১২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আমার জীবনের কিছু কথা: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বিইপি

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৯:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / ৪০ বার পড়া হয়েছে

আমার জীবনের কিছু কথা: শ্রদ্ধা, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প আমি আজ আমার জীবনের কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। এই কথাগুলো শুধু আমার ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়, বরং জীবনের কিছু শিক্ষা-যা আমি বিশ্বাস করি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।

আমাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার চক্রধা গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই পরিবার আমাকে শিখিয়েছে বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি রাখতে। আমি যখন একটু বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই একটি অভ্যাস তৈরি হয়েছিল—বাড়ি থেকে কোথাও বের হলে প্রথমে বাবা-মায়ের পা ছুঁয়ে ভক্তি করে তারপর যাত্রা শুরু করতাম। এটা আমার কাছে শুধু একটি নিয়ম ছিল না, বরং মানসিক শান্তি ও আত্মতৃপ্তির একটি বড় উৎস ছিল।

আমি আমার বাবাকে অনেক ভালোবাসতাম, আবার তাকে খুব সম্মান ও ভয়ও করতাম। আমার বাবা হঠাৎ স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ওনাকে ঢাকা একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত ২৭ জানুয়ারি ২০২০ সালে তিনি আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নেন। সেই দিনটি আমার জীবনের একটি বড় কষ্টের দিন।

একটা ঘটনা আজও আমার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তখন আমি ঢাকায় চাকরি করতাম। প্রতি বৃহস্পতিবার অফিস ছুটির পরে বাড়িতে যেতাম এবং রবিবার সকালে আবার ঢাকায় ফিরে আসতাম। একদিন ভুল করে বাবা-মায়ের পা ছুঁয়ে ভক্তি না করেই বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েছিলাম।

পরে কাচপুরের কাছে এসে হঠাৎ মনে হলো- আজ তো আমি বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে বের হইনি। ঠিক সেই সময় আমাদের গাড়ি একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। আমি সামান্য আঘাত পেলেও সেই মুহূর্তে আমার মনে বারবার একটি কথাই ঘুরছিল—আমি আজ বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে বের হইনি। সেই দিন থেকে আমি আরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছি, বাবা-মায়ের দোয়া ও আশীর্বাদ সন্তানের জীবনে অনেক বড় শক্তি।

আজও সেই অভ্যাস আমি ধরে রেখেছি। এখন আমার বাবা আর নেই, কিন্তু আমার মা আছেন। প্রতিদিন বাসা থেকে বের হওয়ার আগে আমি মায়ের পা ছুঁয়ে ভক্তি করি। তারপর আমার সাত বছরের ছোট মেয়েটির কপালে একটি চুমু দিয়ে পরিবারের সবাইকে বলে দিনের যাত্রা শুরু করি। এতে আমার মনে এক ধরনের শান্তি ও আত্মবিশ্বাস কাজ করে।

পেশাগত জীবনে আমি একজন ব্যবসায়ী। ঢাকার ফকিরাপুল ও মতিঝিল এলাকায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে—“বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল সাইন মিডিয়া” এবং “বর্মন এন্টারপ্রাইজ”। ব্যবসার পাশাপাশি আমি সব সময় চেষ্টা করেছি সমাজের মানুষের পাশে থাকতে।

একই সঙ্গে আমি রাজনৈতিক জীবনেও যুক্ত আছি। দেশের মানুষের অধিকার ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমি বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) প্রতিষ্ঠা করেছি এবং এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের দল নিবন্ধন লাভ করেছে। আমার জীবনের পথে এটি একটি বড় অর্জন।

আমি বিশ্বাস করি—যে সন্তান তার বাবা-মাকে সম্মান করে, তাদের দোয়া ও আশীর্বাদকে গুরুত্ব দেয়, সে কখনও জীবনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয় না। বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা শুধু একটি ধর্মীয় বা সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি সবাইকে শুধু একটি কথা বলতে চাই বাবা-মাকে সম্মান করুন, তাদের আশীর্বাদ ও দোয়া নিন, তাদের পাশে থাকুন। জীবনের অনেক কঠিন পথ তখন সহজ হয়ে যায়।

আপনাদের সকলের কাছে আমার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি—যাতে আমি ব্যবসা, সমাজসেবা এবং রাজনৈতিক জীবনে সততা ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারি এবং দেশের মানুষের কল্যাণে আরও কিছু করতে পারি।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক

সুশান্ত চন্দ্র বর্মন (শান্ত) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) নিবন্ধন নং- ৬২, প্রতিকঃ দোয়াত কলম

বিডি পলিটিক্স/বিইউ

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

আমার জীবনের কিছু কথা: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বিইপি

আপডেট সময় ০৯:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

আমার জীবনের কিছু কথা: শ্রদ্ধা, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প আমি আজ আমার জীবনের কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। এই কথাগুলো শুধু আমার ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়, বরং জীবনের কিছু শিক্ষা-যা আমি বিশ্বাস করি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।

আমাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার চক্রধা গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই পরিবার আমাকে শিখিয়েছে বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি রাখতে। আমি যখন একটু বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই একটি অভ্যাস তৈরি হয়েছিল—বাড়ি থেকে কোথাও বের হলে প্রথমে বাবা-মায়ের পা ছুঁয়ে ভক্তি করে তারপর যাত্রা শুরু করতাম। এটা আমার কাছে শুধু একটি নিয়ম ছিল না, বরং মানসিক শান্তি ও আত্মতৃপ্তির একটি বড় উৎস ছিল।

আমি আমার বাবাকে অনেক ভালোবাসতাম, আবার তাকে খুব সম্মান ও ভয়ও করতাম। আমার বাবা হঠাৎ স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ওনাকে ঢাকা একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত ২৭ জানুয়ারি ২০২০ সালে তিনি আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নেন। সেই দিনটি আমার জীবনের একটি বড় কষ্টের দিন।

একটা ঘটনা আজও আমার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তখন আমি ঢাকায় চাকরি করতাম। প্রতি বৃহস্পতিবার অফিস ছুটির পরে বাড়িতে যেতাম এবং রবিবার সকালে আবার ঢাকায় ফিরে আসতাম। একদিন ভুল করে বাবা-মায়ের পা ছুঁয়ে ভক্তি না করেই বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েছিলাম।

পরে কাচপুরের কাছে এসে হঠাৎ মনে হলো- আজ তো আমি বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে বের হইনি। ঠিক সেই সময় আমাদের গাড়ি একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। আমি সামান্য আঘাত পেলেও সেই মুহূর্তে আমার মনে বারবার একটি কথাই ঘুরছিল—আমি আজ বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে বের হইনি। সেই দিন থেকে আমি আরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছি, বাবা-মায়ের দোয়া ও আশীর্বাদ সন্তানের জীবনে অনেক বড় শক্তি।

আজও সেই অভ্যাস আমি ধরে রেখেছি। এখন আমার বাবা আর নেই, কিন্তু আমার মা আছেন। প্রতিদিন বাসা থেকে বের হওয়ার আগে আমি মায়ের পা ছুঁয়ে ভক্তি করি। তারপর আমার সাত বছরের ছোট মেয়েটির কপালে একটি চুমু দিয়ে পরিবারের সবাইকে বলে দিনের যাত্রা শুরু করি। এতে আমার মনে এক ধরনের শান্তি ও আত্মবিশ্বাস কাজ করে।

পেশাগত জীবনে আমি একজন ব্যবসায়ী। ঢাকার ফকিরাপুল ও মতিঝিল এলাকায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে—“বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল সাইন মিডিয়া” এবং “বর্মন এন্টারপ্রাইজ”। ব্যবসার পাশাপাশি আমি সব সময় চেষ্টা করেছি সমাজের মানুষের পাশে থাকতে।

একই সঙ্গে আমি রাজনৈতিক জীবনেও যুক্ত আছি। দেশের মানুষের অধিকার ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমি বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) প্রতিষ্ঠা করেছি এবং এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের দল নিবন্ধন লাভ করেছে। আমার জীবনের পথে এটি একটি বড় অর্জন।

আমি বিশ্বাস করি—যে সন্তান তার বাবা-মাকে সম্মান করে, তাদের দোয়া ও আশীর্বাদকে গুরুত্ব দেয়, সে কখনও জীবনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয় না। বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা শুধু একটি ধর্মীয় বা সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি সবাইকে শুধু একটি কথা বলতে চাই বাবা-মাকে সম্মান করুন, তাদের আশীর্বাদ ও দোয়া নিন, তাদের পাশে থাকুন। জীবনের অনেক কঠিন পথ তখন সহজ হয়ে যায়।

আপনাদের সকলের কাছে আমার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি—যাতে আমি ব্যবসা, সমাজসেবা এবং রাজনৈতিক জীবনে সততা ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারি এবং দেশের মানুষের কল্যাণে আরও কিছু করতে পারি।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক

সুশান্ত চন্দ্র বর্মন (শান্ত) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) নিবন্ধন নং- ৬২, প্রতিকঃ দোয়াত কলম

বিডি পলিটিক্স/বিইউ