০৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

নেইমারের কান্নায় পুড়লেন আর্জেন্টিনা সমর্থক মাশরাফিও

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে গেছে শেষ ষোলোতেই। বিদায়ের বাঁশি বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার।

সেই দৃশ্য নাড়া দিয়েছে কোটি ফুটবলপ্রেমীকে। তাদেরই একজন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও ব্রাজিলের বিদায়ে উল্লাস করেননি। উল্টো নেইমারের জন্যই ঝরে পড়েছে আক্ষেপ। বিশ্বকাপজুড়ে সীমিত সময় মাঠে পাওয়া নেইমারকে ঘিরে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েও হতাশ মাশরাফি। তার বিশ্বাস, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার আরও বেশি সময় পেলে হয়তো ম্যাচের গল্পটাই ভিন্ন হতে পারত।

ফেসবুকে মাশরাফি লিখেছেন, ‘শুধু নেইমারের জন্য মনটা ভীষণ খারাপ হচ্ছে। হয়তো আর বিশ্বমঞ্চে দেখা হবে না তাকে। ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিককে এভাবে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখে খুবই বিরক্ত লেগেছে। একটু বেশি সময় পেলে হয়তো গল্পটা অন্যরকমও হতে পারতো। বিদায় বেলায় কান্না দেখে খুব খারাপ লাগছিল। কী অসাধারণ একজন ড্রিবলার! কী অ্যাকুরিসি ছিল তার পায়ে! তার চেয়ে সহজভাবে কেউ পেনাল্টি মারতে পারে বলে মনে হয় না। ক্যারিয়ারটা কী দারুণ হতে পারতো। অথচ সেটার কাছাকাছিও যেতে পারলো না।’

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে দুটি পেনাল্টি পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের হারেই শেষ হয় তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। তবে পেনাল্টি মিসকে খেলার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন মাশরাফি।

এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘দুই দুটি পেনাল্টি পেয়েও হেরে গেল ব্রাজিল। বিগত চারটা বছর এই পেনাল্টি পেনাল্টি করে চিল্লাপাল্লা করে আজ সেই পেনাল্টিই কাল হয়ে দাঁড়াল। পেনাল্টি খেলারই অংশ, আবার মিস করাও খেলার অংশ; এটা ভুলে গেলে হয় না। এমন না যে, পেনাল্টি পেলেই কেউ বিশ্বকাপ জিতে যাবে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স দুটি পেনাল্টি পেয়েছিল। তারপরও সহজ গোল মিস করে টাইব্রেকারে হেরেছে। যাক, কোনো ব্যাপার না। ব্রাজিল ভক্তদের জন্য রইলো সমবেদনা। হেক্সা হবেই, এবার হয়নি, তবে…..।’

শেষে চিরচেনা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ফুটবল দ্বৈরথের প্রসঙ্গ টেনে ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্দেশে মজার ছলে সান্ত্বনার বার্তাও দেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক, ‘আমরা যারা আর্জেন্টিনা ভক্ত, তাদের কাছ থেকে মানসিক শক্তি নিতে পারো। কারণ, এই কষ্ট আমাদের থেকে আর কেউ ভালো জানে না। ৩৬টা বছর যেন তেন বিষয় না। আমি তো বলি পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা সমর্থক একমাত্র আমরাই।’

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

নেইমারের কান্নায় পুড়লেন আর্জেন্টিনা সমর্থক মাশরাফিও

আপডেট সময় ০৫:২০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে গেছে শেষ ষোলোতেই। বিদায়ের বাঁশি বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার।

সেই দৃশ্য নাড়া দিয়েছে কোটি ফুটবলপ্রেমীকে। তাদেরই একজন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও ব্রাজিলের বিদায়ে উল্লাস করেননি। উল্টো নেইমারের জন্যই ঝরে পড়েছে আক্ষেপ। বিশ্বকাপজুড়ে সীমিত সময় মাঠে পাওয়া নেইমারকে ঘিরে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েও হতাশ মাশরাফি। তার বিশ্বাস, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার আরও বেশি সময় পেলে হয়তো ম্যাচের গল্পটাই ভিন্ন হতে পারত।

ফেসবুকে মাশরাফি লিখেছেন, ‘শুধু নেইমারের জন্য মনটা ভীষণ খারাপ হচ্ছে। হয়তো আর বিশ্বমঞ্চে দেখা হবে না তাকে। ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিককে এভাবে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখে খুবই বিরক্ত লেগেছে। একটু বেশি সময় পেলে হয়তো গল্পটা অন্যরকমও হতে পারতো। বিদায় বেলায় কান্না দেখে খুব খারাপ লাগছিল। কী অসাধারণ একজন ড্রিবলার! কী অ্যাকুরিসি ছিল তার পায়ে! তার চেয়ে সহজভাবে কেউ পেনাল্টি মারতে পারে বলে মনে হয় না। ক্যারিয়ারটা কী দারুণ হতে পারতো। অথচ সেটার কাছাকাছিও যেতে পারলো না।’

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে দুটি পেনাল্টি পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের হারেই শেষ হয় তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। তবে পেনাল্টি মিসকে খেলার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন মাশরাফি।

এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘দুই দুটি পেনাল্টি পেয়েও হেরে গেল ব্রাজিল। বিগত চারটা বছর এই পেনাল্টি পেনাল্টি করে চিল্লাপাল্লা করে আজ সেই পেনাল্টিই কাল হয়ে দাঁড়াল। পেনাল্টি খেলারই অংশ, আবার মিস করাও খেলার অংশ; এটা ভুলে গেলে হয় না। এমন না যে, পেনাল্টি পেলেই কেউ বিশ্বকাপ জিতে যাবে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স দুটি পেনাল্টি পেয়েছিল। তারপরও সহজ গোল মিস করে টাইব্রেকারে হেরেছে। যাক, কোনো ব্যাপার না। ব্রাজিল ভক্তদের জন্য রইলো সমবেদনা। হেক্সা হবেই, এবার হয়নি, তবে…..।’

শেষে চিরচেনা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ফুটবল দ্বৈরথের প্রসঙ্গ টেনে ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্দেশে মজার ছলে সান্ত্বনার বার্তাও দেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক, ‘আমরা যারা আর্জেন্টিনা ভক্ত, তাদের কাছ থেকে মানসিক শক্তি নিতে পারো। কারণ, এই কষ্ট আমাদের থেকে আর কেউ ভালো জানে না। ৩৬টা বছর যেন তেন বিষয় না। আমি তো বলি পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা সমর্থক একমাত্র আমরাই।’