বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সিরিজ
সিরিজ জিততে পারবে কি বাংলাদেশ
- আপডেট সময় ১০:১৬:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
- / ১৫ বার পড়া হয়েছে
ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশের। পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের শক্তি দেখিয়েছিল তারা। টাইগারদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদিরা। তবে বিশাল জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে যাত্রা শুরু করার পর সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজরা। বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ম্যাচটি তারা বাজেভাবে হেরে যান। এতেই সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। দুই দলের সামনেই ট্রফি জয়ের হাতছানি। আজ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। শাহিন শাহ আফ্রিদির দলকে হারিয়ে সিরিজ জিততে পারবে কি বাংলাদেশ?
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ দল ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেনি। এ সময়ে তারা অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ এবং পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতি নিতে বিসিএল ওয়ানডে খেলেছেন। নিজেদের বেশ ভালোভাবে শাণিয়ে নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২২ গজের ময়দানে নেমেছেন টাইগাররা। তারা জয়ের জন্য কতটা ক্ষুধার্ত ছিলেন তা প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে দেখা গেছে। নাহিদ রানার আগুনে রীতিমতো পুড়েছে পাকিস্তান। মিরপুরের উইকেটে বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার ৫ উইকেট নিয়েছেন। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ২০৯ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
টাইগারদের লক্ষ্য ছিল ২০১৫ সুখস্মৃতি ফেরানো। সেবার পাকিস্তানকে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানেই পরাজিত করেছিল তারা। এজন্য দ্বিতীয় ম্যাচে জয়কে পাখির চোখ করেই মাঠে নেমেছিল স্বাগতিকরা। তবে প্রথম ম্যাচের ছন্দ দ্বিতীয় ম্যাচে ধরে রাখতে পারেনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডিএলএস মেথডে ১২৮ রানে হারতে হয়। এতে ২০১৫’র সুখস্মৃতি ফেরানোর স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সিরিজে সমতা ফেরায় এখন সিরিজ হারের শঙ্কাও কাজ করছে।
১-১ সমতা থাকায় আজকের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি অলিখিত ফাইনাল। দুদলের সামনেই সমান সুযোগ থাকবে ট্রফি জেতার। মিরাজদের লক্ষ্য শেষ ম্যাচটা জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া। এজন্য সতীর্থদের কাছে সেরাটা চান বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। তিন মনে করেন, তিন বিভাগে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ম্যাচ জেতা সম্ভব।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সিরিজ বেশ উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। দ্বিতীয় ম্যাচের পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসের ৩৯তম ওভারের ঘটনা। সালমান আগা এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানের শতাধিক রানের জুটিতে পাহাড়সম সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছিল পাকিস্তান। নিজের শেষ ওভারে এমন সময় বোলিংয়ে এসে রানের লাগাম টেনে ধরেন মিরাজ। একই ওভারে রিজওয়ানকে রিশাদ হোসেনের ক্যাচ বানানোর পাশাপাশি সালমানকে করেন রানআউট। এই রান আউটের ঘটনা নিয়ে লিটন বলেছেন, ‘ প্রথমত, এখানে কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি।
এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নিয়মে আছে আউট, এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ নষ্ট হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। যে যার ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে আউট।’ বোঝায় যাচ্ছে- এই ঘটনার রেশ থাকবে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচেও। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ মিস করবেন হুসাইন তালাত। পাকিস্তানের তরুণ অলরাউন্ডার কাঁধের ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন। এদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচের আগে নিজেদের পেস আক্রমণভাগকে এগিয়ে রেখেছেন বিসিবির পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের।
তিনি বলেন, ‘ তাসকিন ও মোস্তাফিজের অভিজ্ঞতার কথা চিন্তা করলে আমরা অবশ্যই এগিয়ে। পাকিস্তানের শাহীন শাহ আফ্রিদি বাদে আর কারোরই মনে হয় না মোস্তাফিজ বা তাসকিনের মতো এত উইকেট আছে। হারিস রউফ খেললেও তার অভিজ্ঞতার ঝুলি এই দুজনের মতো অতটা সমৃদ্ধ নয়।’ শেষ ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ সিরিজ জিততে পারবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিডি পলিটিক্স/বিইউ












