১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা: ইরানি সমর্থকদের টিকিট বাতিল

মিজানুর রহমান খান - বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৫:০০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে গড়ানোর মাত্র কয়েক দিন আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেল ইরান। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য ইরানি সমর্থকদের যে টিকিট বরাদ্দ করা হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘বি’-তে ইরান আগামী ১৫ জুন নিউ জিল্যান্ড এবং ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে (দুটি ম্যাচই লস অ্যাঞ্জেলেসে)।

এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে তারা খেলবে মিশরের বিপক্ষে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ তাদের ম্যাচের মোট টিকিটের ৮ শতাংশ সমর্থকদের মাঝে বিতরণের জন্য পেয়ে থাকে।

ইরান ইতিমধ্যেই এই টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল। কিন্তু আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব সমর্থক ইতিমধ্যে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন, তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানি ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনগত ও অফিশিয়াল কোটার টিকিট থেকে ইরানি সমর্থকদের বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চেতনা এবং সমানাধিকারের পরিপন্থী। এই ঘটনা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টে অ-খেলোয়াড়ি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।’ তারা ফিফাকে তাদের নিরপেক্ষতা ও ফেয়ার-প্লে নীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং নিরাপত্তা জনিত উদ্বেগের কারণে এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ শুরু থেকেই নানা অনিশ্চয়তায় ঘেরা। গত ২৫ মে ইরান তাদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প আমেরিকার অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানা শহরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ইরানের দাবি, আমেরিকা তাদের আতিথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

ভিসার কঠোর শর্তের কারণে ইরান দলকে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচের দিনই তারা ফ্লাইটে আমেরিকায় প্রবেশ করবে এবং ম্যাচ শেষেই আবার দেশ ছাড়বে। এর বাইরে, গত ৬ জুন ইরান অভিযোগ তোলে যে, তাদের কোচিং ও সাপোর্টিং স্টাফদের ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আমেরিকা ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এর আগে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ফিফার কাছে ১০টি শর্ত দিয়েছিল ইরান। যার মধ্যে অন্যতম ছিলইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এ সামরিক পরিষেবা সম্পন্ন করা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বিশ্বকাপে অংশ নিতে দেওয়া। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রসচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানি খেলোয়াড়দের স্বাগত জানানো হলেও আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের আঁচ লেগেছিল গত এপ্রিলেও। ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে অংশ নিতে যাওয়া ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজসহ পুরো প্রতিনিধি দলকে কানাডিয়ান সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ইরানই ছিল একমাত্র দেশ, যারা এই কংগ্রেসে উপস্থিত থাকতে পারেনি। টিকিট বাতিলের এই সর্বশেষ ঘটনা দুই পক্ষের বৈরিতাকে আরও উসকে দিল।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা: ইরানি সমর্থকদের টিকিট বাতিল

আপডেট সময় ০৫:০০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে গড়ানোর মাত্র কয়েক দিন আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেল ইরান। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য ইরানি সমর্থকদের যে টিকিট বরাদ্দ করা হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘বি’-তে ইরান আগামী ১৫ জুন নিউ জিল্যান্ড এবং ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে (দুটি ম্যাচই লস অ্যাঞ্জেলেসে)।

এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে তারা খেলবে মিশরের বিপক্ষে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ তাদের ম্যাচের মোট টিকিটের ৮ শতাংশ সমর্থকদের মাঝে বিতরণের জন্য পেয়ে থাকে।

ইরান ইতিমধ্যেই এই টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল। কিন্তু আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব সমর্থক ইতিমধ্যে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন, তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানি ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনগত ও অফিশিয়াল কোটার টিকিট থেকে ইরানি সমর্থকদের বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চেতনা এবং সমানাধিকারের পরিপন্থী। এই ঘটনা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টে অ-খেলোয়াড়ি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।’ তারা ফিফাকে তাদের নিরপেক্ষতা ও ফেয়ার-প্লে নীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং নিরাপত্তা জনিত উদ্বেগের কারণে এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ শুরু থেকেই নানা অনিশ্চয়তায় ঘেরা। গত ২৫ মে ইরান তাদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প আমেরিকার অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানা শহরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ইরানের দাবি, আমেরিকা তাদের আতিথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

ভিসার কঠোর শর্তের কারণে ইরান দলকে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচের দিনই তারা ফ্লাইটে আমেরিকায় প্রবেশ করবে এবং ম্যাচ শেষেই আবার দেশ ছাড়বে। এর বাইরে, গত ৬ জুন ইরান অভিযোগ তোলে যে, তাদের কোচিং ও সাপোর্টিং স্টাফদের ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আমেরিকা ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এর আগে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ফিফার কাছে ১০টি শর্ত দিয়েছিল ইরান। যার মধ্যে অন্যতম ছিলইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এ সামরিক পরিষেবা সম্পন্ন করা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বিশ্বকাপে অংশ নিতে দেওয়া। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রসচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানি খেলোয়াড়দের স্বাগত জানানো হলেও আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের আঁচ লেগেছিল গত এপ্রিলেও। ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে অংশ নিতে যাওয়া ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজসহ পুরো প্রতিনিধি দলকে কানাডিয়ান সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ইরানই ছিল একমাত্র দেশ, যারা এই কংগ্রেসে উপস্থিত থাকতে পারেনি। টিকিট বাতিলের এই সর্বশেষ ঘটনা দুই পক্ষের বৈরিতাকে আরও উসকে দিল।