১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

রাজস্ব খাতের দুর্বলতা আমাদের অর্থনীতির গভীর সমস্যাগুলোর একটি: অর্থমন্ত্রী

মিজানুর রহমান খান - বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৫:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

রাজস্ব খাতের দুর্বলতা আমাদের অর্থনীতির গভীর সমস্যাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব খাতের দুর্বলতা আমাদের অর্থনীতির গভীর সমস্যাগুলোর একটি। বহু বছর ধরেই কর-জিডিপি অনুপাত নিম্নপর্যায়ে রয়ে গেছে; এখনও তা ৮ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে, যা সমপর্যায়ের অনেক দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

এর অর্থ হলো, সরকারের আয় বাড়ানোর সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যয়ের চাহিদা যত বেড়েছে, রাজস্ব আহরণ ততটা বাড়েনি; ফলে ঘাটতি অর্থায়নের ওপর চাপ বেড়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে মোট রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। উক্ত সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা।

এই অগ্রগতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম, যা সরকারের আর্থিক ভারসাম্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
তিনি বলেন, শুধু সম্পদ আহরণেই নয়, বাজেট বাস্তবায়নেও সক্ষমতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা থাকলেও আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নির্ধারণ করা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তারপরও বাস্তবায়ন সীমাবদ্ধতার কারণে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে বাজেটকে সংশোধন ও সমন্বয় করতে হয়েছে, যা প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিতে সহায়ক নয়।

চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে মোট ব্যয় হয়েছে সংশোধিত বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৬০ শতাংশ; এক্ষেত্রে উন্নয়ন ব্যয়ের বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ। এ অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কেবল উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; রাজস্ব আহরণ, ব্যয় পরিকল্পনা এবং বাজেট বাস্তবায়নের মধ্যে বাস্তবসম্মত ভারসাম্য নিশ্চিত করাও জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজস্ব খাতের দুর্বলতা আমাদের অর্থনীতির গভীর সমস্যাগুলোর একটি: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

রাজস্ব খাতের দুর্বলতা আমাদের অর্থনীতির গভীর সমস্যাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব খাতের দুর্বলতা আমাদের অর্থনীতির গভীর সমস্যাগুলোর একটি। বহু বছর ধরেই কর-জিডিপি অনুপাত নিম্নপর্যায়ে রয়ে গেছে; এখনও তা ৮ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে, যা সমপর্যায়ের অনেক দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

এর অর্থ হলো, সরকারের আয় বাড়ানোর সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যয়ের চাহিদা যত বেড়েছে, রাজস্ব আহরণ ততটা বাড়েনি; ফলে ঘাটতি অর্থায়নের ওপর চাপ বেড়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে মোট রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। উক্ত সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা।

এই অগ্রগতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম, যা সরকারের আর্থিক ভারসাম্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
তিনি বলেন, শুধু সম্পদ আহরণেই নয়, বাজেট বাস্তবায়নেও সক্ষমতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা থাকলেও আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নির্ধারণ করা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তারপরও বাস্তবায়ন সীমাবদ্ধতার কারণে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে বাজেটকে সংশোধন ও সমন্বয় করতে হয়েছে, যা প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিতে সহায়ক নয়।

চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে মোট ব্যয় হয়েছে সংশোধিত বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৬০ শতাংশ; এক্ষেত্রে উন্নয়ন ব্যয়ের বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ। এ অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কেবল উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; রাজস্ব আহরণ, ব্যয় পরিকল্পনা এবং বাজেট বাস্তবায়নের মধ্যে বাস্তবসম্মত ভারসাম্য নিশ্চিত করাও জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।