বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী জানান, কারিগরি প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে যন্ত্রপাতি আপগ্রেড ও নতুন ভবন নির্মাণের বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পলিটেকনিক, টিটিসি ও বিটিইবিসহ সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৭ হাজার ৫০০ জন দেশীয় প্রশিক্ষকের পাশাপাশি ১ হাজার জন বিদেশি দক্ষ প্রশিক্ষক এবং ভাষা শিক্ষার প্রসারে ১ হাজার জন প্রশিক্ষক ও নেটিভ স্পিকার নিয়োগ করা হবে।
পাশাপাশি, একটি ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ই-লার্নিং সেন্টার এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি মাইগ্রেশন মার্কেট রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আমির খসরু বলেন, এর মাধ্যমে প্রতিটি কর্মীর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সার্টিফিকেট যাচাই করে স্মার্ট স্কিল ব্যাংক বা ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।
যাচাইকৃত কর্মীদের আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ডিজিটাল সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে, যাতে বিদেশি নিয়োগকর্তারা সরাসরি মান-নিয়ন্ত্রিত দক্ষ কর্মী নিয়োগ দিতে পারেন।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার বিদ্যমান শ্রমবাজারের সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ৫৫তম এই বাজেট বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বা বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।








