০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত খোকন জামিনে মুক্ত

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ১০:৫৪:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / ৭৩ বার পড়া হয়েছে

অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত খোকন জামিনে মুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করার অভিযোগে অভিযুক্ত খোকন মাহমুদ জামিন পেয়েছে। গত ১২ মার্চ জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ এলাকায় ফেরে সে।

ছবিতে কিশোরগঞ্জ ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র-পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সাথে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত খোকন

তবে এলাকায় ফিরেই অভিযোগকারী ও তার পরিবারকে জীবননাশের হুমকী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে খোকন ও তার দলবল। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য খোকন গং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদেরকে চাপ প্রদান করছে। নয়তো এলাকা ছাড়া করার, এমনকি মেরে ফেলারও হুমকী দিয়েছে অভিযুক্তরা। আর এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছে খোকন।

এর আগে ভৈরবে ২১ ফেব্রুয়ারী রাতে বেসরকারি চাকরিজীবী নাইম মিয়াকে অপহরণ করার দায়ে ভৈরব থানা পুলিশ হাতে নাতে আটক করে খোকনসহ ৪ জনকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার মাহমুদ হোসেনের ছেলে খোকন মাহমুদ (৪৬), একই এলাকার মধ্যপাড়ার মৃত ধন মিয়ার ছেলে আবুল কাসেম (৪৫), লিটন মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া (৩৫), নুর ইসলামের ছেলে শাহ আলম (৪৫)।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত দেড়টায় পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া গাইনহাটি এলাকা থেকে অপহৃত নাইম মিয়াকে শিকল বাঁধা অবস্থায় অভিযুক্ত খোকনের অফিসের ভিতরের একটি গোপন ঘর থেকে নাইম মিয়াকে উদ্ধার করে এবং একই সময় পুলিশ আসামীদের সে স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে। অপহরণকৃত ব্যক্তি কমলপুর নিউটাউন এলাকার হাছেন আলী মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ও অভিযোগকারী নারী তার স্ত্রী সাজিয়া খানম নিশি। নাঈম মিয়া ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার সদর থানার চান্দপুর এলাকার মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে। সে ভৈরবে একটি ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানীতে সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ পদে কর্মরত।

থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দুই মাস আগে আবুল কাসেমকে তালাক দিয়ে নাঈম মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সাজিয়া খানম নিশি। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে আবুল কাসেম কয়েকজন সহযোগী নিয়ে সাবেক স্ত্রীর নতুন স্বামীকে ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভৈরব বাজার থেকে অপহরণ করে। যার মূল নেতৃত্ব দেয় খোকন।

অপহরণের পর নাইমের স্ত্রীর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে খোকন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তা দিতে চাপ প্রদান করে।

এ ঘটনায় ভৈরব থানায় অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ রাতে জগন্নাথপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাঈম মিয়া বলেন,” আমি মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিভের কাজ করি। ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কাসেম ও খোকনসহ কয়েকজন আমাকে বাজার থেকে অপহরণ করে জগন্নাথপুরে এনে হাতে পায়ে জিঞ্জিল (শিকল) বেধে মারধর করে। এসময় আমার পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে বলে। টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমার স্ত্রীকে দ্রুত টাকা নিয়ে উল্লেখিত গোপন স্থানে আসতে বলে। কিন্তু আমাদের পক্ষে এই অংকের টাকা যোগাড় করা অসম্ভব। তাই আমার স্ত্রী কিছু টাকা নিয়ে আমাকে মুক্ত করতে তাদেরকে অনুরোধ করতে যায়। সেসময় এই পাষন্ডরা আমার স্ত্রীর শীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতন করে। যার নেতৃত্বে ছিল খোকন মাহমুদ। এসময় নারী কণ্ঠের আর্তনাদ শুনে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে নিশি ও অপহৃত নাইমকে উদ্ধার করা হয়।

কিন্তু পরদিন সকালে নির্যাতিতা সাজিয়া খানম নিশি ভৈরব থানায় খোকনকে মূল আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষন ও অপহরণ মামলা করতে গেলে রহস্যময় কারণে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে। গোপণ সূত্র জানায়, মামলাকে প্রভাবিত করতে এর আগেই খোকনের প্রথম স্ত্রী সুধা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে নিয়ে থানায় বিপুল অংকের টাকা ঘুষ দিতে যায়।

পরে এলাকাবাসীর চাপে ভৈরব থানা মামলাটি নিলেও কেবল অপহরণের অভিযোগ নথিভূক্ত করা হয় ( মামলা নং -২৪) আর পুলিশ বেমালুম চেপে যায় ধর্ষণের অভিযোগ।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ জানান, মামলার অভিযোগে কেবল বলা হয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অভিযুক্তরা গতকাল শনিবার দুপুর ২ টার দিকে ভৈরব বাজারের হাসপাতাল রোডের চৌধুরী ফার্মেসীর সামনে থেকে প্রকাশ্যে নাঈমকে তার গেঞ্জির কলার ধরে জোরপূর্বক একটি অটোরিক্সায় উঠিয়ে জগনাথপুর দক্ষিণপাড়া গাইনহাটি এলাকার খোকন মাহমুদের অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নিয়ে গোপনভাবে একটি ঘরের কক্ষে অবৈধভাবে আটক রাখে। এসময় অপহৃত নাঈমের হাতে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার পর লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাকে বেধম মারধোর করে জখম করে। তারপর চাঁদার টাকা পেতে তার স্ত্রীকে রাতে মোবাইলে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অভিযুক্তরা।

এদিকে ভুক্তভোগীর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে পুলিশকে দিয়ে মামলাটিকে লঘু করে দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ভৈরব থানা ওসি বলেন, রাত ১২ টায় মৌখিক অভিযোগ পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনাস্থল সনাক্ত করে সাথে সাথেই অভিযান চালাই। রাত দেড়টায় ভিকটিমকে একটি গোপন ঘরের দরজা ভেঙ্গে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করি। এসময় ঘটনায় জড়িত ৪ জন পুলিশ দেখে পালাতে চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতার সহযোগীতায় তাদেরকে গ্রেফতার করি। এ বিষয়ে তার স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ আদালতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। আমরা ধর্ষন ও ধর্ষন প্রচেষ্টার কোনো অভিযোগ পাইনি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের জামিন হয়েছে।

খোকন সম্পকে জানতে সে এলাকায় প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী আরো জানায়, কেবল এটিই নয়। খোকনের অপরাধের ইতিহাস অনেক পুরোনো। জাল বা নকল দলিল বানানো, মৃত মানুষের মৃত্যু সনদ নকল করা, নকল ওয়ারিশ বানানো, প্রবাসীর জমি হরণ করা, চাঁদাবাজি করা, অপহরণ থেকে শুরু করে নারী কেলেংকারী। কোনোদিকই বাদ নেই এই খোকনের৷ এলাকাবাসী জানায়, খোকনের একাধিক বিয়ের পেছনেও আছে নানা অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড।

অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত খোকন

খোকনের গত ২০ বছর ধরে প্রকৃত আয়ের কোনো উৎস চিহ্নিত করা যায় না। কিন্তু বর্তমানে ভৈরবেই তার মালিকানাধীন জমিতে ২টি ৬ তলা বিলাশবহুল ভবন একযোগে নির্মানাধীন। কিন্তু বার্ষিক আয়কর প্রদান সংক্রান্ত ফাইলে তার বৈধ আয় বা সম্পদের কোন স্পষ্ট তথ্য নেই। তবে সে রাজনৈতিক যোগসাজসে পারদর্শী। আর তাই পূর্বে বিএনপি করলেও পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সে দলে যোগদান করতে চায়। কিন্তু কুখ্যাত এই লোককে আ.লীগ দলে নেয়নি বলে এলাকাবাসী জানায়।

তবে ক্ষমতার পালাবদল হলে আবারো বিএনপির পুরানো পরিচয় দেয়া ও প্রভাব খাটানো শুরু করেছে খোকন। জানা যায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির টিকেট চায় এই লোক। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বিএনপি কোন পদ দিলে বা দলীয় আশ্রয় দিলে তা বিএনপির ইমেজকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

বিডি পলিটিক্স/বিইউ

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত খোকন জামিনে মুক্ত

আপডেট সময় ১০:৫৪:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করার অভিযোগে অভিযুক্ত খোকন মাহমুদ জামিন পেয়েছে। গত ১২ মার্চ জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ এলাকায় ফেরে সে।

ছবিতে কিশোরগঞ্জ ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র-পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সাথে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত খোকন

তবে এলাকায় ফিরেই অভিযোগকারী ও তার পরিবারকে জীবননাশের হুমকী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে খোকন ও তার দলবল। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য খোকন গং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদেরকে চাপ প্রদান করছে। নয়তো এলাকা ছাড়া করার, এমনকি মেরে ফেলারও হুমকী দিয়েছে অভিযুক্তরা। আর এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছে খোকন।

এর আগে ভৈরবে ২১ ফেব্রুয়ারী রাতে বেসরকারি চাকরিজীবী নাইম মিয়াকে অপহরণ করার দায়ে ভৈরব থানা পুলিশ হাতে নাতে আটক করে খোকনসহ ৪ জনকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার মাহমুদ হোসেনের ছেলে খোকন মাহমুদ (৪৬), একই এলাকার মধ্যপাড়ার মৃত ধন মিয়ার ছেলে আবুল কাসেম (৪৫), লিটন মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া (৩৫), নুর ইসলামের ছেলে শাহ আলম (৪৫)।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত দেড়টায় পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া গাইনহাটি এলাকা থেকে অপহৃত নাইম মিয়াকে শিকল বাঁধা অবস্থায় অভিযুক্ত খোকনের অফিসের ভিতরের একটি গোপন ঘর থেকে নাইম মিয়াকে উদ্ধার করে এবং একই সময় পুলিশ আসামীদের সে স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে। অপহরণকৃত ব্যক্তি কমলপুর নিউটাউন এলাকার হাছেন আলী মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ও অভিযোগকারী নারী তার স্ত্রী সাজিয়া খানম নিশি। নাঈম মিয়া ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার সদর থানার চান্দপুর এলাকার মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে। সে ভৈরবে একটি ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানীতে সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ পদে কর্মরত।

থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দুই মাস আগে আবুল কাসেমকে তালাক দিয়ে নাঈম মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সাজিয়া খানম নিশি। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে আবুল কাসেম কয়েকজন সহযোগী নিয়ে সাবেক স্ত্রীর নতুন স্বামীকে ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভৈরব বাজার থেকে অপহরণ করে। যার মূল নেতৃত্ব দেয় খোকন।

অপহরণের পর নাইমের স্ত্রীর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে খোকন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তা দিতে চাপ প্রদান করে।

এ ঘটনায় ভৈরব থানায় অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ রাতে জগন্নাথপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাঈম মিয়া বলেন,” আমি মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিভের কাজ করি। ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কাসেম ও খোকনসহ কয়েকজন আমাকে বাজার থেকে অপহরণ করে জগন্নাথপুরে এনে হাতে পায়ে জিঞ্জিল (শিকল) বেধে মারধর করে। এসময় আমার পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে বলে। টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমার স্ত্রীকে দ্রুত টাকা নিয়ে উল্লেখিত গোপন স্থানে আসতে বলে। কিন্তু আমাদের পক্ষে এই অংকের টাকা যোগাড় করা অসম্ভব। তাই আমার স্ত্রী কিছু টাকা নিয়ে আমাকে মুক্ত করতে তাদেরকে অনুরোধ করতে যায়। সেসময় এই পাষন্ডরা আমার স্ত্রীর শীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতন করে। যার নেতৃত্বে ছিল খোকন মাহমুদ। এসময় নারী কণ্ঠের আর্তনাদ শুনে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে নিশি ও অপহৃত নাইমকে উদ্ধার করা হয়।

কিন্তু পরদিন সকালে নির্যাতিতা সাজিয়া খানম নিশি ভৈরব থানায় খোকনকে মূল আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষন ও অপহরণ মামলা করতে গেলে রহস্যময় কারণে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে। গোপণ সূত্র জানায়, মামলাকে প্রভাবিত করতে এর আগেই খোকনের প্রথম স্ত্রী সুধা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে নিয়ে থানায় বিপুল অংকের টাকা ঘুষ দিতে যায়।

পরে এলাকাবাসীর চাপে ভৈরব থানা মামলাটি নিলেও কেবল অপহরণের অভিযোগ নথিভূক্ত করা হয় ( মামলা নং -২৪) আর পুলিশ বেমালুম চেপে যায় ধর্ষণের অভিযোগ।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ জানান, মামলার অভিযোগে কেবল বলা হয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অভিযুক্তরা গতকাল শনিবার দুপুর ২ টার দিকে ভৈরব বাজারের হাসপাতাল রোডের চৌধুরী ফার্মেসীর সামনে থেকে প্রকাশ্যে নাঈমকে তার গেঞ্জির কলার ধরে জোরপূর্বক একটি অটোরিক্সায় উঠিয়ে জগনাথপুর দক্ষিণপাড়া গাইনহাটি এলাকার খোকন মাহমুদের অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নিয়ে গোপনভাবে একটি ঘরের কক্ষে অবৈধভাবে আটক রাখে। এসময় অপহৃত নাঈমের হাতে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার পর লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাকে বেধম মারধোর করে জখম করে। তারপর চাঁদার টাকা পেতে তার স্ত্রীকে রাতে মোবাইলে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অভিযুক্তরা।

এদিকে ভুক্তভোগীর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে পুলিশকে দিয়ে মামলাটিকে লঘু করে দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ভৈরব থানা ওসি বলেন, রাত ১২ টায় মৌখিক অভিযোগ পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনাস্থল সনাক্ত করে সাথে সাথেই অভিযান চালাই। রাত দেড়টায় ভিকটিমকে একটি গোপন ঘরের দরজা ভেঙ্গে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করি। এসময় ঘটনায় জড়িত ৪ জন পুলিশ দেখে পালাতে চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতার সহযোগীতায় তাদেরকে গ্রেফতার করি। এ বিষয়ে তার স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ আদালতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। আমরা ধর্ষন ও ধর্ষন প্রচেষ্টার কোনো অভিযোগ পাইনি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের জামিন হয়েছে।

খোকন সম্পকে জানতে সে এলাকায় প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী আরো জানায়, কেবল এটিই নয়। খোকনের অপরাধের ইতিহাস অনেক পুরোনো। জাল বা নকল দলিল বানানো, মৃত মানুষের মৃত্যু সনদ নকল করা, নকল ওয়ারিশ বানানো, প্রবাসীর জমি হরণ করা, চাঁদাবাজি করা, অপহরণ থেকে শুরু করে নারী কেলেংকারী। কোনোদিকই বাদ নেই এই খোকনের৷ এলাকাবাসী জানায়, খোকনের একাধিক বিয়ের পেছনেও আছে নানা অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড।

অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত খোকন

খোকনের গত ২০ বছর ধরে প্রকৃত আয়ের কোনো উৎস চিহ্নিত করা যায় না। কিন্তু বর্তমানে ভৈরবেই তার মালিকানাধীন জমিতে ২টি ৬ তলা বিলাশবহুল ভবন একযোগে নির্মানাধীন। কিন্তু বার্ষিক আয়কর প্রদান সংক্রান্ত ফাইলে তার বৈধ আয় বা সম্পদের কোন স্পষ্ট তথ্য নেই। তবে সে রাজনৈতিক যোগসাজসে পারদর্শী। আর তাই পূর্বে বিএনপি করলেও পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সে দলে যোগদান করতে চায়। কিন্তু কুখ্যাত এই লোককে আ.লীগ দলে নেয়নি বলে এলাকাবাসী জানায়।

তবে ক্ষমতার পালাবদল হলে আবারো বিএনপির পুরানো পরিচয় দেয়া ও প্রভাব খাটানো শুরু করেছে খোকন। জানা যায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির টিকেট চায় এই লোক। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বিএনপি কোন পদ দিলে বা দলীয় আশ্রয় দিলে তা বিএনপির ইমেজকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

বিডি পলিটিক্স/বিইউ