০৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার অবশ্যই হবে: প্রধানমন্ত্রী

ফারজানা বিনতে হোসাইন - স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / ১ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিশোধ নয়, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে বিচারের নামে অবিচার নয়, আইন মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই না বিচারের নামে আরেকটি অবিচার হোক। যারা অপরাধ করেছে, যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার অবশ্যই হবে।

কিন্তু সেই বিচার হতে হবে আইন মেনে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী ৬৫ জন শিশু জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশাকে আরও বড় করেছে। মানুষ চায় একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অন্যায়ের বিচার অবশ্যই হবে। তবে সেই বিচার হতে হবে আইনের মাধ্যমে এবং ন্যায়সংগতভাবে।

তারেক রহমান বলেন, একজন মা তার সন্তানকে গুলি করে হত্যা হতে দেখেছেন, কেউ দেখেছেন সন্তানকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, কেউ ভাইকে হারিয়েছেন। এই বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

তিনি বলেন, আপনাদের কষ্ট অনুভব করতে পারি। শারীরিক যন্ত্রণা হোক কিংবা মানসিক কষ্ট আমি অন্তত উপলব্ধি করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আমরা দেশকে কী দিতে পারি। রাষ্ট্র যদি সব দাবি পূরণও করে, তবুও হারানো আপনজন ফিরে আসবে না, হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে না, শারীরিক ক্ষতও পুরোপুরি মুছে যাবে না।

তিনি বলেন, কিন্তু আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গর্ব করে বলতে পারবেন—আপনাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে।

প্রতিশোধ চান না জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যদি আজ আমার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, গত ১৭ বছরে তার ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তিনি কি তার প্রতিশোধ চান? আমি নিশ্চিত, তিনি বলতেন—প্রতিশোধ নয়, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাও।

একইভাবে নিজের ভাইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যদি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, তার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার প্রতিশোধ নিতে হবে কি না, আমি নিশ্চিত, সেও একই কথা বলত। দেশকে এগিয়ে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় জবাব।

তারেক রহমান বলেন, আপনারা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন, তখন আপনাদের লক্ষ্য ছিল এই দেশকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা, যেখানে মানুষ সম্মান নিয়ে বাঁচবে, অধিকার পাবে এবং নিরাপদে চলতে পারবে।

তিনি বলেন, আজ যখন একটি পরিবর্তন এসেছে, তখন আমাদের ভাবতে হবে যে উদ্দেশ্যে মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা কতদূর এগোতে পারলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী এবং শান্তিপ্রিয় সব মানুষের সম্মিলিত অর্জন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের তারেক রহমান বলেন, ত্যাগ সেই করতে পারে যার ত্যাগ করার সাহস ও শক্তি আছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক শক্তির কর্মীদের সেই সাহস আছে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য আমি না, আমাদের মূল লক্ষ্য আমরা। আমাদের মূল লক্ষ্য দেশ, দেশের মানুষ এবং দেশের মাটি। জুলাই শহীদ, জুলাই যোদ্ধা এবং ১৭ বছরের আন্দোলনের সব যোদ্ধার প্রতি প্রকৃত সম্মান দেখাতে হলে তাদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে।

সবাইকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই সম্মেলন থেকে আমাদের শপথ হোক কোনো বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে আমরা এগিয়ে যাব।

সম্মেলনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার অবশ্যই হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

প্রতিশোধ নয়, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে বিচারের নামে অবিচার নয়, আইন মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই না বিচারের নামে আরেকটি অবিচার হোক। যারা অপরাধ করেছে, যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার অবশ্যই হবে।

কিন্তু সেই বিচার হতে হবে আইন মেনে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী ৬৫ জন শিশু জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশাকে আরও বড় করেছে। মানুষ চায় একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অন্যায়ের বিচার অবশ্যই হবে। তবে সেই বিচার হতে হবে আইনের মাধ্যমে এবং ন্যায়সংগতভাবে।

তারেক রহমান বলেন, একজন মা তার সন্তানকে গুলি করে হত্যা হতে দেখেছেন, কেউ দেখেছেন সন্তানকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, কেউ ভাইকে হারিয়েছেন। এই বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

তিনি বলেন, আপনাদের কষ্ট অনুভব করতে পারি। শারীরিক যন্ত্রণা হোক কিংবা মানসিক কষ্ট আমি অন্তত উপলব্ধি করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আমরা দেশকে কী দিতে পারি। রাষ্ট্র যদি সব দাবি পূরণও করে, তবুও হারানো আপনজন ফিরে আসবে না, হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে না, শারীরিক ক্ষতও পুরোপুরি মুছে যাবে না।

তিনি বলেন, কিন্তু আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গর্ব করে বলতে পারবেন—আপনাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে।

প্রতিশোধ চান না জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যদি আজ আমার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, গত ১৭ বছরে তার ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তিনি কি তার প্রতিশোধ চান? আমি নিশ্চিত, তিনি বলতেন—প্রতিশোধ নয়, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাও।

একইভাবে নিজের ভাইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যদি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, তার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার প্রতিশোধ নিতে হবে কি না, আমি নিশ্চিত, সেও একই কথা বলত। দেশকে এগিয়ে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় জবাব।

তারেক রহমান বলেন, আপনারা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন, তখন আপনাদের লক্ষ্য ছিল এই দেশকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা, যেখানে মানুষ সম্মান নিয়ে বাঁচবে, অধিকার পাবে এবং নিরাপদে চলতে পারবে।

তিনি বলেন, আজ যখন একটি পরিবর্তন এসেছে, তখন আমাদের ভাবতে হবে যে উদ্দেশ্যে মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা কতদূর এগোতে পারলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী এবং শান্তিপ্রিয় সব মানুষের সম্মিলিত অর্জন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের তারেক রহমান বলেন, ত্যাগ সেই করতে পারে যার ত্যাগ করার সাহস ও শক্তি আছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক শক্তির কর্মীদের সেই সাহস আছে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য আমি না, আমাদের মূল লক্ষ্য আমরা। আমাদের মূল লক্ষ্য দেশ, দেশের মানুষ এবং দেশের মাটি। জুলাই শহীদ, জুলাই যোদ্ধা এবং ১৭ বছরের আন্দোলনের সব যোদ্ধার প্রতি প্রকৃত সম্মান দেখাতে হলে তাদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে।

সবাইকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই সম্মেলন থেকে আমাদের শপথ হোক কোনো বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে আমরা এগিয়ে যাব।

সম্মেলনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।