ইতালির মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি, বন্ধ বিলাসপণ্যের দোকান
- আপডেট সময় ০২:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১ বার পড়া হয়েছে
ইতালির মিলান শহরে দুই দিনের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও লুটপাটের পর নিরাপত্তা জোরদারে ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার এ ঘোষণা দেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি।রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ খবর বলা হয়েছে।
নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় শহরের কেন্দ্রস্থলে দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি বিশেষ নিরাপত্তা প্যাকেজ অনুমোদনের কথা রয়েছে।
ইতালির দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘মিলানকে রক্ষায় আরো ৫০০ সেনা।’
মিলানের কেন্দ্রস্থলে কয়েক শতাধিক বিক্ষোভকারী অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাটে লুটপাট চালান। তাদের অনেকেরই বয়স কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার সরকারি সেবার মান ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।
এদিকে নতুন করে লুটপাটের আশঙ্কায় মিলানের অভিজাত কেনাকাটার এলাকা ভিয়া মনতেনাপোলিওনের বিভিন্ন দোকানের প্রদর্শনী থেকে মূল্যবান পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।এলাকাটিতে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।
শ্যানেল, টিফানি ও ডিওরের মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মিলানে বিক্ষোভের সময় লুটপাটের শিকার হয়েছে ডেক্যাথলন, আর্কটেরিক্স ও ভোডাফোনের মতো প্রতিষ্ঠান। টেলিভিশন ফুটেজে এসব দোকানে লুটপাটের চিত্র দেখা গেছে। নতুন করে হামলা ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় লেভিস, আন্ডার আর্মার ও ডেক্যাথলনের মতো ব্র্যান্ডের দোকানের জানালা কার্ডবোর্ড ও কাঠের প্যানেল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
এদিকে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার মন্ত্রী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আগামী বছর ইতালিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেছেন, রাষ্ট্রের ওপর এই হামলার জবাব কঠোরভাবে দেবে সরকার। অপ্রাপ্তবয়স্কদের জড়িত সহিংসতা দমনেও নেওয়া হবে কঠোর পদক্ষেপ।
ইতালির সংবাদপত্র ‘করিয়েরে দেল্লা সেরা’ জানিয়েছে, সহিংসতা ঠেকাতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিরোধমূলক আটকের মেয়াদ বাড়ানো এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এ লক্ষ্যে সংসদে পর্যালোচনাধীন একটি নিরাপত্তা বিলের কিছু বিধান দ্রুত কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
ইতালির মিলানে রবিবারের অস্থিরতার ঘটনায় ২৭১ জন তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া আরো ২৮ জনের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পুলিশের রবিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার মিলানসহ ইতালির উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি শহরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব শহরের মধ্যে রয়েছে বোলোগনা, ব্রেসিয়া, বেরগামো ও তুরিন। শনিবারের সংঘর্ষের পরই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিনের ঘটনায় ২৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ফ্রান্সের অস্থিরতারও প্রভাব পড়েছে ইতালিতে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার অবনতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার ফ্রান্সে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ছিল দেশটির অন্যতম সহিংস বিক্ষোভ।





















