০৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রীয় বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য লাভের দোয়া

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৪:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৩ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

মানব ইতিহাসে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সর্বশ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মহানবী (সা.)। তিনি কখনো ক্ষমতা, প্রভাব বা নেতৃত্বকে ব্যক্তিগত মর্যাদা অর্জনের উপায় মনে করেননি; বরং এগুলোকে আল্লাহর অর্পিত আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

তাই জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি আল্লাহর কাছেই সাহায্য, দিকনির্দেশনা ও সফলতা প্রার্থনা করেছেন।
মক্কার দীর্ঘ নির্যাতনের পর যখন ইসলামের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছিল এবং আল্লাহর নির্দেশে হিজরতের সময় ঘনিয়ে এসেছিল, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীকে একটি মহিমান্বিত দোয়া শিক্ষা দেন। এই দোয়া শুধু হিজরতের জন্য নয়; বরং যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, নেতৃত্ব, সমাজ সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর সাহায্য কামনার এক চিরন্তন প্রার্থনা। দোয়াটি হলো-

رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا

উচ্চারণ : রাব্বি আদখিলনি মুদখালা সিদকিও, ওয়া আখরিজনি মুখরাজা সিদকিও, ওয়াজআল লি মিল্লাদুনকা সুলতানান নাসিরা।

অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সম্মানজনকভাবে প্রবেশ করান, সম্মানজনকভাবে বের করুন এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে এমন শক্তি, কর্তৃত্ব বা সাহায্য দান করুন, যা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হয়।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৮০)

ইবনু কাসির, তাবারি ও কুরতুবীসহ বহু মুফাসসির উল্লেখ করেছেন, এ আয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরত। এখানে ‘সুলতানান নাসিরা’ বলতে আল্লাহর প্রদত্ত এমন শক্তি, কর্তৃত্ব, দলিল ও সাহায্যকে বোঝানো হয়েছে, যার মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাতিল পরাভূত হয়।

মদিনায় পৌঁছে মহানবী (সা.) এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন, যার ভিত্তি ছিল ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আইনের শাসন।

সেখানে ধনী-গরিব, শক্তিশালী-দুর্বল, শাসক-প্রজা—সবার জন্য একই বিচারব্যবস্থা কার্যকর ছিল। এই সাফল্যের মূল রহস্য ছিল আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা, আন্তরিক দোয়া এবং অবিচল তাওয়াক্কুল। তাই এই দোয়া শুধু রাষ্ট্রপ্রধান, বিচারক বা শাসকদের জন্য নয়; বরং শিক্ষক, দাঈ, সমাজসংস্কারক, প্রশাসক, অভিভাবক এবং যেকোনো দায়িত্বশীল মানুষের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আজকের পৃথিবীতে নেতৃত্ব, ক্ষমতা ও প্রভাবের প্রতিযোগিতা প্রবল। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো—ক্ষমতা নয়, বরং ন্যায়; আধিপত্য নয়, বরং আমানত; ব্যক্তিস্বার্থ নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মহান দোয়া আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠ করার তাওফিক দান করুন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অবিচল রাখুন এবং তাঁর পক্ষ থেকে সাহায্যকারী শক্তি ও সফলতা দান করুন। আমিন।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

রাষ্ট্রীয় বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য লাভের দোয়া

আপডেট সময় ০৪:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মানব ইতিহাসে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সর্বশ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মহানবী (সা.)। তিনি কখনো ক্ষমতা, প্রভাব বা নেতৃত্বকে ব্যক্তিগত মর্যাদা অর্জনের উপায় মনে করেননি; বরং এগুলোকে আল্লাহর অর্পিত আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

তাই জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি আল্লাহর কাছেই সাহায্য, দিকনির্দেশনা ও সফলতা প্রার্থনা করেছেন।
মক্কার দীর্ঘ নির্যাতনের পর যখন ইসলামের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছিল এবং আল্লাহর নির্দেশে হিজরতের সময় ঘনিয়ে এসেছিল, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীকে একটি মহিমান্বিত দোয়া শিক্ষা দেন। এই দোয়া শুধু হিজরতের জন্য নয়; বরং যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, নেতৃত্ব, সমাজ সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর সাহায্য কামনার এক চিরন্তন প্রার্থনা। দোয়াটি হলো-

رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا

উচ্চারণ : রাব্বি আদখিলনি মুদখালা সিদকিও, ওয়া আখরিজনি মুখরাজা সিদকিও, ওয়াজআল লি মিল্লাদুনকা সুলতানান নাসিরা।

অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সম্মানজনকভাবে প্রবেশ করান, সম্মানজনকভাবে বের করুন এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে এমন শক্তি, কর্তৃত্ব বা সাহায্য দান করুন, যা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হয়।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৮০)

ইবনু কাসির, তাবারি ও কুরতুবীসহ বহু মুফাসসির উল্লেখ করেছেন, এ আয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরত। এখানে ‘সুলতানান নাসিরা’ বলতে আল্লাহর প্রদত্ত এমন শক্তি, কর্তৃত্ব, দলিল ও সাহায্যকে বোঝানো হয়েছে, যার মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাতিল পরাভূত হয়।

মদিনায় পৌঁছে মহানবী (সা.) এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন, যার ভিত্তি ছিল ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আইনের শাসন।

সেখানে ধনী-গরিব, শক্তিশালী-দুর্বল, শাসক-প্রজা—সবার জন্য একই বিচারব্যবস্থা কার্যকর ছিল। এই সাফল্যের মূল রহস্য ছিল আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা, আন্তরিক দোয়া এবং অবিচল তাওয়াক্কুল। তাই এই দোয়া শুধু রাষ্ট্রপ্রধান, বিচারক বা শাসকদের জন্য নয়; বরং শিক্ষক, দাঈ, সমাজসংস্কারক, প্রশাসক, অভিভাবক এবং যেকোনো দায়িত্বশীল মানুষের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আজকের পৃথিবীতে নেতৃত্ব, ক্ষমতা ও প্রভাবের প্রতিযোগিতা প্রবল। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো—ক্ষমতা নয়, বরং ন্যায়; আধিপত্য নয়, বরং আমানত; ব্যক্তিস্বার্থ নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মহান দোয়া আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠ করার তাওফিক দান করুন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অবিচল রাখুন এবং তাঁর পক্ষ থেকে সাহায্যকারী শক্তি ও সফলতা দান করুন। আমিন।