হাসিতে ভাইরাল সেই তাহসিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
- আপডেট সময় ০৫:৩১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / ১ বার পড়া হয়েছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া হাসির সেই স্কুলশিক্ষার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী আয়োজনে হাজারো শিশুর ভিড়ে এক কিশোরের উচ্ছ্বসিত হাসি ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। স্কুলড্রেস পরা সেই কিশোর দুই হাত বাড়িয়ে তাকিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে; তার নির্মল হাসি ছুঁয়ে গিয়েছিল অসংখ্য মানুষের হৃদয়।
সেই কিশোরের নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ। তবে ছবির সেই হাসির আড়ালে ছিল বোন হারানোর গভীর বেদনার গল্প।
বোন হারানোর বেদনা
২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় তাহসিন হারায় তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, বড় বোন তাসনিয়াকে। একই স্কুলে পড়লেও সেদিন তারা ছিল আলাদা দুই ভবনে।
তাহসিন তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, আর তাসনিয়া পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে। যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়ে তাসনিয়াদের ভবনে।
বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বড় বোনকে খুঁজতে ছুটে যায় ছোট্ট তাহসিন। কারও কাছ থেকে সে শুনেছিল, স্যালাইন ও পানির প্রয়োজন। বড় বোনের জন্য ছোট দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর শেষ হয়নি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুর্ঘটনার পর বদলে যায় তাহসিন। এক হিলিং সেশনে অর্থাৎ মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠার সহায়ক এক সেশনে সে কাগজে লিখেছিল, ‘আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। ওকে আমি অনেক অনেক মিস করি, ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।’
বোনকে হারানোর পর থেকে তাহসিনের মুখে আগের মতো প্রাণখোলা হাসি আর দেখা যেত না।
আর্মি স্টেডিয়ামের সেই মুহূর্ত
তবে গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যেন দেখা মিলল অন্য এক তাহসিনের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন মাঠ প্রদক্ষিণ করছিলেন, তখন তিনি কাছাকাছি আসতেই আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশুটি।
তাহসিনের সেই নির্মল হাসি ও উচ্ছ্বাস ক্যামেরাবন্দি হয়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ তার হাসির সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি মিলিয়ে নেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন, ছবির সেই হাসিমাখা মুখটির পেছনে রয়েছে হৃদয়বিদারক পারিবারিক ইতিহাস। বিষয়টি জানার পর তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাহসিন। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারে তার নার্সারিতে পড়ুয়া আরও একটি ছোট বোন রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। বড় হয়ে কী হতে চায়, তাও জানতে চান তিনি। তাহসিন জানায়, সে বড় হয়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। পাশাপাশি এমন কিছু করতে চায়, যার মাধ্যমে মানুষের উপকার হবে এবং যার প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন। তিনি তাহসিনকে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা এবং নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার শখ ফুটবল খেলা।
উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত তাহসিন
প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি বাস্কেটবল এবং একটি ড্রোন সেট উপহার হিসেবে তাহসিনের হাতে তুলে দেন।
সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত। এমন সুযোগ পাবে, তা সে কল্পনাও করেনি। পুরো বিষয়টিই তার কাছে ছিল একেবারে সারপ্রাইজ।
তাহসিন আরও জানায়, স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার গল্প শোনানোর জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে একেবারে পরিবারের একজনের মতো কথা বলেছেন। তাই তার মোটেও নার্ভাস লাগেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কক্ষও ঘুরে দেখেছে সে। সেখানে রাখা গাড়ি ও জাহাজের রেপ্লিকা তাকে মুগ্ধ করেছে। বাবার মোবাইল ফোন দিয়ে সেলফিও তুলেছে তাহসিন।
মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবা নাজমুল হকের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন।



















