০৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

এক দিনের রিমান্ডে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৫:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ০ বার পড়া হয়েছে

আদালতে নেওয়ার সময় দিলীপ কুমার আগরওয়ালা

প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আজ আদালতে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল হাসান। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলাটি তদন্তাধীন। অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনার জন্য দিলীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। এসময় বিদেশ থেকে বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচার রেজিস্টারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তদন্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলার অভিযোগও মিথ্যা বলে দাবি করেন তারা।

এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় দিলীপকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির এসআই মো. আশরাফুল হাসান মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার সুনির্দিষ্ট ঘটনা উদঘাটন, সোনা ও হীরার প্রকৃত উৎস, এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অর্থ পাচারের পরিধি নির্ধারণে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন ।

রাষ্ট্র পক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডে পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার কবীর বাবুল রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত দিলীপকে এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশে সোনা ও হীরার ব্যবসার আড়ালে ‘অর্থ পাচার ও চোরাচালানে’ জড়িত ছিলেন।

এজাহারে বলা হয়, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে মাত্র ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সোনার বার, অলংকার, অলঙ্কারে বসানোর জন্য প্রস্তুত ডায়মন্ড বৈধভাবে আমদানি করা হয়।

অথচ একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় ও পরিবর্তন পদ্ধতিতে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা সংগ্রহ করেছে তার কোম্পানি।

সিআইডির অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ সোনা ও হীরা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এর উৎস ও সরবরাহকারীদের বিষয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় এসব সোনা ও হীরা অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ ঘটনায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ও অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করেন।

সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তখনকার র‌্যাব।

সেদিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালানো হয়।

পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। হেফাজতে নিয়ে দিলীপ আগারওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। পরবর্তীতে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ কুমার আগারওয়ালা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য তিনি।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

এক দিনের রিমান্ডে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা

আপডেট সময় ০৫:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আজ আদালতে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল হাসান। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলাটি তদন্তাধীন। অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনার জন্য দিলীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। এসময় বিদেশ থেকে বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচার রেজিস্টারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তদন্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলার অভিযোগও মিথ্যা বলে দাবি করেন তারা।

এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় দিলীপকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির এসআই মো. আশরাফুল হাসান মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার সুনির্দিষ্ট ঘটনা উদঘাটন, সোনা ও হীরার প্রকৃত উৎস, এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অর্থ পাচারের পরিধি নির্ধারণে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন ।

রাষ্ট্র পক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডে পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার কবীর বাবুল রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত দিলীপকে এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশে সোনা ও হীরার ব্যবসার আড়ালে ‘অর্থ পাচার ও চোরাচালানে’ জড়িত ছিলেন।

এজাহারে বলা হয়, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে মাত্র ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সোনার বার, অলংকার, অলঙ্কারে বসানোর জন্য প্রস্তুত ডায়মন্ড বৈধভাবে আমদানি করা হয়।

অথচ একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় ও পরিবর্তন পদ্ধতিতে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা সংগ্রহ করেছে তার কোম্পানি।

সিআইডির অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ সোনা ও হীরা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এর উৎস ও সরবরাহকারীদের বিষয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় এসব সোনা ও হীরা অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ ঘটনায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ও অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করেন।

সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তখনকার র‌্যাব।

সেদিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালানো হয়।

পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। হেফাজতে নিয়ে দিলীপ আগারওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। পরবর্তীতে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ কুমার আগারওয়ালা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য তিনি।