০২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সুদানজুড়ে ড্রোন হামলা, প্রাণহানি ১৬০ ছাড়াল

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০২:৪৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ০ বার পড়া হয়েছে

ছবি : রয়টার্স

সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধে ড্রোন হামলার ভয়াবহতা চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশজুড়ে হওয়া একের পর এক প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে শিশুসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ বেসামরিক নাগরিক রয়েছে।

চিকিৎসক, মানবিক সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীদের সূত্রে আলজাজিরা সোমবার (১৯ অক্টোবর) এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দক্ষিণ-পশ্চিমের রাজ্য পশ্চিম কর্ডোফানের আল-দিবাব শহরের একটি বাজার সংলগ্ন পরিবহন কেন্দ্রে। সাপ্তাহিক হাট শেষে গ্রামবাসী যখন বাড়ি ফেরার জন্য গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন, তখন একটি ড্রোন সেখানে সরাসরি আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই ৮০ জন নিহত হয় এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ৩০ জনের মৃত্যু হয়।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ এবং স্থানীয় সূত্রগুলো এই পাশবিক হামলার জন্য সরকারি বিমান বাহিনীকে দায়ী করেছে।

অন্যদিকে, রাজধানী খার্তুম, দক্ষিণ দারফুর এবং ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী ব্লু নাইল প্রদেশেও হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ আরএসএফ। ব্লু নাইলে বাস্তুচ্যুত মানুষের এক সমাবেশে ড্রোন হামলায় ৪১ জন নিহত হন। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধে সম্প্রতি উভয় পক্ষই ব্যাপক মাত্রায় ড্রোনের ব্যবহার শুরু করায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

এমনকি পূর্ব সুদানের গুরুত্বপূর্ণ আতবারা ও সেতিত বাঁধ লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ধারাবাহিক ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে সুদান এখন বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন এবং ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি শিশু চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা পরিষদকে মানবিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং সুদানজুড়ে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

সুদানজুড়ে ড্রোন হামলা, প্রাণহানি ১৬০ ছাড়াল

আপডেট সময় ০২:৪৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধে ড্রোন হামলার ভয়াবহতা চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশজুড়ে হওয়া একের পর এক প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে শিশুসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ বেসামরিক নাগরিক রয়েছে।

চিকিৎসক, মানবিক সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীদের সূত্রে আলজাজিরা সোমবার (১৯ অক্টোবর) এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দক্ষিণ-পশ্চিমের রাজ্য পশ্চিম কর্ডোফানের আল-দিবাব শহরের একটি বাজার সংলগ্ন পরিবহন কেন্দ্রে। সাপ্তাহিক হাট শেষে গ্রামবাসী যখন বাড়ি ফেরার জন্য গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন, তখন একটি ড্রোন সেখানে সরাসরি আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই ৮০ জন নিহত হয় এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ৩০ জনের মৃত্যু হয়।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ এবং স্থানীয় সূত্রগুলো এই পাশবিক হামলার জন্য সরকারি বিমান বাহিনীকে দায়ী করেছে।

অন্যদিকে, রাজধানী খার্তুম, দক্ষিণ দারফুর এবং ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী ব্লু নাইল প্রদেশেও হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ আরএসএফ। ব্লু নাইলে বাস্তুচ্যুত মানুষের এক সমাবেশে ড্রোন হামলায় ৪১ জন নিহত হন। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধে সম্প্রতি উভয় পক্ষই ব্যাপক মাত্রায় ড্রোনের ব্যবহার শুরু করায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

এমনকি পূর্ব সুদানের গুরুত্বপূর্ণ আতবারা ও সেতিত বাঁধ লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ধারাবাহিক ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে সুদান এখন বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন এবং ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি শিশু চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা পরিষদকে মানবিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং সুদানজুড়ে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।