০১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হোক

স্মার্ট বাংলাদেশের পথে স্মার্ট নেতৃত্ব: সময়ের দাবি, নাকি গণতন্ত্রের নতুন বিতর্ক?

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ১২:২৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে

মো. বোরহান উদ্দিন উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক কলাম লেখক

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো ইউনিয়ন পরিষদ। একটি ইউনিয়নের মানুষের জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, ভূমি-সংক্রান্ত প্রত্যয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা—অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই।

প্রশ্ন হলো—একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল বাংলাদেশে, যেখানে প্রশাসন দিন দিন প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক হচ্ছে, সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ করা কি সময়ের দাবি নয়?

আমার বিশ্বাস, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস হওয়া উচিত।

এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

প্রথমত, বর্তমান সময়ে একজন চেয়ারম্যানকে শুধু জনপ্রতিনিধি হলেই চলে না; তাঁকে একজন দক্ষ প্রশাসকও হতে হয়। সরকারি নীতিমালা, উন্নয়ন প্রকল্প, বাজেট, টেন্ডার, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, আইনি বিধান এবং ডিজিটাল সেবার সঙ্গে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হয়। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা একজন ব্যক্তিকে তথ্য বিশ্লেষণ, যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নথিপত্র বোঝার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি দক্ষ করে তোলে।

দ্বিতীয়ত, বর্তমানে অধিকাংশ সরকারি কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক। ই-গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা, সরকারি পোর্টাল ব্যবহার, বিভিন্ন অনলাইন রিপোর্টিং ও তথ্য ব্যবস্থাপনা এখন স্থানীয় সরকারের নিয়মিত কাজ। একজন শিক্ষিত চেয়ারম্যান এসব প্রযুক্তি দ্রুত আত্মস্থ করতে এবং কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে তুলনামূলকভাবে সক্ষম হবেন।

তৃতীয়ত, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। এই অর্থের সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছ ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা থাকা জরুরি। উচ্চশিক্ষা একমাত্র যোগ্যতার মাপকাঠি না হলেও এটি একজন প্রতিনিধির বিশ্লেষণী সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চতুর্থত, আজকের তরুণ প্রজন্ম শিক্ষাকে জীবনের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ হিসেবে দেখে। যদি স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাচিত পদেও শিক্ষার মূল্যায়ন হয়, তাহলে সমাজে শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক বার্তা যাবে। এটি তরুণদের উচ্চশিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে পারে।

পঞ্চমত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় সরকার পরিচালনায় দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর করতে প্রতিনিধিদের যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতায়ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি রয়েছে, যা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

সবচেয়ে বড় আপত্তি হলো, গণতন্ত্রে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক। একজন ব্যক্তি যদি মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন, তাহলে কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা কি গণতান্ত্রিক হবে? ইতিহাসে এমন বহু জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, যাঁরা উচ্চশিক্ষিত না হয়েও অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন।

আরেকটি বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অনেক প্রবীণ সমাজনেতা, মুক্তিযোদ্ধা, কৃষকনেতা কিংবা সমাজসেবক নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাননি। তাঁদের অভিজ্ঞতা, সততা এবং জনসম্পৃক্ততা অনেক সময় স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তির চেয়েও মূল্যবান হতে পারে। কঠোর শিক্ষাগত শর্ত তাঁদের নির্বাচন থেকে বাদ দিতে পারে।

এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সমান নয়। স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করলে কিছু এলাকায় যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই কারণে, যদি ভবিষ্যতে এমন কোনো আইন করা হয়, তবে তা হঠাৎ নয়; ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও পেশাদার করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সবশেষে একটি বিষয় পরিষ্কার—স্নাতক ডিগ্রি কখনোই সততা, নৈতিকতা বা জনকল্যাণের নিশ্চয়তা দেয় না। আবার শিক্ষার গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না। একজন আদর্শ চেয়ারম্যানের জন্য প্রয়োজন সততা, জবাবদিহিতা, নেতৃত্ব, মানবিকতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা। স্নাতক ডিগ্রি এই গুণগুলোর বিকল্প নয়; তবে এগুলো বিকাশের একটি শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।

বাংলাদেশ যখন স্মার্ট, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের পথে এগোচ্ছে, তখন স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধির যোগ্যতা নিয়েও জাতীয় আলোচনা হওয়া উচিত। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস নির্ধারণের বিষয়টি সেই আলোচনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাই হোক, লক্ষ্য হওয়া উচিত—আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনগণমুখী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মো. বোরহান উদ্দিন
উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক কলাম লেখক

 

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হোক

স্মার্ট বাংলাদেশের পথে স্মার্ট নেতৃত্ব: সময়ের দাবি, নাকি গণতন্ত্রের নতুন বিতর্ক?

আপডেট সময় ১২:২৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো ইউনিয়ন পরিষদ। একটি ইউনিয়নের মানুষের জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, ভূমি-সংক্রান্ত প্রত্যয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা—অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই।

প্রশ্ন হলো—একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল বাংলাদেশে, যেখানে প্রশাসন দিন দিন প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক হচ্ছে, সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ করা কি সময়ের দাবি নয়?

আমার বিশ্বাস, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস হওয়া উচিত।

এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

প্রথমত, বর্তমান সময়ে একজন চেয়ারম্যানকে শুধু জনপ্রতিনিধি হলেই চলে না; তাঁকে একজন দক্ষ প্রশাসকও হতে হয়। সরকারি নীতিমালা, উন্নয়ন প্রকল্প, বাজেট, টেন্ডার, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, আইনি বিধান এবং ডিজিটাল সেবার সঙ্গে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হয়। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা একজন ব্যক্তিকে তথ্য বিশ্লেষণ, যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নথিপত্র বোঝার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি দক্ষ করে তোলে।

দ্বিতীয়ত, বর্তমানে অধিকাংশ সরকারি কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক। ই-গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা, সরকারি পোর্টাল ব্যবহার, বিভিন্ন অনলাইন রিপোর্টিং ও তথ্য ব্যবস্থাপনা এখন স্থানীয় সরকারের নিয়মিত কাজ। একজন শিক্ষিত চেয়ারম্যান এসব প্রযুক্তি দ্রুত আত্মস্থ করতে এবং কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে তুলনামূলকভাবে সক্ষম হবেন।

তৃতীয়ত, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। এই অর্থের সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছ ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা থাকা জরুরি। উচ্চশিক্ষা একমাত্র যোগ্যতার মাপকাঠি না হলেও এটি একজন প্রতিনিধির বিশ্লেষণী সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চতুর্থত, আজকের তরুণ প্রজন্ম শিক্ষাকে জীবনের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ হিসেবে দেখে। যদি স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাচিত পদেও শিক্ষার মূল্যায়ন হয়, তাহলে সমাজে শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক বার্তা যাবে। এটি তরুণদের উচ্চশিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে পারে।

পঞ্চমত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় সরকার পরিচালনায় দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর করতে প্রতিনিধিদের যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতায়ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি রয়েছে, যা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

সবচেয়ে বড় আপত্তি হলো, গণতন্ত্রে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক। একজন ব্যক্তি যদি মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন, তাহলে কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা কি গণতান্ত্রিক হবে? ইতিহাসে এমন বহু জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, যাঁরা উচ্চশিক্ষিত না হয়েও অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন।

আরেকটি বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অনেক প্রবীণ সমাজনেতা, মুক্তিযোদ্ধা, কৃষকনেতা কিংবা সমাজসেবক নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাননি। তাঁদের অভিজ্ঞতা, সততা এবং জনসম্পৃক্ততা অনেক সময় স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তির চেয়েও মূল্যবান হতে পারে। কঠোর শিক্ষাগত শর্ত তাঁদের নির্বাচন থেকে বাদ দিতে পারে।

এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সমান নয়। স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করলে কিছু এলাকায় যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই কারণে, যদি ভবিষ্যতে এমন কোনো আইন করা হয়, তবে তা হঠাৎ নয়; ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও পেশাদার করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সবশেষে একটি বিষয় পরিষ্কার—স্নাতক ডিগ্রি কখনোই সততা, নৈতিকতা বা জনকল্যাণের নিশ্চয়তা দেয় না। আবার শিক্ষার গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না। একজন আদর্শ চেয়ারম্যানের জন্য প্রয়োজন সততা, জবাবদিহিতা, নেতৃত্ব, মানবিকতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা। স্নাতক ডিগ্রি এই গুণগুলোর বিকল্প নয়; তবে এগুলো বিকাশের একটি শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।

বাংলাদেশ যখন স্মার্ট, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের পথে এগোচ্ছে, তখন স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধির যোগ্যতা নিয়েও জাতীয় আলোচনা হওয়া উচিত। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস নির্ধারণের বিষয়টি সেই আলোচনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাই হোক, লক্ষ্য হওয়া উচিত—আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনগণমুখী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মো. বোরহান উদ্দিন
উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক কলাম লেখক