০১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
অন্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় আল্লাহর জিকিরে

আল্লাহর জিকিরে মন শীতল হয়

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ১০:২৯:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / ১২ বার পড়া হয়েছে

অন্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় আল্লাহর জিকিরে

অন্যায়-অপরাধে মনে জং ধরে; মরে যায় অন্তর। মরা দিল জিন্দা হয় আল্লাহর জিকিরে; দূর হয় মনের জং। অন্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় আল্লাহর জিকিরে। কোরআন শরিফে আল্লাহ বলেন, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে মন শীতল হয়, প্রশান্তি বাড়ে (সূরা রা’দ, আয়াত-২৮) অন্যত্র রাসুল (স.) বলেন, রোজার মাস ইবাদতের বসন্তকাল। জিকির ও ধ্যানে কাটানোর মাস। গোনাহ থেকে পবিত্র হয়ে মন সজীব রাখার মাস। রাসুল (স.) বলেন, যে ব্যক্তি জিকিরের মাধ্যমে জিহ্বাকে তাজা রাখবে, কেয়ামতের মাঠে হাসতে হাসতে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (বায়হাকি-৬০৪৫)।

আল্লাহ হাদিসে কুদসিতে বলেন, আমি আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার খুব কাছে থাকি, যতক্ষণ সে ঠোঁট নাড়িয়ে আমার জিকির করে (আহমদ)।

দায়লামি শরিফে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত- কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ কোনো এক গাছের দিকে ইঙ্গিত করে বলবেন, আমার ওইসব বান্দাকে প্রেমময় ছন্দ-সুরে মুগ্ধ করো, যারা পৃথিবীতে আমার জিকিরে মগ্ন হয়ে গান-বাদ্য থেকে দূরে রয়েছে। আজ জিকিরকারীরা এমন সুর-তরঙ্গে নেচে উঠবেন, পৃথিবীতে কোনো প্রাণী কোনো দিন তা অনুভব করেনি।

পুরো রোজার মাসে মুমিন বান্দা জিকিরের রুটিন করে নেবে। সুযোগ সন্ধানে থাকবে জিকিরের। আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদাররা! তোমরা অধিক হারে আল্লাহর জিকির করো। সকাল-সন্ধ্যায় আমার তাসবিহ পাঠ করো (আহযাব- ৪১-৪২)। কোন জিকির আল্লাহর কাছে প্রিয়, আমরা কোন জিকির বেশি করে পাঠ করব; এ বিষয়ে সাহাবি সামুরাহ ইবনে জুন্দুল (রা.) বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন, সুবহানাল্লাহ, আল হামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার- এই চারটি জিকির আল্লাহর কাছে অধিকতর পছন্দের (বোখারি- ৬৩০২)।

এ ছাড়াও হাদিসে আয়াতুল কুরসি, সাইয়েদুল ইস্তেগফার, সোবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সোবহানাল্লাহিল আজিম ইত্যাদির কথা আছে। ইবাদতের এই মৌসুমে আমরা আল্লাহর জিকিরে মন সজীব রাখি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।

লেখক : মুফতি হুমায়ুন আইয়ুব
শিক্ষক, শেখ জনূরুদ্দীন রহ. দারুল কুরআন মাদরাসা, চৌধুরীপাড়া, ঢাকা।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

অন্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় আল্লাহর জিকিরে

আল্লাহর জিকিরে মন শীতল হয়

আপডেট সময় ১০:২৯:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

অন্যায়-অপরাধে মনে জং ধরে; মরে যায় অন্তর। মরা দিল জিন্দা হয় আল্লাহর জিকিরে; দূর হয় মনের জং। অন্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় আল্লাহর জিকিরে। কোরআন শরিফে আল্লাহ বলেন, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে মন শীতল হয়, প্রশান্তি বাড়ে (সূরা রা’দ, আয়াত-২৮) অন্যত্র রাসুল (স.) বলেন, রোজার মাস ইবাদতের বসন্তকাল। জিকির ও ধ্যানে কাটানোর মাস। গোনাহ থেকে পবিত্র হয়ে মন সজীব রাখার মাস। রাসুল (স.) বলেন, যে ব্যক্তি জিকিরের মাধ্যমে জিহ্বাকে তাজা রাখবে, কেয়ামতের মাঠে হাসতে হাসতে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (বায়হাকি-৬০৪৫)।

আল্লাহ হাদিসে কুদসিতে বলেন, আমি আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার খুব কাছে থাকি, যতক্ষণ সে ঠোঁট নাড়িয়ে আমার জিকির করে (আহমদ)।

দায়লামি শরিফে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত- কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ কোনো এক গাছের দিকে ইঙ্গিত করে বলবেন, আমার ওইসব বান্দাকে প্রেমময় ছন্দ-সুরে মুগ্ধ করো, যারা পৃথিবীতে আমার জিকিরে মগ্ন হয়ে গান-বাদ্য থেকে দূরে রয়েছে। আজ জিকিরকারীরা এমন সুর-তরঙ্গে নেচে উঠবেন, পৃথিবীতে কোনো প্রাণী কোনো দিন তা অনুভব করেনি।

পুরো রোজার মাসে মুমিন বান্দা জিকিরের রুটিন করে নেবে। সুযোগ সন্ধানে থাকবে জিকিরের। আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদাররা! তোমরা অধিক হারে আল্লাহর জিকির করো। সকাল-সন্ধ্যায় আমার তাসবিহ পাঠ করো (আহযাব- ৪১-৪২)। কোন জিকির আল্লাহর কাছে প্রিয়, আমরা কোন জিকির বেশি করে পাঠ করব; এ বিষয়ে সাহাবি সামুরাহ ইবনে জুন্দুল (রা.) বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন, সুবহানাল্লাহ, আল হামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার- এই চারটি জিকির আল্লাহর কাছে অধিকতর পছন্দের (বোখারি- ৬৩০২)।

এ ছাড়াও হাদিসে আয়াতুল কুরসি, সাইয়েদুল ইস্তেগফার, সোবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সোবহানাল্লাহিল আজিম ইত্যাদির কথা আছে। ইবাদতের এই মৌসুমে আমরা আল্লাহর জিকিরে মন সজীব রাখি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।

লেখক : মুফতি হুমায়ুন আইয়ুব
শিক্ষক, শেখ জনূরুদ্দীন রহ. দারুল কুরআন মাদরাসা, চৌধুরীপাড়া, ঢাকা।