১১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সমুদ্রবন্দর ঘিরে বড় পরিকল্পনা, বাড়বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা

মো: বোরহান উদ্দিন - নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ৩ বার পড়া হয়েছে

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রান্সশিপমেন্ট সক্ষমতা বাড়াতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

একই সঙ্গে বন্দর আধুনিকায়ন, কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত নৌপরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যয়-সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নৌপরিবহন খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর আধুনিকায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রান্সশিপমেন্ট সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

পাশাপাশি আধুনিক নৌবন্দর অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমন্বিত নৌপরিবহন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, জেটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল ও লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, নৌপথ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে ড্রেজিং ও খনন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।

সরকারের মতে, নৌপরিবহন খাতে এসব উদ্যোগ দেশের বন্দর ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ৫৫তম এই বাজেট বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বা বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

সমুদ্রবন্দর ঘিরে বড় পরিকল্পনা, বাড়বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা

আপডেট সময় ০৫:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রান্সশিপমেন্ট সক্ষমতা বাড়াতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

একই সঙ্গে বন্দর আধুনিকায়ন, কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত নৌপরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যয়-সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নৌপরিবহন খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর আধুনিকায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রান্সশিপমেন্ট সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

পাশাপাশি আধুনিক নৌবন্দর অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমন্বিত নৌপরিবহন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, জেটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল ও লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, নৌপথ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে ড্রেজিং ও খনন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।

সরকারের মতে, নৌপরিবহন খাতে এসব উদ্যোগ দেশের বন্দর ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ৫৫তম এই বাজেট বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বা বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।