১১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশি সমর্থকদের পাশে চায় হালান্ডের নরওয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে ফুটবল-উন্মাদনার বড় অংশ জুড়ে থাকে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। গত কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন বিশ্বজুড়েই আলোচনায় এসেছিল।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন। এবার সেই ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইছে আর্লিং হালান্ডদের দেশ নরওয়ে।

ঢাকায় অবস্থিত রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অ্যাম্বাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কৌশলী ও আকর্ষণীয় পোস্টে বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের নরওয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকায় নরওয়েকে ‘দ্বিতীয় দল’ হিসেবে বেছে নেওয়ার যুক্তিও দিয়েছে তারা।

দূতাবাসের পোস্টের শিরোনাম ছিল, ‘২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়েকে বাংলাদেশের সমর্থন দেওয়া উচিত।’ এরপরই প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে, কেন নরওয়েকে সমর্থন করবেন বাংলাদেশিরা?

নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের ভাষ্য, বাংলাদেশ ও নরওয়ের সম্পর্ক শুধু ফুটবল দিয়ে মাপার নয়।

দুই দেশের মধ্যে ইতিহাস, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া শুরুর দিকের দেশগুলোর মধ্যে নরওয়েও ছিল। পাশাপাশি শান্তি, মধ্যস্থতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়নমূলক কাজে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে আসছে।

দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে নেই। তাই বাংলাদেশিদের সমর্থনের জন্য নরওয়ে হতে পারে উপযুক্ত একটি দল। কারণ দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরেছে নরওয়েজিয়ানরা।

বাংলাদেশি সমর্থকদের মন জিততে দুই দেশের কিছু মিলও তুলে ধরেছে দূতাবাস। তাদের মতে, বাংলাদেশ ও নরওয়ে—দুই দেশই নদী ও সমুদ্রঘেরা উপকূলীয় অঞ্চলসমৃদ্ধ। মাছের প্রতি দুই দেশের মানুষের ভালোবাসাও আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে পোস্টে।

ফুটবলের বাইরেও দুই দেশের মূল্যবোধে মিল দেখছে নরওয়ে। দূতাবাস লিখেছে, দুই দেশই ফেয়ার প্লে বা ন্যায্যতায় বিশ্বাস করে—হোক তা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, উন্নয়নমূলক কাজ কিংবা ফুটবল মাঠে।

আকার নিয়েও মজার তুলনা টেনেছে নরওয়েজিয়ান দূতাবাস। তাদের ভাষায়, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে তুলনামূলক ছোট দেশ, আর নরওয়ে জনসংখ্যার দিক থেকে ছোট। তবে বৈশ্বিক মঞ্চে দুই দেশই বড় স্বপ্ন দেখে।

বাংলাদেশি সমর্থকদের আকর্ষণ করতে শেষ যুক্তি হিসেবে তারা সামনে এনেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা আর্লিং ব্রাউট হালান্ডকে। ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন খেলবেন নরওয়ের জার্সিতে। যারা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, তাদের জন্য হালান্ডকে ‘বোনাস’ কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে দূতাবাস।

পোস্টের শেষে বাংলাদেশি সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে নরওয়েজিয়ান দূতাবাস লিখেছে, এবার আন্ডারডগদের পাশে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। সময় এসেছে একসঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখার।

২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ে খেলবে ফ্রান্সের গ্রুপে। গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স ছাড়াও গ্রুপে আছে ইরাক ও সেনেগাল। ১৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নরওয়ে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশি সমর্থকদের পাশে চায় হালান্ডের নরওয়ে

আপডেট সময় ০৫:০২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে ফুটবল-উন্মাদনার বড় অংশ জুড়ে থাকে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। গত কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন বিশ্বজুড়েই আলোচনায় এসেছিল।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন। এবার সেই ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইছে আর্লিং হালান্ডদের দেশ নরওয়ে।

ঢাকায় অবস্থিত রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অ্যাম্বাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কৌশলী ও আকর্ষণীয় পোস্টে বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের নরওয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকায় নরওয়েকে ‘দ্বিতীয় দল’ হিসেবে বেছে নেওয়ার যুক্তিও দিয়েছে তারা।

দূতাবাসের পোস্টের শিরোনাম ছিল, ‘২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়েকে বাংলাদেশের সমর্থন দেওয়া উচিত।’ এরপরই প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে, কেন নরওয়েকে সমর্থন করবেন বাংলাদেশিরা?

নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের ভাষ্য, বাংলাদেশ ও নরওয়ের সম্পর্ক শুধু ফুটবল দিয়ে মাপার নয়।

দুই দেশের মধ্যে ইতিহাস, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া শুরুর দিকের দেশগুলোর মধ্যে নরওয়েও ছিল। পাশাপাশি শান্তি, মধ্যস্থতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়নমূলক কাজে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে আসছে।

দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে নেই। তাই বাংলাদেশিদের সমর্থনের জন্য নরওয়ে হতে পারে উপযুক্ত একটি দল। কারণ দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরেছে নরওয়েজিয়ানরা।

বাংলাদেশি সমর্থকদের মন জিততে দুই দেশের কিছু মিলও তুলে ধরেছে দূতাবাস। তাদের মতে, বাংলাদেশ ও নরওয়ে—দুই দেশই নদী ও সমুদ্রঘেরা উপকূলীয় অঞ্চলসমৃদ্ধ। মাছের প্রতি দুই দেশের মানুষের ভালোবাসাও আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে পোস্টে।

ফুটবলের বাইরেও দুই দেশের মূল্যবোধে মিল দেখছে নরওয়ে। দূতাবাস লিখেছে, দুই দেশই ফেয়ার প্লে বা ন্যায্যতায় বিশ্বাস করে—হোক তা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, উন্নয়নমূলক কাজ কিংবা ফুটবল মাঠে।

আকার নিয়েও মজার তুলনা টেনেছে নরওয়েজিয়ান দূতাবাস। তাদের ভাষায়, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে তুলনামূলক ছোট দেশ, আর নরওয়ে জনসংখ্যার দিক থেকে ছোট। তবে বৈশ্বিক মঞ্চে দুই দেশই বড় স্বপ্ন দেখে।

বাংলাদেশি সমর্থকদের আকর্ষণ করতে শেষ যুক্তি হিসেবে তারা সামনে এনেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা আর্লিং ব্রাউট হালান্ডকে। ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন খেলবেন নরওয়ের জার্সিতে। যারা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, তাদের জন্য হালান্ডকে ‘বোনাস’ কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে দূতাবাস।

পোস্টের শেষে বাংলাদেশি সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে নরওয়েজিয়ান দূতাবাস লিখেছে, এবার আন্ডারডগদের পাশে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। সময় এসেছে একসঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখার।

২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ে খেলবে ফ্রান্সের গ্রুপে। গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স ছাড়াও গ্রুপে আছে ইরাক ও সেনেগাল। ১৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নরওয়ে।