সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্র ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর
- আপডেট সময় ০৫:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ২ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন দুর্গাপূজায় অরাজকতা সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। এ ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি পূজামণ্ডপ পাহারায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ জেহাদ পরিষদের উদ্যোগে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যে বিশ্বাসী।
হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ দেশে মিলেমিশে বসবাস করছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে সবাই একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।
এ ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করতে পরাজিত শক্তি ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাই দুর্গাপূজায় অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনো অপশক্তি যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য পূজামণ্ডপ পাহারায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দেশে বারবার গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শক্তি গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা করেছে। নব্বইয়ের আন্দোলনে পরাজিত শক্তি এবং ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তি বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে থেকে গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস অপরাধীরা কোথা থেকে পাচ্ছে, সেই প্রশ্ন রয়েছে। এ সময় জনগণের অর্থ লুটপাট ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কেউ বিদেশে পালিয়েছেন, আবার কেউ দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্মরণসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





















