বাংলাদেশের নতুন জার্সির দাম ১৬০০ টাকা, কারণ কী?
- আপডেট সময় ০৫:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ফুটবল দলের নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। তবে জার্সির দাম নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ সমর্থকদের মাঝে।
১৬০০ টাকা মূল্যের এই জার্সি সাধারণ ফ্যানদের নাগালের বাইরে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জার্সি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘দৌড়’-এর সিইও আবিদ আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) বড় অঙ্কের রয়্যালটি বা কমিশন দিতে হয় বলেই জার্সির দাম তুলনামূলক বেশি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল দলের এই নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জার্সির দাম, প্রযুক্তি এবং উন্মোচনে বিলম্বের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন আবিদ আলম চৌধুরী। অফিসিয়াল জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০০ টাকা এবং নাম ও নম্বর যুক্ত করলে তা পড়বে ১৭০০ টাকা।
দাম সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে কি না, এমন প্রশ্নে দৌড় সিইও বলেন, ‘অনেকের কাছে মনে হতে পারে এটা মাস মার্কেটের জন্য নয়। কিন্তু বুঝতে হবে, আমরা শুধু ৩০০ টাকায় কাপড় কিনে সেলাই করে দিচ্ছি না।
এখান থেকে একটা বড় অঙ্কের রয়্যালটি বাফুফেকে দিতে হয়। এছাড়া মার্কেটিং ও বিশ্বব্যাপী ডিস্ট্রিবিউশনের পেছনে আমাদের বিশাল খরচ রয়েছে। সবকিছু সমন্বয় করেই এই দাম নির্ধারণ করতে হয়েছে।’
তবে সাধারণ সমর্থকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে জার্সির একটি ‘ফ্যান এডিশন’ বাজারে ছাড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গত জুন মাস থেকেই নতুন এই জার্সি প্রস্তুত থাকলেও উন্মোচনে বিলম্বের কারণ হিসেবে বাফুফের সিদ্ধান্তকেই সামনে এনেছেন আবিদ আলম। তিনি জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে জাতীয় দলের জার্সি যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য বাফুফে সভাপতি সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। পাশাপাশি ফিফা প্রতিনিধি এবং ভিআইপি অতিথিদের শিডিউল মেলাতেও কিছুটা সময় লেগেছে।
নতুন জার্সির প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে দৌড় সিইও জানান, তুরস্ক, চীন ও ভিয়েতনামে ঘুরে বিভিন্ন প্রযুক্তির ধারণা নিয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় কারখানায় এই জার্সি তৈরি হয়েছে। এতে বিশেষ ‘কুইক ড্রাই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে জার্সি ভিজলে মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে শুকিয়ে যাবে। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতেই এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
আপাতত ফিফার রেগুলেশন মেনে হোম (সবুজ) ও অ্যাওয়ে (সাদা) জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। থার্ড কিটের ডিজাইন জমা দেওয়া হলেও বাফুফে এখনও অনুমোদন দেয়নি। বাফুফের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। সাফের পর চুক্তি নবায়ন হলে থার্ড কিট বাজারে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
মূল্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিক্রির ক্ষেত্রে বেশ আশাবাদী প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ পিস জার্সি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দৌড়। আবিদ আলম চৌধুরী জানান, উন্মোচনের আগেই রবি ও বাংলালিংকের মতো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে না দেখেই ১০০০ থেকে ১৫০০ পিসের প্রি-অর্ডার পাওয়া গেছে। আসন্ন এশিয়ান কাপ এবং ঘরের মাঠের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে কেন্দ্র করে জার্সির বিক্রি গতবারের তুলনায় অনেক বাড়বে বলে প্রত্যাশা তাদের।











