০৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
লক্ষ্মীপুর সদর জেলা ৫ নং পার্বতীনগর ইউনিয়নের ৮ নং মতলবপুর গ্রামে প্রয়াত প্রখ্যাত চেয়ারম্যান সফিক উল্যা ভূঁইয়ার (সফিক চেয়ারম্যান) সড়ক

লক্ষ্মীপুর ২ আসনের এমপির বাড়ি পাশের রাস্তার বেহাল দশা, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ

মো: বোরহান উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৩:০২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপির বাড়ি কাছের বেহাল রাস্তা,দুর্ঘটনায় শিকার গ্রামবাসীরা,রাস্তার কথা শুনে বাড়িতে আসেনা আত্মীয়-স্বজনেরা! ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী, চাইছে সমাধান

লক্ষ্মীপুর সদর জেলার ৫ নং পার্বতীনগর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মতলবপুর গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকার অভ্যন্তরীণ এক কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় রয়েছে। কাঁচা ও কার্পেটিং উঠে যাওয়া সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসী ও পথচারীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপির বাড়ি কাছের এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শত শত পরিবার ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

মতলবপুর গ্রামে প্রয়াত প্রখ্যাত চেয়ারম্যান সফিক উল্যা ভূঁইয়ার (সফিক চেয়ারম্যান) সড়ক, যা প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তাটি দীর্ঘ ৩ যুগ ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। আটিয়াবাজার কবিরের দোকান হয়ে গ্রামের ভেতর দিয়ে সফিক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে দিয়ে পিছনে পাকা রাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত এই ভাঙ্গা-কাঁচা ও কার্পেটিং উঠা সড়কটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন মতলবপুর গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী মাছিমনগর, খিলবাইছা, চর পার্বতীনগর, বাবুপুর, বিষ্ণুনগর, চৌধুরী কাছারী বাজার, উত্তর কৃষ্ণপুর ও কৃষ্ণপুর সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত।

সড়কটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নির্বাচন এলে অনেক জনপ্রতিনিধি ও নেতা আমাদের শুধু আশ্বাসের বাণীই শোনান। মেম্বার-চেয়ারম্যান সবাই বলেন কাজ হবে, কিন্তু বাস্তবে কেউই রাস্তাটি কাজ করে দেন না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় বর্ষা মৌসুমে পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ভাঙ্গা রাস্তায় পানি ও কাদা জমে যায়। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সড়কটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। দ্রুত যানবাহন চলাচল করতে না পারায় ভুক্তভোগীদের কষ্ট আরও বাড়ছে।

আরেক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, বেহাল সড়কের কারণে অটোরিকশা ও ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই বিকল হয়ে যাচ্ছে। চালকরা এই ভাঙ্গা রাস্তায় সহজে আসতে চান না। কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না এবং রোগীসহ স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

উক্ত এলাকার সচেতন নারী বাসিন্দার অভিযোগ, সড়কটি পাকাকরণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার দাবি জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কাদা আর জরাজীর্ণ রাস্তার কারণে এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ থমকে গেছে। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই এক কিলোমিটার কাঁচা ও জরাজীর্ণ ভাঙ্গা রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন, এই জোরালো দাবি জানিয়েছেন আরো ভুক্তভোগী নারীসহ কয়েক গ্রামের মানুষ।

সড়কের দুর্দশা নিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ কামরুজ্জামান আমাদেরকে ফোন বলেন, গত বছর আমিও আশা দেখেছিলাম কিন্তু সরকার পতনের ফলে আমি আর কাজ করতে পারি নাই। তবে কার্যকর পদক্ষেপ কেউ না নিলেও, আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ আমাকে ভোটে বিজয়ী করলে আমার প্রথম অগ্রাধিকারমূলক কাজ হবে এই অবহেলিত প্রখ্যাত চেয়ারম্যান সফিক উল্যা ভূঁইয়ার (সফিক চেয়ারম্যান) সড়কটির টেকসই পুনর্নির্মাণ নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাহী অফিসার মুঠোফোনে পাওয়া যায় নাই। তবে এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, সড়কটির দুরবস্থার বিষয়টি এমপিসহ সরকারি লোকজনের বিশেষ নজর দিয়ে রাস্তাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই বর্ষা মৌসুমের পর পরেই এমপি বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত যেন সড়কটির স্থায়ী সমাধান করা হয়।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুর সদর জেলা ৫ নং পার্বতীনগর ইউনিয়নের ৮ নং মতলবপুর গ্রামে প্রয়াত প্রখ্যাত চেয়ারম্যান সফিক উল্যা ভূঁইয়ার (সফিক চেয়ারম্যান) সড়ক

লক্ষ্মীপুর ২ আসনের এমপির বাড়ি পাশের রাস্তার বেহাল দশা, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ

আপডেট সময় ০৩:০২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

লক্ষ্মীপুর সদর জেলার ৫ নং পার্বতীনগর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মতলবপুর গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকার অভ্যন্তরীণ এক কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় রয়েছে। কাঁচা ও কার্পেটিং উঠে যাওয়া সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসী ও পথচারীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপির বাড়ি কাছের এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শত শত পরিবার ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

মতলবপুর গ্রামে প্রয়াত প্রখ্যাত চেয়ারম্যান সফিক উল্যা ভূঁইয়ার (সফিক চেয়ারম্যান) সড়ক, যা প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তাটি দীর্ঘ ৩ যুগ ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। আটিয়াবাজার কবিরের দোকান হয়ে গ্রামের ভেতর দিয়ে সফিক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে দিয়ে পিছনে পাকা রাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত এই ভাঙ্গা-কাঁচা ও কার্পেটিং উঠা সড়কটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন মতলবপুর গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী মাছিমনগর, খিলবাইছা, চর পার্বতীনগর, বাবুপুর, বিষ্ণুনগর, চৌধুরী কাছারী বাজার, উত্তর কৃষ্ণপুর ও কৃষ্ণপুর সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত।

সড়কটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নির্বাচন এলে অনেক জনপ্রতিনিধি ও নেতা আমাদের শুধু আশ্বাসের বাণীই শোনান। মেম্বার-চেয়ারম্যান সবাই বলেন কাজ হবে, কিন্তু বাস্তবে কেউই রাস্তাটি কাজ করে দেন না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় বর্ষা মৌসুমে পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ভাঙ্গা রাস্তায় পানি ও কাদা জমে যায়। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সড়কটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। দ্রুত যানবাহন চলাচল করতে না পারায় ভুক্তভোগীদের কষ্ট আরও বাড়ছে।

আরেক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, বেহাল সড়কের কারণে অটোরিকশা ও ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই বিকল হয়ে যাচ্ছে। চালকরা এই ভাঙ্গা রাস্তায় সহজে আসতে চান না। কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না এবং রোগীসহ স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

উক্ত এলাকার সচেতন নারী বাসিন্দার অভিযোগ, সড়কটি পাকাকরণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার দাবি জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কাদা আর জরাজীর্ণ রাস্তার কারণে এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ থমকে গেছে। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই এক কিলোমিটার কাঁচা ও জরাজীর্ণ ভাঙ্গা রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন, এই জোরালো দাবি জানিয়েছেন আরো ভুক্তভোগী নারীসহ কয়েক গ্রামের মানুষ।

সড়কের দুর্দশা নিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ কামরুজ্জামান আমাদেরকে ফোন বলেন, গত বছর আমিও আশা দেখেছিলাম কিন্তু সরকার পতনের ফলে আমি আর কাজ করতে পারি নাই। তবে কার্যকর পদক্ষেপ কেউ না নিলেও, আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ আমাকে ভোটে বিজয়ী করলে আমার প্রথম অগ্রাধিকারমূলক কাজ হবে এই অবহেলিত প্রখ্যাত চেয়ারম্যান সফিক উল্যা ভূঁইয়ার (সফিক চেয়ারম্যান) সড়কটির টেকসই পুনর্নির্মাণ নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাহী অফিসার মুঠোফোনে পাওয়া যায় নাই। তবে এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, সড়কটির দুরবস্থার বিষয়টি এমপিসহ সরকারি লোকজনের বিশেষ নজর দিয়ে রাস্তাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই বর্ষা মৌসুমের পর পরেই এমপি বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত যেন সড়কটির স্থায়ী সমাধান করা হয়।