০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

এসএসসি অকৃতকার্যদের ক্যারিয়ার গঠনে উদ্যোগ, ৩–৬ মাসে পরীক্ষা

মো: বোরহান উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৫:১২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, খারাপ ফলাফলের পেছনে মেধার ঘাটতির পাশাপাশি আর্থিক অসংগতি, ভালো শিক্ষকের অভাব, দুর্বল অবকাঠামো বা পারিবারিক নানা কারণ থাকতে পারে।

তাই ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর এই সমস্যার সমাধানে সরকার সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘চ্যালেঞ্জড্ শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়য় উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জন করতে না পারলে তার পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষার্থীকে যথাযথভাবে শেখানোর দায়িত্ব শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়ের থাকলেও শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিভাইস আসক্তি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্মসহ সমাজের বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রযুক্তির ব্যবহার যেন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, শেখার আগ্রহ ও স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে।

শিক্ষকেরা যদি যথাযথভাবে পাঠদান করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলে প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জনের সুযোগ বাড়বে। শুধু শিক্ষার্থীর ফলাফল নয়, শিক্ষাদানের কার্যকারিতা ও শেখার পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে জ্ঞান, দক্ষতা ও শিক্ষার চাহিদা পরিবর্তিত হয়। তাই শিক্ষাক্রমও নিয়মিত পর্যালোচনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করা প্রয়োজন। তবে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন হতে হবে গবেষণা, পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় সময় না দিয়ে হঠাৎ করে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত করার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সাফল্য অনেক জায়গা থেকে আসতে পারে আপনাদের সামনে অনেক পথ খোলা রয়েছে, যেটা প্রয়োজন সেটা হলো হার্ড ওয়ার্ক। শিক্ষকদের অ্যাসেসমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা প্রকৃত শিক্ষাদান করতে চান বলেই এই পেশায় আসেন, কিন্তু অনেক কারণেই তারা হয়ত যথাযথভাবে এই কাজটা করতে পারেন না, সে ক্ষেত্রে আসলে তাদের পেশার বিভিন্ন রকম অ্যাসেসমেন্ট দরকার।

সম্মানিত অতিথি বক্তা হিসেবে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ও ব্র্যাক আইইডি এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইরাম মরিয়ম, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. আরিফুর রহমান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, তরুণ লেখক ও মোটিভেশনার স্পিকার সাদাত হোসাইন, নিউজিল্যান্ড ডেইরির চিফ মার্কেটিং অফিসার আসিফ রউফ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডিরেক্টর নিশাত সুলতানা এবং অনুষ্ঠানের সূচনায় বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক তপন কুমার দাশ।

সম্মেলনে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী, উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন, শিক্ষা গবেষক এবং সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক প্রতিনিধির মধ্য থেকে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণ, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ এবং উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

উন্মুক্ত আলোচনায় চা বাগান, আদিবাসী, গৃহকর্মীর সন্তানসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লোকজন নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে তাদের সুপারিশ তুলে ধরেন। সুপারিশগুলো হলো—তিন মাসের মধ্যে এসএসসিতে অকৃতকার্যদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা, এসএসসিতে অন্তত যারা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদের কলেজে ভর্তির সুযোগ দেওয়া, সরকারের বিভিন্ন কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কার্যক্রমে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া, দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাখাতকে আরো শক্তিশালী করা, শিক্ষা কারিকুলামে এসএসসিতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য দশটি বিষয়ের যেকোনো একটি বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা, শিক্ষার্থীদের জন্য আফটার স্কুল প্রোগ্রাম চালু করা, শিক্ষক মূল্যায়ন সিস্টেম চালু করা, বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো ঠিক করা, স্কুলগুলোতে জবাবদিহিতা ও মনিটরিং বাড়ানো, ডিভাইস আসক্তি কমানো, সঠিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা, সকল ক্ষেত্রে কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানো।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

এসএসসি অকৃতকার্যদের ক্যারিয়ার গঠনে উদ্যোগ, ৩–৬ মাসে পরীক্ষা

আপডেট সময় ০৫:১২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, খারাপ ফলাফলের পেছনে মেধার ঘাটতির পাশাপাশি আর্থিক অসংগতি, ভালো শিক্ষকের অভাব, দুর্বল অবকাঠামো বা পারিবারিক নানা কারণ থাকতে পারে।

তাই ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর এই সমস্যার সমাধানে সরকার সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘চ্যালেঞ্জড্ শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়য় উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জন করতে না পারলে তার পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষার্থীকে যথাযথভাবে শেখানোর দায়িত্ব শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়ের থাকলেও শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিভাইস আসক্তি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্মসহ সমাজের বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রযুক্তির ব্যবহার যেন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, শেখার আগ্রহ ও স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে।

শিক্ষকেরা যদি যথাযথভাবে পাঠদান করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলে প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জনের সুযোগ বাড়বে। শুধু শিক্ষার্থীর ফলাফল নয়, শিক্ষাদানের কার্যকারিতা ও শেখার পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে জ্ঞান, দক্ষতা ও শিক্ষার চাহিদা পরিবর্তিত হয়। তাই শিক্ষাক্রমও নিয়মিত পর্যালোচনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করা প্রয়োজন। তবে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন হতে হবে গবেষণা, পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় সময় না দিয়ে হঠাৎ করে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত করার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সাফল্য অনেক জায়গা থেকে আসতে পারে আপনাদের সামনে অনেক পথ খোলা রয়েছে, যেটা প্রয়োজন সেটা হলো হার্ড ওয়ার্ক। শিক্ষকদের অ্যাসেসমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা প্রকৃত শিক্ষাদান করতে চান বলেই এই পেশায় আসেন, কিন্তু অনেক কারণেই তারা হয়ত যথাযথভাবে এই কাজটা করতে পারেন না, সে ক্ষেত্রে আসলে তাদের পেশার বিভিন্ন রকম অ্যাসেসমেন্ট দরকার।

সম্মানিত অতিথি বক্তা হিসেবে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ও ব্র্যাক আইইডি এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইরাম মরিয়ম, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. আরিফুর রহমান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, তরুণ লেখক ও মোটিভেশনার স্পিকার সাদাত হোসাইন, নিউজিল্যান্ড ডেইরির চিফ মার্কেটিং অফিসার আসিফ রউফ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডিরেক্টর নিশাত সুলতানা এবং অনুষ্ঠানের সূচনায় বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক তপন কুমার দাশ।

সম্মেলনে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী, উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন, শিক্ষা গবেষক এবং সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক প্রতিনিধির মধ্য থেকে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণ, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ এবং উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

উন্মুক্ত আলোচনায় চা বাগান, আদিবাসী, গৃহকর্মীর সন্তানসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লোকজন নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে তাদের সুপারিশ তুলে ধরেন। সুপারিশগুলো হলো—তিন মাসের মধ্যে এসএসসিতে অকৃতকার্যদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা, এসএসসিতে অন্তত যারা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদের কলেজে ভর্তির সুযোগ দেওয়া, সরকারের বিভিন্ন কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কার্যক্রমে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া, দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাখাতকে আরো শক্তিশালী করা, শিক্ষা কারিকুলামে এসএসসিতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য দশটি বিষয়ের যেকোনো একটি বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা, শিক্ষার্থীদের জন্য আফটার স্কুল প্রোগ্রাম চালু করা, শিক্ষক মূল্যায়ন সিস্টেম চালু করা, বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো ঠিক করা, স্কুলগুলোতে জবাবদিহিতা ও মনিটরিং বাড়ানো, ডিভাইস আসক্তি কমানো, সঠিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা, সকল ক্ষেত্রে কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানো।