০৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

দল হিসেবে অপরাধের সঙ্গে আ.লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে দল হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং এ কারণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা আছে বিধায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

আমাদের তদন্ত টিম কাজ করছে। প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা তো আছেই। তদন্ত সম্পন্ন হওয়া সময়ের ব্যাপার। প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতার মধ্যে কী আছে—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্যে দলগত তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে। ব্যক্তিগত দায় আছে। সুপিরিয়র দায় আছে। এগুলো নিয়েই আমাদের তদন্ত এগুচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। এনডিএমের প্রতিষ্ঠাতা হলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। নির্বাচনের সময় তিনি ওই দল ছেড়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে বিএনপি সরকারে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

এর আগে রোববার (৫ জুলাই) চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি হবে না, সে বিষয়ে সংস্থা তদন্ত করছে। তদন্ত করার পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, আমার কাছে রিপোর্ট যদি দাখিল করা হয়, আমি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। আপাতত এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান আছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু করলে তা সরকার পতন আন্দোলনে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যান।

পরে ওই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার তদন্ত শেষে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরা হয় এবং সেই সংঘাতে অনেক শিশু-কিশোরসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এই দমন-পীড়নে খোদ শেখ হাসিনাই সমন্বয়কারীর ভূমিকায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

দল হিসেবে অপরাধের সঙ্গে আ.লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় ০৫:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে দল হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং এ কারণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা আছে বিধায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

আমাদের তদন্ত টিম কাজ করছে। প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা তো আছেই। তদন্ত সম্পন্ন হওয়া সময়ের ব্যাপার। প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতার মধ্যে কী আছে—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্যে দলগত তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে। ব্যক্তিগত দায় আছে। সুপিরিয়র দায় আছে। এগুলো নিয়েই আমাদের তদন্ত এগুচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। এনডিএমের প্রতিষ্ঠাতা হলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। নির্বাচনের সময় তিনি ওই দল ছেড়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে বিএনপি সরকারে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

এর আগে রোববার (৫ জুলাই) চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি হবে না, সে বিষয়ে সংস্থা তদন্ত করছে। তদন্ত করার পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, আমার কাছে রিপোর্ট যদি দাখিল করা হয়, আমি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। আপাতত এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান আছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু করলে তা সরকার পতন আন্দোলনে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যান।

পরে ওই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার তদন্ত শেষে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরা হয় এবং সেই সংঘাতে অনেক শিশু-কিশোরসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এই দমন-পীড়নে খোদ শেখ হাসিনাই সমন্বয়কারীর ভূমিকায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।