেকেই এমন ছিল না।

১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী ও যুব জাতীয় দলে মেসির সাবেক কোচ সের্হিও বাতিস্তা যেমনটি মনে করিয়ে দেন, ‘নেতৃত্বের গুণাবলী ডালপালা মেলতে মেসির কিছুটা সময় লেগেছিল। যখন সে পরিপক্ক হলো এবং বুঝল এবার তার হাল ধরার পালা, তখন সে নিজেকে মেলে ধরল।
সে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছিল। যখন সে ভেতর থেকে তা অনুভব করেনি, সে জোর করে নেতা হতে চায়নি; সে শুধু ফুটবল খেলতে চেয়েছিল। এরপর যখন বুঝল এটাই উপযুক্ত সময়, সে সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে গেল।’
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে হাভিয়ের মাচেরানোর কাছ থেকে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড বুঝে নেন মেসি। এরপর থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নেতার ভূমিকায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন তিনি। ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের মতে, ‘টানা ২০ বছর ফুটবলের চূড়ায় থেকেও মেসি যেভাবে বিনম্রতার সঙ্গে সবাইকে নেতৃত্ব দেয় এবং হারলে যেভাবে এখনো রেগে যায়, তা সত্যিই দারুণ। তার নেতৃত্বের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, দলে তার নেতৃত্ব নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন নেই। এমন একজন প্রশ্নাতীত নেতাই দলকে সবচেয়ে ভালো আগলে রাখতে পারেন।’

মেসির বাইরে আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের দিকে তাকালে দেখা যাবে ক্লাব ফুটবলের একঝাঁক নেতার মেলা। রক্ষণের অতন্দ্র প্রহরী লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও গঞ্জালো মন্তিয়েল যথাক্রমে লাতিন আমেরিকার দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বোকা জুনিয়র্স এবং রিভার প্লেটের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেন। রক্ষণভাগের ‘দ্য জেনারেল’ নিকোলাস ওতামেন্দি বেনফিকায় হোসে মরিনহোর অধীনে দলনেতার দায়িত্ব পালন করছেন। মরিনহোর ভাষায়, ‘ওতামেন্ডি এমন একজন, যে সত্যিকারের অধিনায়কের মতোই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়।’

টটেনহ্যামের রক্ষণ সামলানো ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরোকে ক্লাবের অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছেন ম্যানেজার থমাস ফ্রাঙ্ক। তার মতে, ‘কুতি এমন একজন নেতা যার সবসময় মুখে কথা বলার প্রয়োজন হয় না; মাঠে তার উপস্থিতি আর তীব্রতাই নেতৃত্বের আসল রূপ প্রকাশ করে।’

ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানের অধিনায়ক হলেন লাউতারো মার্তিনেস। ক্লাব কিংবদন্তি হাভিয়ের জানেত্তির মতে, ‘লাউতারো কেবল প্রয়োজনেই কথা বলে। সে এমন এক নেতা যে ম্যাচের প্রতি নিজের শতভাগ উজাড় করে দিয়ে সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করে।’

এছাড়াও দলে আছেন এমন অনেকে যারা নিয়মিত ক্লাবের আর্মব্যান্ড না পরলেও দলের অবিসংবাদিত নেতা। এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেস অ্যাস্টন ভিলার সহ-অধিনায়ক এবং ড্রেসিংরুমের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ। ইনজুরি কাটিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিজের আধিপত্য বাড়াচ্ছেন লিসান্দ্রো মার্টিনেস।

মূল অধিনায়ক না থাকলে ফরাসি ক্লাব লিঁওর আর্মব্যান্ড ওঠে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর হাতে। এনসো ফার্নান্দেস চেলসিতে এবং লিওনার্দো বালের্দি অলিম্পিক মার্শেইতে নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলেছেন। ভিলারিয়ালের অধিনায়ক হুয়ান ফয়েথও এই তালিকায় ছিলেন, তবে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দুর্ভাগ্যবশত এই বিশ্বকাপে তিনি খেলতে পারছেন না।

দলীয় এই নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আনহেল দি মারিয়া বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন রদ্রিগো দি পলের নাম। দি মারিয়ার মতে, ‘দি পল পুরো প্রজেক্টেরই এক অপরিহার্য অংশ। সে শুধু মাঠেই ইঞ্জিন নয়, মাঠের বাইরেও দলের চালিকাশক্তি। আর্মব্যান্ড না পরলেও সে আসলে আমাদের দলের একজন অধিনায়ক।’

১৯৫৮ সালের দেলাচা, ১৯৬৬ সালের রাতিন কিংবা ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরা পাসারেলা থেকে শুরু করে ম্যারাডোনার রাজত্ব; আর্জেন্টাইন ফুটবলের অধিনায়কদের ইতিহাস সবসময়ই বীরত্ব ও আবেগে ঠাসা। মেসি সেই গৌরবময় চেইনেরই বর্তমান যোগসূত্র।

তবে মেসি যখন থাকবেন না, তখন তার উত্তরসূরি কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা বেশ দীর্ঘ হবে। কারণ আর্জেন্টিনা দলে এখন যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই, বরং সমস্যাটা মধুর; সেখানে প্রতিভার বড্ড ছড়াছড়ি!

মূল: টিওয়াইসি স্পোর্টস

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

২০২৬ বিশ্বকাপ

মেসির অধীনে অধিনায়কদের মেলা!

আপডেট সময় ০৪:১৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

আগামী ১৭ জুন কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অভিযানে নামছেন লিওনেল মেসি। আর এই ম্যাচেই অধিনায়ক হিসেবে টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের নেতৃত্ব দিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়বেন তিনি।

এর আগে বিশ্বকাপে টানা চার আসরে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরার এই কীর্তি কেবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনারই ছিল, এবার তাকে স্পর্শ করছেন মেসি।

তবে বিশ্বকাপে টানা ১৮ ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়া রোজারিওর এই মহাতারকার পাশে থাকা এবারের দলটি কিন্তু আরও একটি কারণে অনন্য।

মেসিকে ঘিরে থাকা এই স্কোয়াডের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে আছেন এক একজন প্রকৃত নেতা যারা নিজ নিজ ক্লাবের অধিনায়কত্ব সামলান, কিন্তু জাতীয় দলে এসে সবাই নিঃশর্তভাবে মেনে নেন তাদের একমাত্র অবিসংবাদিত নেতা লিওনেল মেসিকে।
মেসির এই নেতৃত্ব কিন্তু শুরু থেকেই এমন ছিল না।

১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী ও যুব জাতীয় দলে মেসির সাবেক কোচ সের্হিও বাতিস্তা যেমনটি মনে করিয়ে দেন, ‘নেতৃত্বের গুণাবলী ডালপালা মেলতে মেসির কিছুটা সময় লেগেছিল। যখন সে পরিপক্ক হলো এবং বুঝল এবার তার হাল ধরার পালা, তখন সে নিজেকে মেলে ধরল।
সে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছিল। যখন সে ভেতর থেকে তা অনুভব করেনি, সে জোর করে নেতা হতে চায়নি; সে শুধু ফুটবল খেলতে চেয়েছিল। এরপর যখন বুঝল এটাই উপযুক্ত সময়, সে সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে গেল।’
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে হাভিয়ের মাচেরানোর কাছ থেকে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড বুঝে নেন মেসি। এরপর থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নেতার ভূমিকায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন তিনি। ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের মতে, ‘টানা ২০ বছর ফুটবলের চূড়ায় থেকেও মেসি যেভাবে বিনম্রতার সঙ্গে সবাইকে নেতৃত্ব দেয় এবং হারলে যেভাবে এখনো রেগে যায়, তা সত্যিই দারুণ। তার নেতৃত্বের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, দলে তার নেতৃত্ব নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন নেই। এমন একজন প্রশ্নাতীত নেতাই দলকে সবচেয়ে ভালো আগলে রাখতে পারেন।’

মেসির বাইরে আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের দিকে তাকালে দেখা যাবে ক্লাব ফুটবলের একঝাঁক নেতার মেলা। রক্ষণের অতন্দ্র প্রহরী লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও গঞ্জালো মন্তিয়েল যথাক্রমে লাতিন আমেরিকার দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বোকা জুনিয়র্স এবং রিভার প্লেটের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেন। রক্ষণভাগের ‘দ্য জেনারেল’ নিকোলাস ওতামেন্দি বেনফিকায় হোসে মরিনহোর অধীনে দলনেতার দায়িত্ব পালন করছেন। মরিনহোর ভাষায়, ‘ওতামেন্ডি এমন একজন, যে সত্যিকারের অধিনায়কের মতোই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়।’

টটেনহ্যামের রক্ষণ সামলানো ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরোকে ক্লাবের অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছেন ম্যানেজার থমাস ফ্রাঙ্ক। তার মতে, ‘কুতি এমন একজন নেতা যার সবসময় মুখে কথা বলার প্রয়োজন হয় না; মাঠে তার উপস্থিতি আর তীব্রতাই নেতৃত্বের আসল রূপ প্রকাশ করে।’

ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানের অধিনায়ক হলেন লাউতারো মার্তিনেস। ক্লাব কিংবদন্তি হাভিয়ের জানেত্তির মতে, ‘লাউতারো কেবল প্রয়োজনেই কথা বলে। সে এমন এক নেতা যে ম্যাচের প্রতি নিজের শতভাগ উজাড় করে দিয়ে সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করে।’

এছাড়াও দলে আছেন এমন অনেকে যারা নিয়মিত ক্লাবের আর্মব্যান্ড না পরলেও দলের অবিসংবাদিত নেতা। এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেস অ্যাস্টন ভিলার সহ-অধিনায়ক এবং ড্রেসিংরুমের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ। ইনজুরি কাটিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিজের আধিপত্য বাড়াচ্ছেন লিসান্দ্রো মার্টিনেস।

মূল অধিনায়ক না থাকলে ফরাসি ক্লাব লিঁওর আর্মব্যান্ড ওঠে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর হাতে। এনসো ফার্নান্দেস চেলসিতে এবং লিওনার্দো বালের্দি অলিম্পিক মার্শেইতে নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলেছেন। ভিলারিয়ালের অধিনায়ক হুয়ান ফয়েথও এই তালিকায় ছিলেন, তবে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দুর্ভাগ্যবশত এই বিশ্বকাপে তিনি খেলতে পারছেন না।

দলীয় এই নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আনহেল দি মারিয়া বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন রদ্রিগো দি পলের নাম। দি মারিয়ার মতে, ‘দি পল পুরো প্রজেক্টেরই এক অপরিহার্য অংশ। সে শুধু মাঠেই ইঞ্জিন নয়, মাঠের বাইরেও দলের চালিকাশক্তি। আর্মব্যান্ড না পরলেও সে আসলে আমাদের দলের একজন অধিনায়ক।’

১৯৫৮ সালের দেলাচা, ১৯৬৬ সালের রাতিন কিংবা ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরা পাসারেলা থেকে শুরু করে ম্যারাডোনার রাজত্ব; আর্জেন্টাইন ফুটবলের অধিনায়কদের ইতিহাস সবসময়ই বীরত্ব ও আবেগে ঠাসা। মেসি সেই গৌরবময় চেইনেরই বর্তমান যোগসূত্র।

তবে মেসি যখন থাকবেন না, তখন তার উত্তরসূরি কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা বেশ দীর্ঘ হবে। কারণ আর্জেন্টিনা দলে এখন যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই, বরং সমস্যাটা মধুর; সেখানে প্রতিভার বড্ড ছড়াছড়ি!

মূল: টিওয়াইসি স্পোর্টস