০৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে পর্যটন নগরী করতে চাই: ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৫:২২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

তীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

‘আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী’—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সাদামাটির পাহাড় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ইতিমধ্যে পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। মন্ত্রী শিগগিরই এ এলাকা পরিদর্শন করবেন।

এর আগে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল এসে এলাকার পর্যটন সম্ভাব্যতা যাচাই করবে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই এলাকার আকাশচিত্র বা এরিয়াল ভিউ ধারণের চেষ্টা করা হবে। পরে সেই চিত্র পর্যটন করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হবে।

কায়সার কামাল বলেন, এত দিন দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও নথিপত্রের ঘাটতি ছিল।

এবার সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু হয়েছে। শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান তারা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরার পরিকল্পনা
দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এ অঞ্চলে রয়েছে চিনামাটির পাহাড়, গারো পাহাড় এবং স্বচ্ছ পানির সোমেশ্বরী নদী। পাহাড় ও নীল পানির সমন্বয়ে এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য অনন্য। পাহাড়ের কিছু এলাকায় গেলে কাশ্মীরের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশের অনুভূতি পাওয়া যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এত দিন এ এলাকার যথাযথ পরিচর্যা হয়নি বলে উল্লেখ করেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দুর্গাপুর-কলমাকান্দার সৌন্দর্য সারা দেশের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরতে চান তাঁরা। দ্রুত এ অঞ্চলকে নির্দিষ্ট পর্যটন এলাকার আওতায় এনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন এলাকা ঘোষণার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরি এবং বিনিয়োগের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শীত মৌসুমে পর্যটকদের নিরাপত্তায় উদ্যোগ
শীত মৌসুমে দুর্গাপুরে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এ সময়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। পর্যটকদের নিরাপত্তায় এলাকায় টুরিস্ট পুলিশ মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়ারও চেষ্টা করবেন।

কায়সার কামাল বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে একটি আদর্শ পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তার লক্ষ্য, এ অঞ্চলের পর্যটন নগরী হওয়ার প্রত্যাশা যেন শুধু কথায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও নথিপত্রের মাধ্যমেও বাস্তব রূপ পায়।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে পর্যটন নগরী করতে চাই: ডেপুটি স্পিকার

আপডেট সময় ০৫:২২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

‘আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী’—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সাদামাটির পাহাড় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ইতিমধ্যে পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। মন্ত্রী শিগগিরই এ এলাকা পরিদর্শন করবেন।

এর আগে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল এসে এলাকার পর্যটন সম্ভাব্যতা যাচাই করবে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই এলাকার আকাশচিত্র বা এরিয়াল ভিউ ধারণের চেষ্টা করা হবে। পরে সেই চিত্র পর্যটন করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হবে।

কায়সার কামাল বলেন, এত দিন দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও নথিপত্রের ঘাটতি ছিল।

এবার সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু হয়েছে। শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান তারা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরার পরিকল্পনা
দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এ অঞ্চলে রয়েছে চিনামাটির পাহাড়, গারো পাহাড় এবং স্বচ্ছ পানির সোমেশ্বরী নদী। পাহাড় ও নীল পানির সমন্বয়ে এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য অনন্য। পাহাড়ের কিছু এলাকায় গেলে কাশ্মীরের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশের অনুভূতি পাওয়া যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এত দিন এ এলাকার যথাযথ পরিচর্যা হয়নি বলে উল্লেখ করেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দুর্গাপুর-কলমাকান্দার সৌন্দর্য সারা দেশের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরতে চান তাঁরা। দ্রুত এ অঞ্চলকে নির্দিষ্ট পর্যটন এলাকার আওতায় এনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন এলাকা ঘোষণার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরি এবং বিনিয়োগের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শীত মৌসুমে পর্যটকদের নিরাপত্তায় উদ্যোগ
শীত মৌসুমে দুর্গাপুরে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এ সময়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। পর্যটকদের নিরাপত্তায় এলাকায় টুরিস্ট পুলিশ মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়ারও চেষ্টা করবেন।

কায়সার কামাল বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে একটি আদর্শ পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তার লক্ষ্য, এ অঞ্চলের পর্যটন নগরী হওয়ার প্রত্যাশা যেন শুধু কথায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও নথিপত্রের মাধ্যমেও বাস্তব রূপ পায়।